ঢাকার সাভারে মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদ্রাসার সাত বছর বয়সী এক ছাত্রকে দীর্ঘদিন ধরে বলাৎকারের অভিযোগে করা মামলায় ১০ আসামির মধ্যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে কয়েকজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
আজ বেলা ১২টার দিকে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন ঢাকা জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান।
তিনি বলেন, মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদ্রাসায় শিক্ষক ও ছাত্র কর্তৃক পর্যায়ক্রমে সাত বছরের শিশুকে ধারাবাহিকভাবে দীর্ঘ সময় ধরে বলাৎকারের ঘটনায় পুলিশ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মামলার পাঁচজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে ।ঢাকা জেলা পুলিশের সাভার মডেল থানা পুলিশ, আশুলিয়া থানা পুলিশ এবং ডিবির একাধিক টিম দেশের বিভিন্ন স্থানে, যেমন বরগুনা, ভোলা, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে আইনের সঙ্গে সংঘাতে জড়িত শিশু রয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তাদের অনেকেই তাদের অপরাধ স্বীকার করেছে।
তিনি বলেন, “এই মামলাটি ঢাকা জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ডিল করছে এবং আমরা আশাবাদী। আমরা কনফিডেন্ট যে খুব শিগগিরই বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।”
পুলিশের পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার পাঁচজনের মধ্যে তিনজন কিশোর। তাদের বয়স যথাক্রমে ১৫, ১৩ ও ১২ বছর। তারা সবাই ওই মাদ্রাসার ছাত্র। গ্রেপ্তার হওয়া অপর দুজন মাদ্রাসার শিক্ষক জাবের হোসেন (২১) ও মো. কামরুল ইসলাম (২৬)।
গ্রেপ্তার তিন কিশোর ও শিক্ষক জাবের হোসেনের বিরুদ্ধে মামলায় সরাসরি বলাৎকারের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে, শিশুটিকে ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময়ে বলাৎকার করা হয়েছে—এমন অভিযোগে গত ২৬ আগস্ট আদালতের নির্দেশে সাভার মডেল থানায় মামলা করেন তার বাবা। সাভারের পূর্ব শাহবাগ এলাকায় অবস্থিত মারকাযুল উলূম আশ-শরইয়্যাহ মাদ্রাসার ছয় শিক্ষার্থী ও চার শিক্ষকের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়।
মামলায় পাঁচ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ আনা হয়েছে। অপর চারজনের বিরুদ্ধে ধর্ষণে সহযোগিতা, অভিযুক্তদের পালিয়ে যেতে সহায়তা এবং ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ করা হয়েছে।
পড়ুন: ১০ দিন পর নেপালে সুড়ঙ্গ থেকে চীনা নাগরিক জীবিত উদ্ধার
আর/


