গণপরিবহনে বাসভাড়া পরিশোধ কিংবা বাজারে নিত্যপণ্য কেনাকাটা—প্রতিদিনের লেনদেনে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয় ছোট মূল্যমানের নোট। অথচ ১০ ও ২০ টাকার নোটের বড় একটি অংশ এখন ছেঁড়া, ফাটা ও জীর্ণ অবস্থায় ঘুরছে মানুষের হাতে হাতে। এসব নোট দেওয়া-নেওয়াকে কেন্দ্র করে বাস, বাজার ও দোকানপাটে প্রায়ই ক্রেতা-বিক্রেতা ও যাত্রীদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হচ্ছে। কোথাও কোথাও কথা কাটাকাটি গড়াচ্ছে হাতাহাতিতেও।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা ও গণপরিবহনে দেখা গেছে, ছেঁড়া নোট দেওয়া-নেওয়া নিয়ে বাসের কন্ট্রাক্টরের সাথে সাধারণ যাত্রীদের সাথে প্রতিনিয়ত বাগবিতণ্ডা হচ্ছে।অন্যদিকে কাঁচাবাজার ও মুদি দোকানেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। বিক্রেতাদের ভাষ্য, পাইকারি বাজার কিংবা ব্যাংকে জীর্ণ নোট সহজে চালানো যায় না। এ কারণে তাঁরা এসব নোট নিতে চান না। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, ১০ টাকা ও ২০ টাকার ছেড়া-পোড়া নোট বাধ্য হয়ে বহন করতে হচ্ছে।
জানা গেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের ‘ক্লিন নোট পলিসি’ এবং জীর্ণ নোট তুলে নেওয়ার নির্দেশনা থাকলেও বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাঠপর্যায়ের শাখাগুলোতে জটিলতা রয়েছে। ব্যাংকগুলোতে এসব নোট আটকে থাকলে তা কেন্দ্রীয় ব্যাংকে পৌঁছায় না। ফলে জীর্ণ নোট বাজারেই ঘুরতে থাকে।
বাজারে এত পুরোনো নোট কেন
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের আগপর্যন্ত ব্যাংক নোটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছবি ছিল। দলটি ক্ষমতা হারানোর পর পুরোনো নকশার নোট ছাপানো বন্ধ হয়ে যায়।
বাংলাদেশ ব্যাংকও জমা থাকা পুরোনো নকশার নোট বাজারে ছাড়া বন্ধ রাখে। নতুন নোট ছাপানোর জন্য নকশা তৈরি, তা অনুমোদন এবং ছাপার কাজ শুরু করতে লেগে যায় দীর্ঘ সময়। এ সময়েই সংকট তৈরি হয়, যা এখনো কাটেনি। এখন অবশ্য বাজারে নতুন নোট ছাড়া হচ্ছে। যদিও তা প্রয়োজনের তুলনায় কম পরিমাণে।
বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, এখন ২ ও ৫ টাকার কাগুজে নোট ছাপানো বন্ধ। এ মূল্যমানের ধাতব মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকের ভল্টে পড়ে আছে। গ্রাহকেরা ব্যাংক থেকে এসব মুদ্রা নিতে চান না। ব্যাংকগুলোও আগ্রহী নয়। সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ব্যাংক ২ ও ৫ টাকার কাগুজে নোট ছাপানো বন্ধ রেখে পয়সার ব্যবহার বাড়ানোর চেষ্টা করে যাচ্ছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, নতুন নকশার ১০ টাকার নোট ২০২৪–২৫ অর্থবছরে ছাপানো সম্ভব হয়নি। তবে ২০২৫–২৬ অর্থবছরে নোটটি ছাপানো হয়েছে এবং ধীরে ধীরে বাজারে ছাড়া হচ্ছে।
এদিকে, ২০ ও ৫০ টাকার নোট ছাপানোর প্রয়োজনীয় কাঁচামাল সময়মতো দেশে না আসায় নতুন নোট উৎপাদনেও জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে এসব মূল্যমানের নতুন নোট ছাপানোর কাজ এখনও শুরু করা সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে, বাজারে থাকা ১০ ও ২০ টাকার জীর্ণ নোট দ্রুত প্রত্যাহার করে নতুন নোট সরবরাহ করা না হলে, লেনদেনের সময় এসব নোট নিয়ে মানুষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা চলতেই থাকবে।
পড়ুন: আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ
আর/


