রাজশাহীর পদ্মা নদীর পানি বিপদ সীমা ছুঁই ছুঁই। হঠাৎ উযানের পানিতে বন্যার আশঙ্কা করছে স্থানীয়রা। যেকোন সময় তলিয়ে যেতে পারে জেলার ৪ উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম। স্থানীয়দের দাবি দ্রুত নদী ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী বাধঁ নির্মাণ করতে হবে।
পদ্মা বাংলাদেশের অন্যতম বৃহত্তম নদী এবং এটি গঙ্গার প্রধান বিতরণকারী। গঙ্গা যখন রাজশাহীতে বাংলাদেশে প্রবেশ করে, তখন এই নদী নতুন নাম নেয় পদ্মা । পদ্মায় টিকশয় ও স্থায়ী বাঁধ না থাকায় নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের আতঙ্ক ক্রমশয় বাড়ছে। গত ১৯৬৬ সাল থেকে পদ্মার ভাঙ্গনে প্রায় ৬৬ হাজার হেক্টর জমি নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে। নতুন করে আবারো ভাঙ্গতে পারে কৃষি ও বসতভিটা। পদ্মার দৈঘ্য প্রায় ৩৪০ কিঃ মিঃ এবং বড়াল নদীর প্রায় ১১২ কিঃ মিঃ এলকা জুড়ে বিস্তৃত্র। রাজশাহী জেলায় পদ্মা ১২০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ৪ থেকে ৮ কিঃ মিঃ প্রস্থ।
রাজশাহী শহরটি নদীর তীরে অবস্থিত। উযানের পানিতে রাজশাহীর পদ্মা নদীর পানি ক্রমশয় বৃদ্দি হচ্ছে। বর্তমান বিপদ সীমায় অতিক্রম করার উপক্রম এই নদীর পানি। জেলার গোদাগাড়ী, পবা, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বসত বাড়ির সন্নিকটে পানির অবস্থান। আগামী দুই-তিনদিনের মধ্যে নদীর পানি বৃদ্দি হলে পানি বন্দি হতে পারে হাজার হাজার পরিবার। নদী গর্ভে বিলিন হতে পারে শত শত বাড়ি ও কৃষি জমি।
রাজশাহীর পবা উপজেলার একটি গ্রাম পদ্মা নদীর উপারে অবস্থিত। শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র বাহন নৌকা। পদ্মা নদী পাড়াপাড়ের সময় পানিতে পড়ে শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের প্রায় মৃত্যু হচ্ছে। আনান্দ হয়ে উঠছে বেদনায়। স্থানীয় ও দর্শনার্থী নিরাপত্তার কথা ভেবে লাইফ জ্যাকেট বিতরণ করেছে রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ।
জেলার গোদাগাড়ী, পবা, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার নদী তীরবর্তী এলাকার স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, গরীবের কথা কেউ ভাবে না। শুধু নির্বাচনের সময় ভোট ভিক্ষা করার জন্যই রাজনৈতিক ব্যাক্তিদের মূখোস ও শরীরের খোলস কিছু সময়ের জন্য বদলে যায়। নির্বাচন বিজয়ের পর পূর্বের খোলস আর থাকে না। বিগত সরকার নদী রক্ষা বাধঁ নির্মাণ শুরু করেছিলেন। কিন্ত ওই সরকারের পতনের কারনে সব কিছুই স্থবির হয়ে গেছে। এখন শুধু প্রত্যাশার ঝুলি নিয়ে দারে দারে। সর্বপরি স্থানীয়দের দাবি দ্রুত নদী রক্ষা বাধঁ নির্মাণ করলে তাদের শেষ রক্ষা হবে।
নদী ভাঙ্গনে চাষাবাদ জমির উর্বরতা নষ্ট হয় এবং আবাদি জমি কমে যায়। একজন কৃষক নতুন করে আবাদি জমি তৈরী করতে বেশ সময় লেগে যায়। পূর্বে জমির মতো সে আর ফলন পাইনা। ইতোমধ্যে রাজশাহীর রেকডি অনেক চাষাবাদ যোগ্য জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। দেশের উত্তরবঙ্গ তথা রাজশাহী জেলা বিভিন্ন ফসল উৎপাদনে বড় একটি ভূমিকা রাখে। কিন্ত নদী ভাঙ্গন রক্ষা বাধঁ না থাকার কারনে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে অনেক জমি নদীতে বিলিন হচ্ছে।
রাসিক এর সচিব সোহেল রানা বলেন, বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার পর্যটকরা রাজশাহী শহর ও পদ্মা নদীর আনান্দ নিতে ভিড় জমায়। ওই সময় অনেকে নৌক ভ্রমনে উৎসক হয়। অসবাদনতার কারনে পানিতে ডুবে অনেকের অকাল মৃত্যু হয়েছে। রাসিকের পক্ষ থেকে নৌকার মাঝি ও পর্যটকদের সচেতনতা এবং লাইফ জ্যাকেট ব্যবস্থা করা হয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পওব) আরিফুর রহমান অঙ্কুর জানান, এই মৌসুমে রাজশাহীতে বন্যার আশঙ্কা নেই। তবে নদীর পানি আরো কিছুদিন বৃদ্দি হতে পারে। জেলার গোদাগাড়ী, পবা, চারঘাট ও বাঘা উপজেলায় তড়িৎ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নদীর পানি কমে গেলে স্থায়ী বাধঁ নির্মাণে কাজ করা হবে। ইতোমধ্যে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নে এখন মাত্র সময়ের উপেক্ষা। বর্তমান পানির লেভেল ১৬.৪৬ এবং বিপদ সীমার লেভেল হলো ১৮.০৫ সি.মি.।
রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন (রাসিক) প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন বলেন, জেলার পবা উপজেলার একটি গ্রাম নদীর উপরে রয়েছে। যেখানে অনেক লোক বসবাস করছে। তাদের দৈনন্দিন প্রয়োজনে শহরে আসতে হলে নদী পথ ব্যবহার করতে হয়। বর্ষা মৌসুমে এই নদীর পানির বেশ জোয়াড় ও ডেউ থাকে। অনেক সময় স্থানীয়রা নদী পারাপারে শিশু, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ পানিতে ডুবে অকাল মৃত্যু হয়। তারা নৌকা দিয়ে নিরাপদে নদী পারাপারের সময় রাসিকের পক্ষ থেকে সেফটি জ্যাকেট বিতরণ করা হয়েছে।
পড়ুন : প্রথম দিনেই সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৫০ কোটি টাকা উত্তোলন
সা/


