নির্বাচন এলেই একসময় পাড়া-মহল্লা ও চা-স্টলগুলোতে আলোচনা চলত সৎ, যোগ্য ও ভালো পরিবারের মানুষকে নিয়ে। এলাকা ও সমাজের স্বার্থে অভিভাবকতুল্য ব্যক্তিরা ভোটে দাঁড়াতে না চাইলেও এলাকাবাসী একপ্রকার জোর করেই তাদের নেতৃত্বের আসনে বসাত। কিন্তু সেই ঐতিহ্য ও নেতৃত্বের সীমারেখায় এখন চরম ধস নেমেছে। নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বর্তমানে আসল ভোটারের চেয়ে যেন ‘ভুঁইফোড়’ প্রার্থীর সংখ্যাই বেশি মনে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচন ঘনিয়ে আসতেই এলাকায় শুরু হয়েছে অদ্ভুত এক ডিজিটাল দৌরাত্ম্য। যাদের এলাকার লোক কোনোদিন সুখে-দুঃখে পাশে দেখেনি, যাদের নাম কিংবা পরিচয় ওয়ার্ডের মানুষজন কখনো শোনেনি—তারাও রাতারাতি ফেসবুকে আত্মপ্রকাশ করছেন নেতা হিসেবে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই (AI) প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি করা হচ্ছে ঝকঝকে ডিজিটাল পোস্টার। এরপর সেগুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট করে লেখা হচ্ছে অমুক ওয়ার্ডের মেম্বার/চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী, আপনাদের দোয়া ও সমর্থন প্রার্থী।
এলাকার সচেতন মহলের মতে, পেশা ছোট বা বড় হতে পারে তা নিয়ে আপত্তি নেই, তবে জনপ্রতিনিধি হওয়ার জন্য যে সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা, ন্যূনতম সততা ও জনসেবার মানসিকতা থাকা দরকার, তার বাছবিচার এখন বিলুপ্তির পথে। চোর-বাটপার থেকে শুরু করে হুট করে ভেসে আসা অচেনা মানুষও এখন ফেসবুকের ফ্রেমে চেয়ারম্যান-মেম্বার প্রার্থী!
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এসব কাল্পনিক ও চটকদার প্রচারণায় তীব্র ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে পাঁচ ইউনিয়নের সাধারণ ভোটারদের মাঝে। সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন—ফেসবুকে রঙিন ছবি বানিয়ে পোস্ট করা আর মাঠে নেমে মানুষের পাশে থাকা কি এক কথা? প্রতিদিন ডজন ডজন নতুন প্রার্থীর ছবি দেখে মনে হচ্ছে যেন ভোটারের চেয়ে প্রার্থীর সংখ্যাই বেশি।
এই ভার্চুয়াল মেলায় আসল ও ভুয়া প্রার্থীর ভিড়ে শেষ পর্যন্ত যোগ্য ও জনবান্ধব নেতৃত্বকে সাধারণ ভোটাররা বেছে নিতে পারবেন কি না, তা নিয়েই এখন সৈয়দপুরজুড়ে চলছে জোর আলোচনা।
পড়ুন : ঢাকা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় দুপুরের মধ্যে বজ্রবৃষ্টির আভাস
সা/


