সাইবার হামলা থেকে স্মার্টফোন নিরাপদ রাখতে ৫ নিয়ম

0
6
বিজ্ঞাপন

স্মার্টফোন এখন শুধু যোগাযোগের মাধ্যম নয়। ব্যাংকিং, ব্যক্তিগত ছবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ নানা তথ্য থাকে এই ছোট ডিভাইসেই। ফলে ফোনে ম্যালওয়্যার, ফিশিং বা অন্য কোনো সাইবার হামলা হলে ব্যক্তিগত তথ্য ও অ্যাকাউন্টের নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়তে পারে। কিছু সহজ অভ্যাস মেনে চললে এসব ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। জেনে নিন স্মার্টফোন সুরক্ষিত রাখার পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম।

নিয়মিত ফোন রিস্টার্ট ও সফটওয়্যার আপডেট করুন

দীর্ঘদিন ফোন রিস্টার্ট না করলে ডিভাইসে চলমান কিছু ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বন্ধ করার সুযোগ থাকে না। বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট ধরনের সাইবার হামলায় ফোন রিস্টার্ট করা সাময়িকভাবে ঝুঁকি কমাতে সহায়তা করতে পারে।

তবে শুধু সপ্তাহে একবার ফোন রিস্টার্ট করলেই হ্যাকিং ঠেকানো যায়, এমন নিশ্চয়তা নেই। ফোনের অপারেটিং সিস্টেম ও অ্যাপ নিয়মিত আপডেট করাও গুরুত্বপূর্ণ। এসব আপডেটের মাধ্যমে নিরাপত্তার দুর্বলতা ঠিক করা হয়।

প্রয়োজন না হলে ব্লুটুথ বন্ধ রাখুন

সব সময় ব্লুটুথ চালু রাখার প্রয়োজন নেই। বিশেষ করে অপরিচিত বা জনবহুল জায়গায় অপ্রয়োজনে ব্লুটুথ চালু না রাখাই ভালো।

ফোনের ব্লুটুথ সেটিংসে গিয়ে ডিভাইসটি যেন অপরিচিত ডিভাইসের সঙ্গে স্বয়ংক্রিয়ভাবে যুক্ত না হয়, তা নিশ্চিত করুন। প্রয়োজন ছাড়া অপরিচিত কোনো ডিভাইসের পেয়ারিং অনুরোধ গ্রহণ করবেন না।পাবলিক ইউএসবি চার্জিং পোর্ট ব্যবহারে সতর্ক থাকুন

বিমানবন্দর, হোটেল, ক্যাফে বা অন্য কোনো পাবলিক স্থানে থাকা ইউএসবি পোর্ট দিয়ে ফোন চার্জ করার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভালো। ক্ষতিকর ডিভাইস বা সরঞ্জামের মাধ্যমে ইউএসবি সংযোগ ব্যবহার করে তথ্য চুরি বা ম্যালওয়্যার ছড়ানোর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

তাই সম্ভব হলে নিজের চার্জার ও অ্যাডাপ্টার ব্যবহার করুন। বাইরে দীর্ঘ সময় থাকলে পাওয়ার ব্যাংকও সঙ্গে রাখতে পারেন। পাবলিক ইউএসবি পোর্ট ব্যবহার করতেই হলে ডাটা ব্লকার ব্যবহার করা একটি অতিরিক্ত সতর্কতা হতে পারে।

অপরিচিত পাবলিক ওয়াই-ফাইয়ে যুক্ত হবেন না

ফ্রি ওয়াই-ফাই সুবিধাজনক হলেও সব নেটওয়ার্ক নিরাপদ নয়। সাইবার অপরাধীরা কখনো কখনো পরিচিত প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে ভুয়া ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারে। সেখানে যুক্ত হলে ব্যক্তিগত তথ্য বা অনলাইন কার্যক্রম ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারে।

কোনো পাবলিক ওয়াই-ফাই ব্যবহারের আগে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান থেকে নেটওয়ার্কের সঠিক নাম ও পাসওয়ার্ড জেনে নিন। পাবলিক নেটওয়ার্কে সংবেদনশীল কাজ, যেমন অনলাইন ব্যাংকিং, করার ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্ক থাকুন। প্রয়োজন হলে বিশ্বস্ত ভিপিএন ব্যবহার করা যেতে পারে।

ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনের অ্যাপ পারমিশন পরীক্ষা করুন

কোন অ্যাপ আপনার ফোনের ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা অন্য ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহারের অনুমতি পেয়েছে, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা দরকার। যেসব অ্যাপের এসব সুবিধা প্রয়োজন নেই, তাদের পারমিশন বন্ধ করে দিন।

অপরিচিত বা সন্দেহজনক অ্যাপ ইনস্টল করা থেকে বিরত থাকুন। কোনো অ্যাপ অপ্রয়োজনীয়ভাবে ক্যামেরা বা মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি চাইলে সেটি দেওয়ার আগে ভেবে দেখুন।

স্মার্টফোন পুরোপুরি সাইবার হামলামুক্ত রাখার কোনো একক উপায় নেই। তবে নিয়মিত সফটওয়্যার আপডেট, শক্তিশালী পাসওয়ার্ড বা পাসকোড ব্যবহার, দুই স্তরের নিরাপত্তা চালু রাখা এবং অপরিচিত লিংক ও অ্যাপ এড়িয়ে চলার মতো অভ্যাস ফোনের নিরাপত্তা অনেকটাই বাড়াতে পারে। ডিজিটাল জীবনে একটু সতর্ক থাকলেই ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখার ঝুঁকি অনেক কমানো সম্ভব।

পড়ুন:ডিম-সবজির বাজারে নেই স্বস্তি, বেড়েছে তেলের দাম

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.