মাদারীপুরের কালকিনিতে মাদকবিরোধী অভিযানে সুমন মৃধা নামে এক ব্যক্তিকে আটকের পর নিয়ে যাওয়ার সময় জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের ওপর হামলা ও বোমা বিস্ফোরণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, হামলার একপর্যায়ে আটক ব্যক্তিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া হয়। তবে ডিবি পুলিশ কোনো সদস্য আহত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেছে। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় তাদের এক সোর্সকে মারধর করা হয় এবং পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তাদের লক্ষ্য করে বোমা বিস্ফোরণ ঘটানো হয়।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কালকিনি উপজেলার পশ্চিম এনায়েতনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাঘাকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাঘাকান্দি এলাকায় সুমন মৃধার বিরুদ্ধে মাদক কারবারসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকেলে জেলা ডিবি পুলিশের একটি দল ওই এলাকায় অভিযান চালায়। পুলিশের একটি সূত্রের দাবি, এ সময় মাদকসহ সুমন মৃধাকে আটক করা হয়।পরে তাকে নিয়ে ফেরার পথে পশ্চিম এনায়েতনগর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে বাঘাকান্দি এলাকায় হামলার ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ ওঠে। স্থানীয়দের ভাষ্য, সুমনের ছোট ভাই কাইয়ুম মৃধা তাদের সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে সেখানে উপস্থিত হয়ে ডিবি পুলিশের ওপর হামলা চালান। এ সময় শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে। একপর্যায়ে আটক সুমন মৃধাকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও স্থানীয়দের দাবি।
ঘটনার পর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সুমন মৃধা ও তার সন্ত্রাসী সহযোগীদের বিরুদ্ধে মাদক কারবারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। তাদের দাবি, মাদক কারবারের বিষয়ে কেউ প্রতিবাদ করলে ভয়ভীতি ও মারধরের শিকার হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে অভিযোগ করতে চান না।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ, মঙ্গলবার সুমন মৃধাকে ডিবি পুলিশ আটক করে নিয়ে যাওয়ার সময় কাইয়ুম মৃধা লোকজন নিয়ে পুলিশের গতিরোধ করেন। পরে সেখানে হামলা ও শতাধিক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
অভিযুক্ত কাইয়ুম মৃধার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে তার এক অনুসারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ডিবি পুলিশ আমাদের ওপর হামলা করেছে। আমরা তাদের কাউকে মারধর করিনি।
এ বিষয়ে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জহিরুল আলম বলেন, “ডিবি পুলিশ অভিযানে যাওয়ার আগে বিষয়টি থানাকে জানিয়েছিল। তবে সেখানে গিয়ে ডিবি পুলিশ সুমন মৃধাকে পায়নি এবং পরে ফিরে এসেছে এটুকুই আমি জানি।”
অন্যদিকে, ডিবি পুলিশের কোনো সদস্য আহত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে মাদারীপুর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবু নাঈম বলেন, “সুমনকে ধরতে গেলে আমাদের এক সোর্সকে মারধর করা হয়েছে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে তারা বোমা বিস্ফোরণ ঘটায়। এরপর নিরাপত্তার কারণে আমরা সেখান থেকে চলে আসি।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আফসানা ‘আফরোজ’ নামের একটি অ্যাকাউন্ট থেকে দেওয়া পোস্টেও কাইয়ুম মৃধা, সুমন মৃধা ও সোহেল মৃধার বিরুদ্ধে মাদক কারবারের নানা অভিযোগ করা হয়েছে। ওই পোস্টে অভিযানের সময় ডিবি পুলিশের ওপর হামলা ও বোমা বিস্ফোরণের পাশাপাশি কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে বাঘাকান্দি ও আশপাশের এলাকায় উত্তেজনা ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়দের দাবি, এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ বাড়বে।
পড়ুন : ইসরায়েলের সামরিক শক্তি বাড়াতে ৪০ হাজার বোমা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র
সা/


