বিজ্ঞাপন

যশোরে আধুনিক পদ্ধতিতে মৎস চাষ ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার প্রশিক্ষণ কর্মশালা অনুষ্ঠিত

বিজ্ঞাপন

আধুনিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ ও সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে উৎপাদনের লক্ষ্যে যশোরের মনিরামপুরে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘নারিশ এবং ইউএসজিবিসি মৎস্য চাষি প্রশিক্ষণ কর্মসূচি’।

মঙ্গলবার দিনব্যাপী উপজেলার চন্ডিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে নারিশ পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেডের উদ্যোগে এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে সার্বিক সহযোগিতা করে ইউ.এস. গ্রেইনস অ্যান্ড বায়োপ্রোডাক্টস কাউন্সিল (ইউএসজিবিসি)।

গুণগত খাদ্য, পরিমিত পরিমাণ, মাছের বৃদ্ধি, চাষির লাভ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত প্রশিক্ষণের মূল বিষয় ছিল ‘পুকুরে মাছ চাষ ও খাদ্য ব্যবস্থাপনার সর্বোত্তম অনুশীলন’। অনুষ্ঠানে চাষিদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়া ‘ফার্মার ফার্স্ট’ এবং পরিবেশ ও মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন নিশ্চিত করার ‘পিপল, প্লেস, প্ল্যানেট’ নীতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে মাছ চাষিদের পুকুর প্রস্তুত, গুণগত মানসম্পন্ন খাদ্য নির্বাচন, পরিমিত খাদ্য প্রয়োগ এবং মাছের সুস্থ ও দ্রুত বৃদ্ধি নিশ্চিত করার বিভিন্ন বাস্তবমুখী কৌশল সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হয়। পাশাপাশি সঠিক খাদ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে খামারের উৎপাদনশীলতা ও লাভজনকতা বাড়ানোর বিষয়ে প্রশিক্ষণার্থীদের পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রশিক্ষণে নারিশের এভিপি সামিউল আলিম, জিএম এস এম হক, সিনিয়র ডিজিএম মুসা কলিমুল্লাহ এবং জুনিয়র এজিএম মো. ওবায়দুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন। ইউ.এস. গ্রেইনসের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন মাহী সারওয়ার। অনুষ্ঠানে মৎসচাষীদের প্রশিক্ষক দেন অং তুন আয়ে।

প্রশিক্ষণে নারিশের প্রশিক্ষক অং তুন আয়ে বলেন, নারিশ সবসময় নতুন ও গবেষণালব্ধ প্রযুক্তি ব্যবহার করে উন্নতমানের মাছের খাদ্য উৎপাদনের চেষ্টা করছে। সাধারণ ফিডের পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটি প্রিমিয়াম ফিড ও ফ্লোটিং ফিড বাজারে এনেছে, যা বাংলাদেশের বাজার ও মাছের সার্বিক বৃদ্ধির বিষয়টি বিবেচনায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। সঠিক পদ্ধতিতে খাদ্য ব্যবহারের মাধ্যমে চাষিরা মাছের উৎপাদন বাড়াতে সক্ষম হবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, মাছ চাষে খাদ্যের পরিমাণ সঠিকভাবে নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় চাষিরা প্রয়োজনের তুলনায় বেশি বা কম খাদ্য প্রয়োগ করেন। এতে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি খরচও বেড়ে যায়। তাই পরিমিত খাদ্য প্রয়োগের মাধ্যমে অধিক উৎপাদন ও লাভ নিশ্চিত করাই এ প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য।

নারিশ পোল্ট্রি অ্যান্ড হ্যাচারি লিমিটেডের জিএম এস এম হক বলেন, একজন মাছ চাষির খামারে মোট ব্যয়ের প্রায় ৬০ থেকে ৭০ শতাংশই খাদ্যের পেছনে ব্যয় হয়। তাই খাদ্য সঠিক নিয়মে ও সঠিক পরিমাণে পুকুরে প্রয়োগ করা না হলে কাঙ্ক্ষিত উৎপাদন ও লাভ পাওয়া সম্ভব নয়। খাদ্যের সঠিক ব্যবহার সম্পর্কে চাষিদের সচেতন ও দক্ষ করে তুলতেই এ ধরনের প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হচ্ছে।

বক্তারা আরো বলেন, নিয়মিত এ ধরনের প্রশিক্ষণ আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় মৎস্য চাষিদের আধুনিক প্রযুক্তি ও বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি সম্পর্কে দক্ষতা বাড়বে। এর ফলে মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যের অপচয় কমানো এবং চাষিদের লাভজনকতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি দেশের মৎস্য খাতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন