বিজ্ঞাপন

পেকুয়া বাজারের যানজট নিরসন ও খেলার মাঠ দখল মুক্তের দাবি

বিজ্ঞাপন

কক্সবাজারের পেকুয়া পৌরসভার আলহাজ্ব কবির আহমদ চৌধুরী বাজার ও চৌমুহনী এলাকায় দীর্ঘদিনের যানজট, ফুটপাত দখল, যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলা এবং সড়কের পাশে ভাসমান দোকান বসানোর সমস্যা নিরসনের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে উপজেলা ভূমি অফিসসংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠের সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করে সেখানে নির্মিত মার্কেট ও অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদের দাবি উঠেছে।
এসব দাবি জানিয়ে পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুল ইসলামের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন পেকুয়া পৌরসভার বাসিন্দা ও উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কামরান জাদিদ মুকুট। আবেদন দেওয়ার সময় স্থানীয় প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

লিখিত আবেদনে বলা হয়, পেকুয়া বাজার ও চৌমুহনী এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও ফুটপাতের জায়গা দখল করে দীর্ঘদিন ধরে ভাসমান দোকান বসানো হচ্ছে। পাশাপাশি সড়কের ওপর ও আশপাশে যত্রতত্র যানবাহন রাখায় প্রতিদিনই যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এতে পথচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আবেদনে আলহাজ্ব কবির আহমদ চৌধুরী বাজারের প্রধান সড়কের দুই পাশ ও পেকুয়া চৌমুহনী এলাকার চৌরাস্তার পাশ থেকে ভাসমান দোকান ও হকার উচ্ছেদ এবং মোড় থেকে যানবাহন সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানানো হয়েছে।

এ ছাড়া বাজার ও আশপাশের আবাসিক ভবন থেকে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলার কারণে বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য জমে পরিবেশ দূষিত হচ্ছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ সমস্যা সমাধানে বাজার ও চৌমুহনী এলাকায় পর্যাপ্ত ডাস্টবিন স্থাপন এবং নিয়মিত বর্জ্য অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে।

সরকারি খেলার মাঠ দখলমুক্তের দাবি

আবেদনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি হচ্ছে পেকুয়া উপজেলা ভূমি অফিসসংলগ্ন ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠটি দখলমুক্ত করা। স্থানীয়দের খেলাধুলার জন্য দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত এই মাঠের সরকারি জায়গায় বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের কারণে মাঠটির আয়তন ও ব্যবহারযোগ্যতা কমে গেছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

আবেদনে বিএস ৪৮৬ নম্বর খতিয়ানের সরকারি খাস খতিয়ানভুক্ত ১ দশমিক ৪০০ একর জমি দখলমুক্ত করে মাঠের সীমানা নির্ধারণ, সংরক্ষণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করার দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে সরকারি জায়গায় নির্মিত মার্কেট ও অন্যান্য স্থাপনা উচ্ছেদ করে পুরো মাঠটি শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, মাঠটি দখলমুক্ত করা হলে একদিকে সরকারি সম্পত্তি রক্ষা পাবে, অন্যদিকে শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বাড়বে। পাশাপাশি পেকুয়া বাজারের গুরুত্বপূর্ণ এই উন্মুক্ত স্থানটি ভবিষ্যতে নতুন করে দখলের হাত থেকেও রক্ষা করা সম্ভব হবে।

পেকুয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আনিসুল ইসলাম বলেন, “পেকুয়া বাজারে ভূমি অফিসের পাশের একমাত্র খেলার মাঠ দখলমুক্ত করা, যানজট নিরসন এবং ময়লা-আবর্জনা ফেলার জন্য ডাস্টবিন স্থাপনের বিষয়ে একটি আবেদন পেয়েছি। উত্থাপিত সমস্যাগুলো নিরসনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আমরা কাজ করে যাব।”

কামরান জাদিদ মুকুট বলেন, “পেকুয়া বাজার ও চৌমুহনী এলাকার যানজট, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এবং খেলার মাঠ দখলের সমস্যাগুলো দীর্ঘদিনের। এসব কারণে সাধারণ মানুষ, শিক্ষার্থী ও পথচারীদের ভোগান্তি প্রতিনিয়ত বাড়ছে। জনস্বার্থে এসব সমস্যার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন। বিশেষ করে সরকারি জায়গায় নির্মিত মার্কেট ও স্থাপনা উচ্ছেদ করে ঐতিহ্যবাহী খেলার মাঠটি শিশু-কিশোরদের জন্য উন্মুক্ত করে দিতে হবে।”

পড়ুন : গণ্ডি পেরিয়ে সফল অভিযান: ট্রেন ছাড়ার আগেই বিদেশী মদ জব্দ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন