বর্ণাঢ্য আয়োজনে আনন্দ, উচ্ছ্বাসে বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে ফরিদগঞ্জে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন হয়েছে। অনুষ্ঠানের নেতৃত্ব দেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বিশিষ্ট শিক্ষানুরাগী সিআইপি মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুরে ফরিদগঞ্জ সদরে উপজেলা ও পৌর বিএনপি এবং অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের উদ্যোগে কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপিত হয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে ছিলো- বর্ণাঢ্য র্যালী, বৃক্ষ রোপন, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল।
মঙ্গলবার দুপুরে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে বিশাল র্যালী শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে। র্যালীতে দলীয় নেতাকর্মীরা বাদ্যবাজনা, দলীয় ও জাতীয় পতাকা, দলীয় প্রতিক নিয়ে নেচে গেয়ে অংশগ্রহন করেন। অনেক বছর পর ফরিদগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সিনিয়র অধিকাংশ নেতাকে এক কাতারে দেখা যায়। যা দেখে সাধারণ কর্মীদের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। হতাশাগ্রস্ত কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ বিএনপিকে দেখে বেশ উজ্জিবিত। এর আগে আম্বিয়া-ইউনুছ ফাউন্ডেশন মাঠে জেলা ও উপজেলা বিএনপির নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী বৃক্ষ রোপন করেন। র্যালী শেষে বাসস্ট্যান্ডে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। কেন্দ্র ঘোষিত কর্মসূচি বাস্তবায়নের (ফরিদগঞ্জে) প্রধান সম্বনয়ক ও উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি শরীফ মোহাম্মদ ইউনুছের সভাপতিত্বে, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মজিবুর রহমান দুলাল এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটি সদস্য, উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট সমাজসেবক সিআইপি মোতাহার হোসেন পাটওয়ারী।
আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন- উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আজিজুর রহমান, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি সিরাজুল ইসলাম পাপক, হারুনুর রশিদ, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফর খসরু মোল্লা, নজরুল ইসলাম পাটওয়ারী, মো. জাকির পাটওয়ারী, আব্দুর রহমান, মো. মাসুদ, পৌর বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি হারুনুর রশিদ, আবুল কাশেম পাটওয়ারী, শাহাবুদ্দিন বাবুল, পৌর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন শিপন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গাীর আলম নান্টু, সাবেক সদস্য সচিব আব্দুল মতিন প্রমুখ।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বলেন- ‘দীর্ঘ ১৭ বছর দেশের সাধারণ মানুষ এক স্বৈরশাসকের দ্বারা অবরুদ্ধ ছিলো। কথা বলার স্বাধীনতা ছিলোনা। বিএনপির নেতা কর্মীরা বাড়িতে ঘুমাতে পারেনি। নিজেদের ভোটাদিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। দেড় দশকের বেশি সময় পর অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের জনগণ আবারও বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দিয়েছে। বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশের শৃঙ্খলা নষ্ট করে গেছে। সেই বিশৃঙ্খল পরিবেশকে শৃঙ্খলায় আনতে সময় লাগবে। বিএনপি অবশ্যই জনগণের ভালোবাসার প্রতিদান দিবে। মনে রাখবেন বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের রক্তে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের রক্ত প্রবাহিত। জিয়াউর রহমানের সন্তান জিয়াউর রহমানের মতই হবেন।’ তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন- ‘আমাদের পরম সৌভাগ্য আমরা জিয়াউর রহমানের মতো একজন দেশপ্রেমিক পেয়েছি। ১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ঘোষণাও দিয়েছেন আবার অস্ত্র হাতে বীরবিক্রমে যুদ্ধও করেছেন। মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য বীরত্ব প্রদর্শনের জন্য জিয়াউর রহমানকে রাষ্ট্র বীর উত্তম খেতাবে ভূষিত করেছে। অথচ বিগত জালিম সরকার এই মহান মানুষটিকে নিয়ে তুচ্ছ তাচ্ছিল্য করেছে। আজ তাঁরই প্রতিষ্ঠিত বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিক। বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আমি উপজেলার সমস্ত জনগণকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আমি যদি দলের নেতৃত্ব পাই দলের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে ঐক্যবদ্ধ করার চেষ্টা করবো। সকল নেতাকর্মীকে একত্রিত করাই হবে আমার মূল লক্ষ্য।’
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ঢাকার রমনা পার্কে সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে বিএনপির যাত্রা শুরু হয়। তিনি ছিলেন দলটির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠার পর চার দশকের বেশি সময়ে নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে দলটি এখন তাঁর ছেলে তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার পরিচালনা করছে।
পড়ুন:হরিরামপুরে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন
ইমি/


