গুরুত্বপূর্ণ বন্দরনগর মোখা দখলে নেওয়ার পর ইয়েমেনের পুরো লোহিত সাগর উপকূলের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দাবি করেছে হুথিরা। এর ফলে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যপথ কৌশলগত বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে তাদের নিয়ন্ত্রণ আরও বিস্তৃত হয়েছে। এদিকে, হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানিয়েছেন, ছয়টি জেলা থেকে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে আল জাজিরা।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ইয়েমেনের হুথি নিয়ন্ত্রিত সশস্ত্র বাহিনী দেশটির পশ্চিম উপকূলে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে। তাদের দাবি, অভিযানে ছয়টি জেলার বিস্তীর্ণ এলাকা দখলে নেওয়া হয়েছে এবং প্রতিপক্ষের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
সামরিক মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইয়াহিয়া সারি এক্সে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানান, গত ৩ সেপ্টেম্বর অভিযানটি শুরু হয়। তাইজ ও হোদেইদা প্রদেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীকে সরিয়ে দেওয়া এবং তাদের ভাষায়, ইয়েমেনের বিরুদ্ধে বছরের পর বছর ধরে চলা অবরোধ ও আগ্রাসনের অবসান ঘটানোই ছিল এ অভিযানের লক্ষ্য।
বিবৃতিতে বলা হয়, অভিযানে ৫ হাজার ৪০০ বর্গকিলোমিটার এলাকাজুড়ে ছয়টি জেলা থেকে সৌদি-সমর্থিত বাহিনীকে হটিয়ে দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৩৮টি ব্রিগেড নিয়ে গঠিত সাতটি সামরিক ইউনিটে হামলা চালানো হয়েছে। এতে শত শত মানুষ নিহত, আটক বা আহত হয়েছে বলে দাবি করা হয়।
সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর হাতে আটক ইয়েমেনি বন্দীদের মুক্ত করার পাশাপাশি ৯টি বিমান ভূপাতিত করাসহ মোট ৩২টি বিমান প্রতিরক্ষা অভিযান পরিচালনার দাবিও করা হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সৌদি জাহাজ ছাড়া সব কোম্পানির জন্য সমুদ্রপথে চলাচল নিরাপদ রয়েছে। তবে সৌদি জাহাজ চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। একই সঙ্গে হুথিদের সশস্ত্র বাহিনী জানিয়েছে, তারা ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ এবং উত্তেজনার জবাবে উত্তেজনা’ নীতি অব্যাহত রাখবে, যতক্ষণ না আগ্রাসন বন্ধ এবং ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।
পড়ুন: গুরুত্বপূর্ণ দ্বীপে হুতি যোদ্ধারা, সৌদির তেল পাইপলাইন বন্ধ
আর/


