বিজ্ঞাপন

১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ চালুর নির্দেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের

বিজ্ঞাপন

সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ সুবিধা চালুর নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ সুবিধার আওতায় সুদভিত্তিক ঋণের পরিবর্তে নির্ধারিত ফি দিয়ে তাৎক্ষণিক ও সম্পূর্ণ ডিজিটাল প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন বিল ও সেবার মূল্য পরিশোধ করতে পারবেন গ্রাহকেরা। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১ থেকে জারি করা এক সার্কুলারে দেশের সব তফসিলি ব্যাংককে এ নির্দেশ দেয়া হয়।

সার্কুলার অনুযায়ী, ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’-এর আওতায় সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন সেবার বিল পরিশোধের জন্য ঋণ দেয়া যাবে। এর মধ্যে রয়েছে ইউটিলিটি বিল, মোবাইল রিচার্জ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ফি, টোল ও টিকিটের খরচ, করসহ বিভিন্ন সরকারি ফি, আমানতের কিস্তি, বীমার প্রিমিয়াম এবং বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত অন্যান্য খরচ।

বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত কাঠামো অনুযায়ী, ঋণের পরিমাণ ও মেয়াদ ভেদে সর্বোচ্চ ফি নির্ধারণ করা হয়েছে। ৫০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৪ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ৬ টাকা ফি নেওয়া যাবে।

অন্যদিকে, ৭ হাজার ১ টাকা থেকে ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণের ক্ষেত্রে ৭ দিনের জন্য সর্বোচ্চ ৩৫ টাকা, ১৫ দিনের জন্য ৭০ টাকা এবং ৩০ দিনের জন্য ১৩০ টাকা ফি নেওয়া যাবে।

সার্কুলারে বলা হয়েছে, ঋণের মূল অর্থ ও প্রযোজ্য ফি যথাক্রমে অষ্টম, ১৬তম অথবা ৩১তম দিনে সম্পূর্ণ পরিশোধ করতে হবে। ঋণের অর্থ নির্ধারিত সেবা প্রদানকারীর অনুকূলে অনুমোদিত ডিজিটাল চ্যানেলের মাধ্যমে সরাসরি পরিশোধ করতে হবে। এই অর্থ নগদে রূপান্তর, গ্রাহকের ওয়ালেটে যোগ বা অন্য কোনো হিসাবে স্থানান্তর করা যাবে না।

গ্রাহক নির্ধারিত সময়ের আগেও ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত ফি ছাড়া অতিরিক্ত কোনো ফি, সুদ, প্রি-পেমেন্ট, আর্লি সেটেলমেন্ট বা ফোরক্লোজার চার্জ আরোপ করা যাবে না। তবে নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে অতিরিক্ত সময়ের জন্য দৈনিক ভিত্তিতে জরিমানা বা ফি নেওয়া যাবে, যা নির্ধারিত সীমার মধ্যে থাকতে হবে।

ঋণ অনুমোদনের আগে গ্রাহককে ঋণের ধরন, পরিমাণ, ফি, মেয়াদ ও পরিশোধ পদ্ধতিসহ গুরুত্বপূর্ণ সব শর্ত জানাতে হবে। পাশাপাশি গ্রাহকের আর্থিক সচেতনতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে বলে সার্কুলারে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঋণ অনুমোদনের ক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে বিকল্প ডিজিটাল ক্রেডিট স্কোরিং মডেল ব্যবহার এবং ঝুঁকিভিত্তিক ঋণসীমা নির্ধারণ করতে হবে। গ্রাহকের নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ডিজিটাল অনবোর্ডিং সম্পন্ন করতে হবে। একই সঙ্গে ওটিপি, দুই স্তরের যাচাইকরণ (টুএফএ), মাল্টিফ্যাক্টর অথেন্টিকেশন (এমএফএ) অথবা অন্য কোনো নিরাপদ পদ্ধতিতে গ্রাহকের পরিচয় নিশ্চিত করতে হবে।

এ সুবিধা বাস্তবায়নে ব্যাংকগুলো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস) প্রদানকারী, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি), পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর (পিএসও) এবং অন্যান্য ফিনটেক প্রতিষ্ঠানের সেবা চ্যানেল ব্যবহার করতে পারবে।

গ্রাহক ও ঋণসংক্রান্ত তথ্য বাংলাদেশের ভৌগোলিক সীমারেখার মধ্যে অবস্থিত ডেটা ওয়্যারহাউসে সংরক্ষণ করতে হবে। একই সঙ্গে এসব তথ্যের গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

তবে বাণিজ্যিকভাবে চালুর আগে ব্যাংকগুলোকে ন্যূনতম ছয় মাস পাইলট ভিত্তিতে ‘ই-পেমেন্ট ক্রেডিট’ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে। পাইলট কার্যক্রমের ফলাফল মূল্যায়ন এবং ইতিবাচক প্রতিবেদন পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে বাণিজ্যিকভাবে এ সুবিধা চালু করা যাবে।

বাণিজ্যিকভাবে চালুর ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ-১-কে পাইলট কার্যক্রমের মূল্যায়ন এবং অনুমোদিত প্রোডাক্ট প্রোগ্রাম গাইডলাইন (পিপিজি) সম্পর্কে অবহিত করতে হবে।

পড়ুন : উদ্যোক্তা তৈরি করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি সরকারের মূল লক্ষ্য: অর্থমন্ত্রী

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন