শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানার দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে শিরোপা জয়ের ভিত আগেই পেয়েছিল ভারত। বাকি কাজটা নিখুঁতভাবে সারলেন বোলাররা। ব্যাটিং-বোলিং দুই বিভাগের দাপটে ২০২৬ নারী এশিয়া কাপের শিরোপা ঘরে তুলল ভারত।
দুবাই আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ফাইনালে শ্রীলঙ্কাকে ৭২ রানের বড় ব্যবধানে হারিয়েছে ভারত। তাদের দেওয়া ১৮৪ রানের লক্ষ্যে ১১১ রানে অলআউট হয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।
এ জয়ের মধ্য দিয়ে টি-টোয়েন্টি সংস্করণের এশিয়া কাপে ভারতের ট্রফি সংখ্যা দাড়াল ৪-এ। এর আগে ওয়ানডে ফরম্যাটের চারটি আসরেই—২০০৪, ২০০৫/০৬, ২০০৬ ও ২০০৮ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ভারত।
এদিন টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ভারত। শুরু থেকেই আগ্রাসী ব্যাটিং করেন দুই ওপেনার শেফালি ভার্মা ও স্মৃতি মান্ধানা। পাওয়ার প্লে তে লঙ্কান বোলারদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে ৫৭ রান তুলে নেন এই দুই ব্যাটার। এই ম্যাচ দিয়ে টুর্নামেন্টে প্রথমবার পাওয়ার প্লেতে পঞ্চাশ রান পেরোয় ভারত।
এরপরও চলতে থাকে ভারতের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং। মাত্র ২৪ বলে ক্যারিয়ারের ২১তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন শেফালি। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের নারী এশিয়া কাপ ইতিহাসে এটি সবচেয়ে দ্রততম ফিফটি।
শেফালি ও স্মৃতির মারমুখী ব্যাটিংয়ে মাত্র ১০.৩ ওভারেই দলীয় একশো পেরিয়ে যায় ভারত। নারীদের টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০ বা তার বেশি রানের জুটি গড়ার সংখ্যায় যৌথভাবে শীর্ষে উঠেছেন এই দুজন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের এশা ওজা ও থির্থা সতীশের গড়া ছয়টি শতরানের জুটিকে স্পর্শ করেছেন তারা।
শেফালির পর ফিফটি তুলে নেন আরেক ওপেনার স্মৃতি মান্ধানা। ৩৫ বলে ক্যারিয়ারের ৩৬তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি তুলে নেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার। চামুদি প্রভোদার বলে শেফালি ফিরলে ভাঙ্গে ১২৯ রানের জুটি। আউট হওয়ার আগে পাঁচটি চার ও তিন ছক্কায় ৩৯ বলে ৫৯ রানের ইনিংস খেলেন তিনি।
শেফালি ও স্মৃতির ১২৯ রানের জুটি নারী টি-টোয়েন্টি এশিয়া কাপে যেকোনো উইকেটে সর্বোচ্চ। একই সঙ্গে, কমপক্ষে পাঁচ দল অংশ নেওয়া নারী টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালে এটি সর্বোচ্চ রানের জুটিও।
শেফালি ফেরার পরের ওভারেই ফিরে যান স্মৃতি। হারমানপ্রীত কৌরের সঙ্গে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট ফেরেন এই ওপেনার। চলতি টুর্নামেন্টে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মত রানআউটের শিকার স্মৃতি। ৪টি চার ও তিনটি ছক্কায় সাহায্যে ৩৯ বলে ৫৯ রান করেন তিনি।
দুই ওপেনার ফেরার পর ভারতের রান তোলার গতিতে কিছুটা লাগাম টানেন লঙ্কান বোলাররা। দলীয় ১৬০ রানের মাথায় ১৪ বলে ১৪ রান করে আউট হন হারমানপ্রীত। রিচি ঘোষের ব্যাট থেকে আসে ১৩ বলে ১৭ রান। রানআউট হয়ে ফেরার আগে দিপ্তি শার্মা করেন ৭ বলে ৫ রান।
শেষ দিকে গুণালন কমলিনীর পাঁচ বলে ১৫ রানের ঝোড়ো ক্যামিওতে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৮৩ রানের সংগ্রহ পায় ভারত। নারীদের টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্টের ফাইনালের ইতিহাসে এটি সর্বোচ্চ সংগ্রহ।
শ্রীলঙ্কার হয়ে চামারি আতাপাত্তু, মিথালি আয়োধ্যা ও নীলাক্ষিকা সিলভা একটি করে উইকেট নেন।
১৮৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে শ্রীলঙ্কা। দলীয় চার রানে প্রথম উইকেট হারায় তারা। দ্বিতীয় উইকেটে ৫৮ রানের জুটি গড়ে শুরুর ধাক্কা সামাল দেন বিশমি গুনারত্নে ও চামারি আতাপাত্তু।
৩৬ রান করে আতাপাত্তু ফেরার পরই কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় শ্রীলঙ্কা। পরের ওভারেই ২০ রান করা গুনারত্নেও আউট হন। এরপর একের পর এক উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে লঙ্কান ব্যাটিং লাইনআপ। শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত ২০ ওভারে ১১১ রানে অলআউট হয় লঙ্কানরা।
ভারতের হয়ে দুর্দান্ত বোলিং করেছেন শ্রী চরণী। চার ওভারে ২০ রান খরচায় ৪ উইকেট শিকার করেন তিনি। দীপ্তি শর্মা ৪ ওভারে ১৯ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট।
পড়ুন:জাতীয় দলে বিদেশি কোচ চান না সুজন
ইমি/


