বিজ্ঞাপন

ঢাকাই সিনেমার অপূর্ব আশীর্বাদ, অতঃপর আক্ষেপ :পপি

বিজ্ঞাপন

নায়িকা—শব্দটি শুনলে দেশের মানুষের চোখে যে’কজন অভিনেত্রীর চেহারা শুরুতেই ভেসে ওঠে, তাদেরই একজন পপি। রূপ-লাবণ্য থেকে অভিনয়গুণ, পপির তুলনা তিনি নিজেই। সেই শক্তিতেই উঠেছিলেন জনপ্রিয়তার আকাশে। একটা সময় মাতিয়েছেন গোটা বাংলাকে। উড়িয়ে দিয়েছিলেন লাখো তরুণের ঘুম।

সেই সাড়া জাগানো অভিনেত্রী পপির জন্মদিন আজ। ১৯৭৯ সালের আজকের দিনে খুলনায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার পুরো নাম সাদিকা পারভীন পপি। ছয় ভাই-বোনের মধ্যে সবার বড় তিনি। পড়াশোনাও করেছেন খুলনাতেই।

পপি তখন নব শ্রেণিতে পড়েন। পত্রিকায় খবর এলো, ‘লাক্স আনন্দ বিচিত্রা ফটোসুন্দরী’ প্রতিযোগিতা হচ্ছে। খবরটি দেখে পপির কিছু ছবি নির্ধারিত ঠিকানায় পাঠান তার মা। অর্থাৎ মায়ের ইচ্ছেতেই শোবিজের পথে হাঁটা শুরু করেন পপি।

সেই সময়ের কিশোরী পপি সবাইকে টপকে হয়ে যান ‘লাক্স আনন্দ বিচিত্রা ফটোসুন্দরী’র চ্যাম্পিয়ন। শোবিজে তাকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এর মধ্যে পপিও সম্পন্ন করেন স্কুলজীবন। মায়ের সঙ্গে আসেন ঢাকায়, ভর্তি হন লালমাটিয়া মহিলা কলেজে। আর মায়ের সহযোগিতায় খুঁজছিলেন সিনেমায় অভিনয়ের সুযোগ। একদা পরিচয় ঘটে নির্মাতা সোহানুর রহমান সোহানের সঙ্গে। তার হাত ধরেই শুরু হয় পপির সিনেজীবন। প্রথমবার অভিনয় করেন ‘আমার ঘর আমার বেহেশত’ সিনেমায়। নায়ক শাকিল খান।

যদিও পপির মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম সিনেমা ‘কুলি’। ফটোসুন্দরী হওয়া এবং সোহানুর রহমান সোহানের সিনেমায় যুক্ত হওয়ার সুবাদে একই সময়ে আরো অনেক সিনেমার প্রস্তাব আসে পপির কাছে। ফলে অভিষেকের বছর, অর্থাৎ ১৯৯৭ সালে পপির মোট চারটি সিনেমা মুক্তি পায়। এর মধ্যে ‘কুলি’ দিয়ে তার প্রেক্ষাগৃহে অভিষেক হয়। মনতাজুর রহমান আকবরের এই সিনেমায় তার সঙ্গে আছেন ওমর সানী। সিনেমাটি হয় সুপারহিট। পপিকে আর পেছন ফিরেও তাকাতে হয়নি।

রাতারাতি পপি হয়ে ওঠেন তারকা। দর্শকের মধ্যে তাকে ঘিরে তৈরি হয় প্রবল আকর্ষণ, নির্মাতারাও তাকে ভাবতে থাকেন নতুন সম্ভাবনার আলো। একের পর এক সিনেমা করতে থাকেন পপি; সঙ্গে প্রথম সারির নায়কেরা। সিনেমাগুলোও হতে থাকে সফল। ঢালিউডের জন্য যেন নয়া আশীর্বাদ হয়ে আসেন পপি।

‘বিদ্রোহ চারিদিকে’, ‘কে আমার বাবা’, ‘লাল বাদশা’, ‘ক্ষ্যাপা বাসু’ সিনেমাগুলো পপিকে নিয়ে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে। শাবনূর-মৌসুমীর পাশাপাশি পপি হয়ে ওঠেন ঢালিউডের তুরুপের তাস।

রূপ-শরীরী আবেদনে পপি সে সময়ে আলাদা নজর কেড়েছিলেন। নায়ক রুবেলের সঙ্গে তার জুটিবদ্ধ সিনেমাগুলোও তুলেছিল আলোড়ন। এই জুটি একসঙ্গে প্রায় ২২টি সিনেমা করেছিলেন। অধিকাংশই হয়েছিল সফল।

কেবল মশলাদার সিনেমায় সফল হয়েছেন বলেই পপি ঢালিউডের আশীর্বাদ, তা কিন্তু নয়। তার মধ্যে ভিন্নতার ইচ্ছে ও চেষ্টাও ছিল। ক্যারিয়ারের স্বর্ণালী সময়েই তিনি করেছেন কালাম কায়সারের ‘কারাগার’। এতে টোকাই চরিত্রে অভিনয় করে জিতে নেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। এর বছর তিনেক পর বাদল খন্দকারের ‘বিদ্রোহী পদ্মা’য় অভিনয় করেও প্রশংসিত হন। ২০০৬ সালে তিনি পর্দায় আসেন সামিয়া জামানের ‘রানীকুঠির বাকী ইতিহাস’-এও। এসব সিনেমা তার অভিনয়গুণকে নতুনভাবে প্রমাণ করে।

২০০৮ সালে নারগিস আক্তারের ‘মেঘের কোলে রোদ’ দিয়ে ফের বাজিমাৎ করেন পপি। জিতে নেন শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর জাতীয় পুরস্কার। পরের বছর অহিদুজ্জামান ডায়মন্ডের ‘গঙ্গাযাত্রা’ও তাকে এনে দেয় জাতীয় পুরস্কার।

নির্দিষ্ট ছকে আবদ্ধ থাকেননি পপি। নির্মাতারা যে গল্প-চরিত্রে তাকে রূপ দিতে চেয়েছেন, তিনি তা-ই হয়েছেন। মুগ্ধও করেছেন সবাইকে। ঠিক এ জায়গা থেকেই বেজে ওঠে আক্ষেপের সুর। কেননা সেই পপিই কিনা বহু বছর ধরে সিনেমা থেকে দূরে। যেন হারিয়ে গেছেন কালের স্রোতে। অথচ সিনেমার এই নয়া হাওয়ার দিনে, ওটিটির যুগে তিনিও হতে পারতেন দর্শকের বিস্ময় ও মুগ্ধতার উদাহরণ।

ব্যক্তিগত কারণে অনেক দিন ধরেই আড়ালে পপি। আসেন না গণমাধ্যমের সামনে, দেখা যায় না সিনেমার কোনো আয়োজনেও। পারিবারিক নানা ঝামেলায় গত কয়েক বছরে বহুবার চর্চায় এসেছেন। সম্প্রতি তার একটি ‘ভুয়া মন্তব্য’ নিয়ে তোলপাড় হয়েছিল সোশ্যাল মিডিয়া। যদিও পপি পরে স্পষ্ট করেছেন, তিনি তেমনটা বলেননি। সিনেমা থেকে দূরে, পপি এখন স্বামী-সন্তান আর সংসার নিয়েই ব্যস্ত রয়েছেন।

পড়ুন:ফিলিস্তিনের পক্ষে কথা বলায় সিনেমার কাজ হারাচ্ছেন অভিনেত্রী সুসান 

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন