বিজ্ঞাপন

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের ত্রুটিতে যুক্তরাজ্যে বাতিল এক হাজার ফ্লাইট

বিজ্ঞাপন

যুক্তরাজ্যে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল ব্যবস্থায় ত্রুটির কারণে মঙ্গলবার ব্যাপকভাবে ব্যাহত হয়েছে বিমান চলাচল। ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইট ফ্লাইটরাডার২৪-এর তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ১,০০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এতে হাজারো যাত্রী দীর্ঘ সময় উড়োজাহাজ ও বিমানবন্দরের টার্মিনালে আটকা পড়েন।

যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক সার্ভিসেস (NATS) জানিয়েছে, সন্ধ্যার দিকে তাদের ফ্লাইট প্রসেসিং সিস্টেমের ত্রুটি ঠিক করা হয়। তবে ততক্ষণে তৈরি হওয়া জট দ্রুত স্বাভাবিক হয়নি। অন্তত ১৫টি ব্রিটিশ বিমানবন্দরসহ ইউরোপের বিভিন্ন গন্তব্যে ফ্লাইট চলাচলে বড় ধরনের বিলম্ব দেখা দেয়।

লন্ডনের গ্যাটউইক বিমানবন্দরে রায়ানএয়ারের একটি ফ্লাইটে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর সেটি বাতিল করা হয়। যাত্রী জোসি ডনোহু বিমানবন্দরের পরিস্থিতিকে সান ফ্রান্সিসকোর সাবেক কারাগার আলকাট্রাজ থেকে বের হওয়ার চেষ্টার সঙ্গে তুলনা করে একে ‘ভয়াবহ দুঃস্বপ্ন’ বলে বর্ণনা করেন।

হিথ্রো বিমানবন্দরে বহির্গামী ফ্লাইট আবার চালু হলেও রাতের বাকি সময়ের জন্য আগমন ফ্লাইট স্থগিত রাখা হয়। কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের আরও বিলম্বের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেয়।

হিথ্রো থেকে বাল্টিমোরগামী ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে প্রায় চার ঘণ্টা অপেক্ষা করেন যাত্রীরা। পরে তাদের উড়োজাহাজ থেকে নামতে বলা হয়। দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যে যাত্রীদের পাস্তা ও চিকেন কারি পরিবেশন করা হয়। কেউ সিনেমা দেখে, আবার কেউ উড়োজাহাজের ভেতর হাঁটাহাঁটি করে সময় কাটান।

তবে উড়োজাহাজ থেকে নেমেও ভোগান্তি থেকে রেহাই পাননি যাত্রীরা। লাগেজ সংগ্রহের এলাকায় বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। অনেককে জানানো হয়, তাদের লাগেজের বিষয়ে তাৎক্ষণিক সহায়তা দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত কর্মী নেই এবং প্রয়োজনে ক্ষতিপূরণের দাবি করতে হবে।

ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ জানিয়েছে, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের সমস্যার কারণে তাদের ১০০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল বা অন্যত্র সরিয়ে নিতে হয়েছে। অন্যদিকে রায়ানএয়ার জানিয়েছে, ৬৫ হাজারের বেশি যাত্রী এই সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং ৫০টির বেশি ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে।

রায়ানএয়ারের ভাষ্য, সমস্যার ব্যাপকতার কারণে এর প্রভাবও ছিল বড়। বিভিন্ন বিমানবন্দরে উড়োজাহাজ ও ক্রু আটকে পড়ায় পরবর্তী ফ্লাইট পরিচালনাতেও জট তৈরি হয়।

স্ট্যানস্টেড ও লন্ডন সিটি বিমানবন্দরের পাশাপাশি ম্যানচেস্টার, বার্মিংহাম, গ্যাটউইক এবং স্কটল্যান্ডের কয়েকটি বিমানবন্দরেও এর প্রভাব পড়ে। এ অবস্থায় যাত্রীদের নিজ নিজ এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফ্লাইটের সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে বাজেট এয়ারলাইন ইজিজেট জানিয়েছে, সিস্টেমের ত্রুটির কারণে তাদের কয়েকটি ফ্লাইট পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি। এর প্রভাবে যুক্তরাজ্যের বাইরেও ইউরোপের বিভিন্ন রুটে বিমান চলাচলে বিলম্ব দেখা দেয়।

পড়ুন : সিঙ্গাপুরে সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামানের সম্পদ ক্রোক

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন