বিজ্ঞাপন

হরমুজ প্রণালীর আকাশে মার্কিন ৩ ড্রোন ভূপাতিতের দাবি ইরানের

বিজ্ঞাপন

হরমুজ প্রণালীর আকাশসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) আইআরজিসির পক্ষ থেকে এ দাবি করা হয়। ইরানি কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, দেশটির অ্যারোস্পেস ফোর্স হরমুজ প্রণালীর আকাশে মার্কিন ড্রোনগুলো শনাক্ত করে অনুসরণ করার পর উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে সেগুলো ভূপাতিত করে।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেস টিভির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে। আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ জানিয়েছে, ড্রোনগুলো ইরানের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্কের আওতায় শনাক্ত করা হয়। এরপর উন্নত সারফেস-টু-এয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের মাধ্যমে সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়।

আইআরজিসির দাবি অনুযায়ী, মার্কিন ড্রোনগুলো কোনো ধরনের হামলা চালানোর আগেই প্রতিরোধ করা হয়েছে। ইরানি বাহিনী জানিয়েছে, তাদের নতুন একটি উন্নত বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ব্যবহার করে ড্রোনগুলো ধ্বংস করা হয়। তবে ড্রোনগুলো ঠিক কোথায় এবং কীভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি তেহরান।

আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর আকাশসীমায় বিদেশি সামরিক তৎপরতার ওপর তাদের নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। ওই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের অনুপ্রবেশ বা সন্দেহজনক বিমান চলাচল শনাক্ত হলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা তাদের রয়েছে বলেও ইরানি কর্তৃপক্ষের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এর কয়েক ঘণ্টা আগেও হরমুজ প্রণালীর আকাশে আরেকটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছিল আইআরজিসি। অর্থাৎ একই দিনে একাধিক মার্কিন ড্রোন ধ্বংসের দাবি সামনে আসে। এর আগে গত সপ্তাহেও ইরানের সেনাবাহিনী হরমুজ প্রণালীর কাছে একটি মার্কিন এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করেছিল।

ইরানের ধারাবাহিক এসব দাবির ফলে হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হিসেবে পরিচিত এই প্রণালী দিয়ে বিপুল পরিমাণ অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে পরিবহন করা হয়। ফলে অঞ্চলটিতে সামরিক উত্তেজনা বাড়লে এর প্রভাব শুধু মধ্যপ্রাচ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাজারেও পড়তে পারে।

ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নজরদারি ও ড্রোন কার্যক্রম হরমুজ প্রণালীকে আরও স্পর্শকাতর এলাকায় পরিণত করেছে। তেহরান জানিয়েছে, জলপথটির নিরাপত্তা এবং আকাশসীমার ওপর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। একই সঙ্গে বিদেশি সামরিক উপস্থিতি ও তৎপরতার ওপরও কঠোর নজর রাখা হচ্ছে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের এমকিউ-১ ড্রোন নিয়ে ইরানের সাম্প্রতিক দাবিগুলো বিশেষভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে নজরদারি, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও সামরিক অভিযানে বিভিন্ন ধরনের চালকবিহীন বিমান ব্যবহার করে আসছে। এমকিউ-১ প্রিডেটর সেই বহরের পুরোনো হলেও গুরুত্বপূর্ণ একটি মডেল।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্কিন এমকিউ-৯ রিপার ড্রোনের ক্ষয়ক্ষতির পর যুক্তরাষ্ট্র অপেক্ষাকৃত পুরোনো এমকিউ-১ মডেলের ড্রোনের ব্যবহার বাড়িয়েছে বলে ইরানি সূত্রগুলো দাবি করছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য সীমিত। একইভাবে সর্বশেষ তিনটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার দাবির বিষয়েও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো স্বতন্ত্র নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

এ ধরনের সামরিক ঘটনায় দুই পক্ষের বক্তব্যে প্রায়ই পার্থক্য দেখা যায়। কোনো ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার দাবি সত্য কি না, সেটি নিশ্চিত করতে সাধারণত সামরিক বিবৃতি, স্যাটেলাইট ছবি, ধ্বংসাবশেষের তথ্য এবং স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের প্রতিবেদন প্রয়োজন হয়। সর্বশেষ ঘটনাগুলোর ক্ষেত্রে এমন স্বাধীন প্রমাণ প্রকাশ্যে আসেনি।

বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিতে, হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলে ড্রোন ব্যবহারের ঘটনা সামরিক নজরদারির পাশাপাশি কৌশলগত বার্তার সঙ্গেও যুক্ত। ইরান তাদের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কতটা কার্যকর এবং বিদেশি সামরিক তৎপরতার ওপর তারা কতটা নজর রাখছে—সেটি তুলে ধরতে চাইছে বলে ইরানি বক্তব্য থেকে বোঝা যায়। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই অঞ্চলে নজরদারি কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হয়।

হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা বাড়তে থাকায় আকাশ ও সমুদ্রপথে ভুল বোঝাবুঝি বা সরাসরি সংঘাতের ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চালকবিহীন সামরিক বিমানগুলো কোনো অঞ্চলে প্রবেশ করলে তা কীভাবে শনাক্ত ও প্রতিহত করা হবে, সেটি দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে বড় ধরনের উত্তেজনার কারণ হতে পারে।

সর্বশেষ পরিস্থিতিতে ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এমকিউ-১ ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি করা হলেও ঘটনাগুলোর পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো স্পষ্ট নয়। যুক্তরাষ্ট্রের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এবং স্বাধীন সূত্রের যাচাইয়ের পরই এসব দাবির বিষয়ে আরও নির্ভরযোগ্য ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে।

তবে ইরানের এই দাবি থেকে অন্তত এটুকু স্পষ্ট যে, হরমুজ প্রণালীকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে এবং আকাশসীমায় ড্রোন কার্যক্রম সেই উত্তেজনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হয়ে উঠেছে। পরিস্থিতি আরও ঘনীভূত হলে এর প্রভাব আঞ্চলিক নিরাপত্তার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারেও পড়তে পারে।

পড়ুন:ইসরায়েলের সামরিক শক্তি বাড়াতে ৪০ হাজার বোমা দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন