চট্টগ্রামের পটিয়ায় চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের পুনর্বহালের বিষয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পটিয়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে সরকারি কর্মকর্তা ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
সভায় পটিয়া আবদুস সোবহান রাহাত আলী উচ্চবিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক এটিএম তোহা চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের বিষয়টি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, হাজার হাজার চাকরিচ্যুত ব্যাংকারকে দ্রুত পুনর্বহাল করা না হলে পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে।
জবাবে জেলা প্রশাসক মো. জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, এস আলম গ্রুপের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যুক্ত থেকে যারা চাকরি হারিয়েছেন, তাদের বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনা করা হয়েছে। সরকার মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে তাদের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করছে। আশা করা যাচ্ছে, সামনের দিনে এ বিষয়ে ইতিবাচক সমাধান আসবে।
চাকরিচ্যুত ব্যাংকারদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, নিজেদের দাবি-দাওয়ার বিষয়ে সবাইকে ধৈর্যের পরিচয় দিতে হবে। আন্দোলনের নামে রাস্তাঘাট অবরুদ্ধ করে সাধারণ মানুষের চলাচলে কোনো ধরনের বিঘ্ন ঘটানো যাবে না। সংশ্লিষ্ট মহলে তাদের বিষয়টি পৌঁছে দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে। কেউ যেন আইন নিজের হাতে তুলে না নেন এবং সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় বিঘ্ন না ঘটান।
সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক বলেন, শুধু সকাল ৯টায় অফিসে এসে বিকেল ৫টায় চলে যাওয়ার মধ্যেই দায়িত্ব সীমাবদ্ধ নয়। আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। মানবিক মূল্যবোধের দৃষ্টিকোণ থেকে সাধারণ মানুষকে সেবা দিতে হবে। নাগরিক সেবা দিতে গিয়ে কোনো ধরনের গাফিলতি সহ্য করা হবে না।
মতবিনিময় সভায় পটিয়া প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রবিউল হোসেন বলেন, গত তিন মাস ধরে পটিয়া প্রেস ক্লাবে তালা ঝুলছে। এতে ঐতিহ্যবাহী পটিয়ার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশিষ কুমার ধর পটিয়ার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে জনবল সংকটের কথা তুলে ধরে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
পটিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারহানুর রহমানের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা স্বপন চন্দ্র দে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সৌম্য চৌধুরী, প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশিষ কুমার ধর, সাংবাদিক আবদুল হাকিম রানা, পটিয়া প্রেস ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবেদ আমিরী, সাধারণ সম্পাদক রবিউল হোসেন ও সাংবাদিক ওবায়দুল হক পিপলুসহ অনেকে।
এ সময় পটিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা প্রকৌশলী তন্ময় নাথ, স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আবু তৈয়বসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে সকালে জেলা প্রশাসক পটিয়া উপজেলা ভূমি অফিস, পটিয়া পৌরসভা ও কুসুমপুরা ইউনিয়ন পরিষদ পরিদর্শন করেন।
পরে উপজেলা পরিষদ হলরুমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে নগদ অর্থ, ঢেউটিন, সেলাই মেশিন, হুইলচেয়ার ও সুবর্ণ নাগরিক কার্ড বিতরণ করা হয়।
প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন প্রকল্পের ৩০ জন প্রশিক্ষণার্থীকে প্রত্যেককে ১৮ হাজার টাকা করে অনুদানের চেক দেওয়া হয়। এছাড়া দুইজনকে সেলাই মেশিন, পাঁচজন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে হুইলচেয়ার এবং পাঁচজনকে সুবর্ণ নাগরিক কার্ড বিতরণ করা হয়।
পড়ুন : গণ্ডি পেরিয়ে সফল অভিযান: ট্রেন ছাড়ার আগেই বিদেশী মদ জব্দ


