মৃত্যুর ৩০ বছর পরেও নায়ক সালমান শাহকে ঘিরে আগ্রহ ও কৌতুহল কেন?

0
4
আজ সালমান শাহকে হারানোর ২৮ বছর
ছবি; সংগৃহীত
বিজ্ঞাপন

“আমার জীবনের একটা বড় আফসোসের জায়গা হলো সালমান শাহকে নিজের চোখে দেখতে না পারা। উনি বেঁচে থাকলে অবশ্যই গিয়ে দেখা করতাম। এতটা ভালো লাগে সালমান শাহকে,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফাহমিদা জামান ইষ্টি।

ঢাকার মিরপুরের বাসিন্দা মিজ ইষ্টির যখন জন্ম হয়, তার প্রায় অর্ধ যুগ আগে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন নব্বই দশকে ঢাকাই চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় নায়ক সালমান শাহ। তাহলে তার প্রতি এই ভালো লাগা কীভাবো জন্ম নিলো বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া এই তরুণীর।

“আসলে আমার বাবা-মা দু’জনই সালমান শাহ’র ফ্যান (ভক্ত)। ফলে ছোটবেলায় তাদের কাছ থেকেই সালমান শাহ সম্পর্কে জানতে পারি। অল্প সময়ের ক্যারিয়ারে সিনেমা ইন্ডাস্ট্রিতে তার যে সাফল্য, তারপর হঠাৎ রহস্যজনক মৃত্যু- এগুলো আমাকে পরবর্তীতে আগ্রহী করে তোলে,” বলেন মিজ ইষ্টি।

তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নাফিছা নূজহাতের অবশ্য প্রয়াত নায়ক মি. শাহকে ভালো লাগে অন্য কারণে।

“উনাকে ভালো লাগে, কারণ উনি বাংলা সিনেমার অন্য নায়ক-নায়িকাদের মতো না। বেশ ব্যতিক্রম এবং উনার সবকিছুই খুবই আইকনিক,” বলছিলেন মিজ নূজহাত।

“অভিনয় বলেন বা ফ্যাশন সেন্স, সবক্ষেত্রেই উনি টু-স্টেপ এহেড (দু’কদম এগিয়ে) ছিলেন অন্যদের চেয়ে। বলা যায়, জেনারেশনের আইকন টাইপের (প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব)। যে কারণে উনার ফ্যাশন, সিনেমা, গান এখনও জনপ্রিয়,” যোগ করেন তিনি।

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ সিনেমায় অভিনয় করে ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশে রাতারাতি তারকা বনে যান সালমান শাহ। এর বছর চারেকের মাথায় চলচ্চিত্রটির শেষ দৃশ্যের মতো তার জীবনের রথও হঠাৎ থেমে যায়।

কিন্তু ক্যারিয়ারের ওই স্বল্প সময়ের মধ্যেই দর্শকদের মনে ক্ষণজন্মা এই নায়ক এমনভাবে জায়গা করে নেন যে, মৃত্যুর তিন দশক পরও অনেকে তাকে ভুলতে পারেননি।


সিলেটের হযরত শাহজালালের দরগাহ সংলগ্ন যে কবরস্থানে তাকে সমাধিস্থ করা হয়েছে, সেখানে এখনও অনেক ভক্তকে এসে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়।

তেমনই একজন ভক্ত বিবিসি বাংলাকে জানান যে, সালমান শাহ’র কবর দেখার জন্য তিনি প্রায় সাড়ে তিনশ’ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়েছেন।

“আমি জামালপুর থেকে আসছি। উনাকে অনেক ভালো লাগে। এজন্য মাজারে এসে তার কবর জিয়ারত করলাম,” বলেন ওই ভক্ত।

মৃত্যুর ত্রিশ বছর পরও সালমান শাহকে নিয়ে এখনও যে আলোচনা ও কৌতুহল বাংলাদেশের মানুষের দেখা যাচ্ছে, সেটি ‘খুবই বিরল’ বলে জানাচ্ছেন চলচ্চিত্র সমালোচকরা।

“সালমান শাহ’র যেমন একটা ক্রেডি ফ্যানডম তৈরি হয়েছে, এটা কিন্তু অন্য নায়কদের ক্ষেত্রে হয়নি। তার ফ্যাশন, অভ্যাস-বদভ্যাস-এগুলোকে দর্শকরা এখনো ধারণ করে তাকে অনুসরণ করছে, এটা আমাদের দেশের বাস্তবতায় খুবই বিরল,” বলছিলেন চলচ্চিত্র গবেষক, নির্মাতা ও অধ্যাপক ড. জাকির হোসেন রাজু।

দর্শক, পরিচালক এবং চলচ্চিত্র সমালোচকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যাচ্ছে, সালমান শাহ’র সাবলীল অভিনয়, চাল-চলন এবং পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে তরুণদের মধ্যে এখনও এক ধরনের আগ্রহ আছে। এর বাইরে, মৃত্যু রহস্য ঘিরেও তাকে নিয়ে অনেকের মধ্যে বাড়তি কৌতুহল তৈরি হয়েছে।

সিলেটের হযরত শাহজালালের দরগাহ সংলগ্ন কবরস্থান থেকে দুই কিলোমিটারের মতো দূরে দাড়িয়াপাড়া এলাকায় অবস্থিত সালমান শাহ ভবন, যেটি মূলত সালমানের নানাবাড়ি। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় ওই বাড়িতেই জন্ম হয়েছিল সালমান শাহ’র।

আদর করে বাবা-মা তার নাম রাখেন চৌধুরী মোহাম্মদ সালমান শাহরিয়ার, ডাকনাম রাখা হয় ইমন।

বাবা কমরউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন সরকারি কর্মকর্তা। ইমনের জন্মের কয়েক বছরের মধ্যেই তার পোস্টিং হয় কুমিল্লায়। পরে সেখানকার একটি স্কুলে শিক্ষাজীবন শুরু হয় ইমনের। কিন্তু স্কুলে ভর্তির সময় তার লম্বা নাম নিয়ে দেখা দেয় বিপত্তি।


শিক্ষকরা জানান, ভর্তি করতে হলে নাম ছোট করতে হবে।

“তখন স্কুলে সালমানটা বাদ দিয়ে চৌধুরী মোহাম্মদ সালমান শাহরিয়ার রাখা হয়,” বিবিসি বাংলাকে বলছিলেন সালমান শাহ’র মা নীলা চৌধুরী।

শিক্ষকদের পরামর্শে ইমনের পরিবার যখন তার নাম থেকে ‘সালমান’ শব্দটি বাদ দিচ্ছিল, তখন তারা ঘুনাক্ষরেও কল্পনা করতে পারেননি যে, বড় হওয়ার পর তাদের ছেলে ঢাকাই চলচ্চিত্রে নাম লেখাবেন এবং স্কুলে ফেলে দেওয়া নামেই সবার কাছে পরিচিত হয়ে উঠবেন।

‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ মুক্তির আগে সিনেমাটির পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান তার সালমান নামটা ফিরিয়ে আনার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখেন।

“সোহান তখন বলতেছিল, আন্টি ওর নামটা তো পাল্টাতে হবে। আমি সালমান খান রেখে দিই। আমি বললাম, সালমান তো তার নামের সঙ্গেই আছে…সেটা রাখা যাবে। কিন্তু সালমান খান তো একজন আছে। তুমি বরং সালমান চৌধুরী রাখো,” বলেন মিজ চৌধুরী।

কিন্তু পরিচালক মি. সোহান সেই প্রস্তারে রাজি না হওয়ায় একপর্যায়ে সালমানের সঙ্গে ‘শাহ’ যুক্ত করা হয়।

“ও যখন রাজি হলো না তখন আমি একটু সময় চেয়ে নিলাম। সেসময় অভিনেতা নাসিরুদ্দীন শাহ’র আমি খুব ভক্ত ছিলাম। আমার আমার ছেলের নামের সঙ্গেও শাহরিয়ার আছে। তখন আমি বললাম, শাহরিয়ারের ‘শাহ’ রাখো, ‘রিয়ার’ বাদ দিয়ে দাও। তাহলো হলো- সালমান শাহ,” বলেন নীলা চৌধুরী।

ছোটবেলা থেকে একটি সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বেড়ে ওঠেন সালমান শাহ। তার নানা কামরুজ্জামান বাংলাদেশের প্রথম সবাক চলচ্চিত্র ‘মুখ ও মুখোশে’ অভিনেতা করেছিলেন। অভিনয় জগতে পা রাখার ক্ষেত্রে তার ভূমিকার কথা বিভিন্ন সময় সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেছেন মি. শাহ।

তবে তার মা নীলা চৌধুরীও একসময় নিয়মিতভাবেই রেডিও এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানে গান গাইতেন। তার হাত ধরেই গত শতাব্দীর আশির দশকের শুরুর দিকে টিভি পর্দায় অভিষেক হয় সালমান শাহ’র।

শুরুটা হয়েছিল শিশু শিল্পী হিসেবে। আশির দশকের মাঝামাঝি সময়ে বিটিভি’র একটি ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানের গানে মডেল হন মি. শাহ। তার মা-ও সেখানে অভিনয় করেছিলেন।

পরবর্তীতে সালমান শাহ বিটিভি’র তালিকাভুক্ত শিল্পী হয়ে ওঠেন এবং একাধিক টিভি নাটকে অভিনয় করেন। সেসময় বেশকিছু বিজ্ঞাপনচিত্রেরও মডেল হয়েছিলেন সালমান।

সালমান শাহের ভাষ্যমতে, নাটক ও বিজ্ঞাপন তিনি অভিনয় শুরু করেন শখের বসে। কিন্তু এর মধ্যেই হঠাৎ একদিন সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পেয়ে যান। প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন তৎকালীন সময়ের খ্যাতনামা চলচ্চিত্রকার আলমগীর কবির।

আশির দশকের শেষদিকে তিনি ঔপন্যাসিক সেলিনা হোসেনের ‘হাঙর নদী গ্রেনেড’ উপন্যাস অবলম্বনে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ শুরু করেন। সেখানে রইস চরিত্রে অভিনয় করছিলেন সালমান শাহ। কিন্তু সিনেমাটির কাজ শেষ হওয়ার আগেই ১৯৮৯ সালে এক দুর্ঘটনায় মি. কবির মারা যান। ফলে চলচ্চিত্রটিও পরবর্তীতে আর আলোর মুখ দেখেনি।

এসব ঘটনা যখন ঘটছে, মুক্তির পর ততদিনে ব্যাপক দর্শকপ্রিয়তা পেয়ে গেছে বলিউডের সিনেমা ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তক’। সেই সাফল্য দেখে অনুমোদন নিয়ে ছবিটি রিমেক বা পুনঃনির্মাণ করার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান আনন্দমেলা সিনেমা লিমিটেড। বাংলা নাম দেওয়া হয় ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’।

সিনেমায় নায়কের ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য তখন নতুন মুখ খুঁজছিলেন পরিচালক সোহানুর রহমান সোহান। ১৯৯২ সালে একদিন অনেকটাই আকস্মিকভাবেই তার কাছ থেকে প্রস্তাব পান সালমান শাহ।

” একদিন দুপুরে উনি ফোন দিলেন। তারপর আমরা দু’জন বসলাম একসঙ্গে এবং কথা বললাম। এর মধ্যে উনি প্রপোজাল দিলেন যে, আমি বোম্বের ‘কেয়ামত সে কেয়ামত তকে’র বাংলা করছি। আপনি যদি এটা করেন, আমি খুব খুশি হবো,” ১৯৯৩ সালে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন সালমান শাহ।

সালমান শাহ রাজি থাকলেও প্রথমদিকে সম্মতি ছিল না তার বাবা-মায়ের। ছেলের আগ্রহ দেখে পরে তারাও রাজি হন।

১৯৯৩ সালের মার্চে মুক্তির পর ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’ ঢালিউড বক্স অফিসেও ব্যাপক সাফল্য অর্জন করে। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি রাতারাতি তারকা বনে যাওয়া সালমান শাহকে। চার বছরের ছোট্ট ক্যারিয়ারে তিনি একে একে অভিনয় করেন ২৭টি চলচ্চিত্রে, যেগুলোর বেশিরভাগই ছিল সুপার হিট।

একের পর এক ব্যবসা সফল সিনেমা দ্রুতই সালমান শাহকে জনপ্রিয়তার শীর্ষে পৌঁছে দেয়। এরপর ১৯৯৬ সালের এক সকালে আকস্মিকভাবেই নিভে যায় সালমান শাহ’র জীবন প্রদীপ।

তিনি তখন স্ত্রী সামিরা হককে নিয়ে ঢাকার নিউ ইস্কাটন এলাকার একটি ভবনের ১১ তলার ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। আর তার বাবা-মা এবং ভাই থাকতো সেখান থেকে দুই কিলোমিটারের মত দূরে ঢাকার গ্রিনরোড এলাকায়।

দিনটি ছিল ছয়ই সেপ্টেম্বর, শুক্রবার। ওইদিন সকালে বাবা কমর উদ্দিন চৌধুরী ছেলের সঙ্গে দেখা করতে তার ইস্কাটনের বাসায় যান। কিন্তু বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরও সালমানের দেখা না পেয়ে ঢাকার গ্রিনরোডের বাসায় ফিরে যান তিনি।

ঘড়ির কাটায় তখন সময় প্রায় সকাল ১১টা। সালমান শাহ’র মা নীলা চৌধুরী সবেমাত্র নাস্তা করতে বসেছেন। এমন সময় হঠাৎ-ই বেজে ওঠে টেলিফোন। বলা হয়, যত দ্রুত সম্ভব, সালমান শাহ’র ইস্কাটনের বাসায় চলে যেতে। টেলিফোন রেখেই স্বামীর সঙ্গে দ্রুত সেদিকে রওনা হন নীলা চৌধুরী।

“ইস্কাটন রোডে ওর বাসার সামনে গিয়ে দেখি নিচে প্রচুর লোকের ভিড়। সবাই খালি ওপরের দিকে তাকায় আছে,” বলেন মিজ চৌধুরী।

এরপর সেখান থেকে লিফটে করে সালমান শাহ’র এগারো তলার ফ্ল্যাটে যান বাবা-মা এবং ছোট ভাই। শোবার ঘরে ঢুকে তারা দেখেন, সালমান শাহ খাটের ওপর পড়ে আছেন এবং বাড়ির কয়েকজন কর্মচারী তার দুই হাতে তেল মালিশ করছেন।

“আমি তো ভাবছি, ফিট হয়ে গেছে। তখন সে হাফপ্যান্ট পরা ছিল। পায়ের দিকে গিয়ে দেখি, নখগুলো নীল হয়ে গেছে। শরীর কিন্তু ঠাণ্ডা না। এরপর হাতের নখ এবং ঠোট দেখি। সেটাও প্রায় অর্ধেক নীল। তখন আমি বলছি, আল্লাহ, আমার ফিট হয়ে আছে এতক্ষণ ধরে, মরে যাচ্ছে তো!,” বলেন সালমান শাহ’র মা।

সেদিন দুপুরের আগেই ইস্কাটনের ফ্ল্যাট থেকে সালমান শাহকে প্রথমে পাশ্ববর্তী হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে, তারপর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। কিন্তু চিকিৎসকরা জানান, হাসপাতালে আনার আগেই তার মৃত্যু হয়েছে।

“ঢাকা মেডিকেলে নেওয়ার পর ডাক্তার বলে যে, উনি তো অনেকক্ষণ আগে মারা গেছে। তখন আমি ইমনের বাবাকে বলছি যে, চলো, আমরা ওকে নিয়ে সিএমএইচে যায়। তখন ঢাকা মেডিকেলের ডাক্তাররা বললো যে, না, আপনি তো লাশ নিতে পারবেন না… ম্যাজিস্ট্রেটের পারমিশন ছাড়া,” বলেন নীলা চৌধুরী।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে সালমান শাহ’র মরদেহ নেওয়া হয় তার কর্মস্থল চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশন বা এফডিসিতে। ভক্ত ও সহকর্মীদের অনেকে শুরুতে মৃত্যুর খবরটি বিশ্বাস করতে পারেননি।

সালমান শাহ মারা যাওয়ার পরপরই ঢাকার রমনা থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করেছিলেন তার বাবা কমরউদ্দিন চৌধুরী। মৃত্যু ঘিরে সন্দেহ তৈরি হওয়ায় পরবর্তীতে মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তর করার আবেদন করেন তিনি।

সেই আবেদনের প্রেক্ষিতে সালমানের মৃত্যু রহস্য উদঘাটনের দায়িত্ব দেওয়া হয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ বা সিআইডিকে। দাফনের সপ্তাহখানেক পর কবর থেকে সালমানের মরদেহ তুলে দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।

সেখানে যে তিন সদস্যের মেডিকেল বোর্ড ময়নাতদন্ত করেছিল, সেটির প্রধান ছিলেন ওসমানী মেডিকেল কলেজের তৎকালীন ফরেনসিক বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডা. নারগিস বাহার চৌধুরী।

২০২১ সালে তিনি মারা যান। তবে মৃত্যুর বছর নয় আগে আগে বিবিসিকে জানিয়েছিলেন যে, দ্বিতীয় ময়নাতদন্তেও তারা আত্মহত্যার আলামত পান।

দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের মাস দশেকের মাথায় সালমান শাহ মৃত্যু রহস্য নতুন মোড় নেয়। ১৯৯৭ সালের ১৯শে জুলাই রেজভী আহম্মেদ নামে ব্যক্তিকে পুলিশে দেয় সালমানের পরিবার। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, থানায় জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে মি. আহম্মেদ স্বীকার করেন যে, তিনি সালমান শাহ হত্যার সঙ্গে জড়িত।

পরে আদালতে তিনি যে জবাববন্দী দেন, সেখানে সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, সাবেক শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী ও চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ বাহাই, অভিনেতা আশরাফুল হক ডন, বিউটিশিয়ান রাবেয়া সুলতানা রুবিসহ আরও বেশ কয়েক জনের নাম উঠে আসে।

যদিও পরবর্তীতে রেজভী আহম্মেদ নামের ওই ব্যক্তি সালমান হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেন।

এ ঘটনার কয়েক মাস পর দ্বিতীয় ময়নাতদন্তের রিপোর্টসহ মামলার সার্বিক তদন্তকাজ শেষে ১৯৯৭ সালের নভেম্বরে আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে সিআইডি। সেখানে মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘আত্মহত্যা’র কথাই উল্লেখ করেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

সালমান শাহ’র পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালে ঢাকার একটি আদালত সালমান শাহ’র মৃত্যুর ঘটনায় হত্যা মামলা গ্রহণ করে সেটি পুনরায় তদন্তের জন্য পুলিশের প্রতি নির্দেশ দেয়।

এরপর গত অক্টোবরে সালমান শাহ’র মামা আলমগীর কুমকুম বাদী হয়ে ঢাকার রমনা থানায় হত্যা মামলা করেন। সেখানে অভিযুক্ত হিসেবে সালমানের সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, সাবেক শাশুড়ি লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী ও চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ বাহাই, অভিনেতা আশরাফুল হক ডন, বিউটিশিয়ান রাবেয়া সুলতানা রুবি এবং রেজভী আহম্মেদ সহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

অভিযুক্তদের মধ্যে যারা দেশে রয়েছেন, তদন্তকাজ চলাকালে তারা যেন দেশ ছাড়তে না পারেন, সেজন্য তাদের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গত নয়ই অগাস্ট অভিনেতা আশরাফুল হক ডন বিদেশে যাওয়ার চেষ্টা করলে তাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলাটি এখন তদন্ত করছে সিআইডি।

সূত্র : বিবিসি বাংলা

পড়ুন : আজ নায়ক সালমান শাহর ২৯তম মৃত্যুবার্ষিকী

বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.