চট্টগ্রামের পটিয়ায় বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির ১৭ সেপ্টেম্বরের মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে ফার্মেসি ও ওষুধ কোম্পানিগুলোর কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে অভিযোগের প্রতিবাদ করায় সংগঠনের এক নেতাকে দায়িত্ব থেকে বহিষ্কারের অভিযোগও করা হয়েছে।
সোমবার সকালে পটিয়া থানার মোড়ের একটি রেস্টুরেন্টে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন বাংলাদেশ কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির হাইদগাঁও ইউনিটের সভাপতি আব্দুল আউয়াল।
সংবাদ সম্মেলনে আব্দুল আউয়াল অভিযোগ করেন, পটিয়া কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি জয়দেব বড়ুয়া ও সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দীর্ঘদিন ধরে সংগঠনটি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখে বিভিন্নভাবে অর্থ আদায় করছেন। আগামী ১৭ সেপ্টেম্বরের মতবিনিময় সভাকে কেন্দ্র করে স্কয়ার, ইনসেপ্টা, হেলথকেয়ার, অপসোনিন ও রেডিয়েন্ট ফার্মাসহ কয়েকটি ওষুধ কোম্পানির কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া পটিয়ার প্রায় ৪০০টি ফার্মেসি থেকে ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ করেন আব্দুল আউয়াল। তার দাবি, সান ফার্মা নামের একটি ওষুধ কোম্পানির ডেলিভারি করা ওষুধ আটকে রেখে চাঁদা আদায়ের চেষ্টা করা হয়েছে।
সংগঠনের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম নিয়েও অভিযোগ করেন তিনি। আব্দুল আউয়াল বলেন, ‘সিলেকশন কমিটি’র মাধ্যমে অগণতান্ত্রিকভাবে সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার প্রতিবাদ করায় তাকে অন্যায়ভাবে দায়িত্ব থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে ঔষধ প্রশাসনের অভিযান নিয়েও অভিযোগ তোলেন আব্দুল আউয়াল। তার দাবি, পটিয়া কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির নেতাদের সঙ্গে যোগসাজশে বিভিন্ন ফার্মেসিতে অভিযানের নামে হয়রানি ও অর্থ আদায়ের ঘটনা ঘটছে।
এর উদাহরণ হিসেবে গত ২২ এপ্রিলের একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন তিনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই দিন দুপুরে পটিয়া কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম ও অর্থ সম্পাদক শেখ আহম্মদের উপস্থিতিতে চট্টগ্রাম ঔষধ প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়ক মো. ফজলুল হক কেরিশহর গ্রামের ভট্টাচার্যহাট এলাকার মেসার্স এসিএম ফার্মেসিতে অভিযান চালান।
আব্দুল আউয়ালের অভিযোগ, অভিযানের সময় সমিতির লোকজন ফার্মেসির মালিককে এক পাশে জিম্মি করে রাখেন। পরে ফার্মেসিতে নিবন্ধনবিহীন পাঁচটি ওষুধ পাওয়ার অভিযোগে তাৎক্ষণিক ৪ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। ওই জরিমানার কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে জরিমানা আদায়ের পরও ওই ফার্মেসির মালিকের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম দায়রা জজ আদালতে ‘ঔষধ ও কসমেটিক আইন, ২০২৩’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করা হয়। মামলাটির নম্বর ১/২০২৬ বলেও উল্লেখ করেন আব্দুল আউয়াল।
তিনি বলেন, এভাবে পটিয়ার বিভিন্ন ফার্মেসির মালিককে হয়রানি করা হচ্ছে। এসব অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষ এবং চট্টগ্রামের সিভিল সার্জনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।
তবে সংবাদ সম্মেলনে অভিযুক্ত পটিয়া কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিস্ট সমিতির সভাপতি জয়দেব বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম এবং সংশ্লিষ্ট ঔষধ প্রশাসন কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
পড়ুন : হাতিয়ায় আবারও ঝাঁঝালো গন্ধে ২১ শিক্ষার্থী অসুস্থ


