বিজ্ঞাপন

রাতের আকাশে গ্রহের মেলা, সঙ্গে হারভেস্ট মুন

বিজ্ঞাপন

সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে বাংলাদেশের রাতের আকাশে মহাকাশপ্রেমীদের জন্য অপেক্ষা করছে বেশ কিছু আকর্ষণীয় মহাজাগতিক দৃশ্য। ১৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শনি গ্রহ, শুক্র ও বৃহস্পতির পাশাপাশি শরৎকালীন নক্ষত্রমণ্ডল এবং অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণের সুযোগ তৈরি হবে। মাসের শেষদিকে পূর্ণিমার চাঁদও রাতের আকাশে বাড়তি সৌন্দর্য যোগ করবে।

বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের শেষভাগ শনিগ্রহ পর্যবেক্ষণের জন্য বছরের অন্যতম আকর্ষণীয় সময় হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ২০২৬ সালের অক্টোবরের শুরুতে শনি গ্রহ বিরোধ অবস্থানে পৌঁছাবে। এর ফলে সেপ্টেম্বরের শেষদিকে সূর্যাস্তের পর থেকেই গ্রহটি পর্যবেক্ষণের জন্য ক্রমশ অনুকূল অবস্থানে থাকবে। রাত যত বাড়বে, আকাশে শনিকে তত উঁচুতে দেখা যাবে।

খালি চোখে শনি একটি উজ্জ্বল তারার মতো বিন্দু হিসেবে দেখা যাবে। তবে সাধারণ বাইনোকুলার কিংবা ছোট টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে শনির বলয় দেখার সুযোগ পাওয়া যেতে পারে। একই সঙ্গে এর সবচেয়ে বড় উপগ্রহ টাইটানসহ কয়েকটি উপগ্রহও টেলিস্কোপের মাধ্যমে শনাক্ত করার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে জ্যোতির্বিজ্ঞানপ্রেমীদের জন্য সেপ্টেম্বরের শেষভাগ হতে পারে শনি পর্যবেক্ষণের ভালো একটি সময়।

পূর্ণিমার চাঁদ ও হারভেস্ট মুন

এই সময়ের অন্যতম আকর্ষণ হবে সেপ্টেম্বরের পূর্ণিমা। ঢাকার সময় অনুযায়ী ২৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টা ৪৯ মিনিটে পূর্ণিমা হবে। শরৎ বিষুবের কাছাকাছি সময়ের পূর্ণিমাকে প্রচলিতভাবে ‘হারভেস্ট মুন’ বলা হয়।

দিগন্তের কাছাকাছি চাঁদ ওঠার সময় বায়ুমণ্ডলীয় প্রভাবের কারণে অনেক সময় চাঁদকে হালকা কমলা, হলুদ বা সোনালি আভায় দেখা যায়। বিশেষ করে শহরের কৃত্রিম আলোর বাইরে খোলা আকাশের নিচে এই পূর্ণিমা পর্যবেক্ষণ করলে দৃশ্যটি আরও আকর্ষণীয় হয়ে উঠতে পারে।

তবে ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ আংশিক চন্দ্রগ্রহণ হবে—এমন তথ্য সঠিক নয়। ২০২৬ সালের আংশিক চন্দ্রগ্রহণ হয়েছিল ২৭-২৮ আগস্ট এবং সেটি বাংলাদেশ থেকে দৃশ্যমান ছিল না। ফলে সেপ্টেম্বরের পূর্ণিমাকে চন্দ্রগ্রহণের সঙ্গে মিলিয়ে দেখার সুযোগ নেই।

চন্দ্রকলা ও শরৎ বিষুব

সেপ্টেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহেও চাঁদের অবস্থান রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে। ঢাকার সময় অনুযায়ী ১৯ সেপ্টেম্বর চাঁদ প্রথম চতুর্থাংশের পর্যায়ে যাবে। এরপর ২৩ সেপ্টেম্বর হবে শরৎ বিষুব।

বিষুবের দিন সূর্য বিষুবরেখা অতিক্রম করে। এ সময় পৃথিবীর উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য প্রায় সমান থাকে। শরৎ বিষুবের পর উত্তর গোলার্ধে ধীরে ধীরে রাতের দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকে। ফলে রাতের আকাশ পর্যবেক্ষণের জন্য পরবর্তী সময়গুলো আরও সুবিধাজনক হয়ে ওঠে।

সন্ধ্যার আকাশে শুক্র, গভীর রাতে বৃহস্পতি

সেপ্টেম্বরের শেষভাগে সূর্যাস্তের পর পশ্চিম আকাশে উজ্জ্বল শুক্র গ্রহও পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবে। গোধূলির আলো কমে আসার পর এটি সন্ধ্যাতারা হিসেবে সহজেই শনাক্ত করা যেতে পারে। উজ্জ্বলতার কারণে শহরাঞ্চল থেকেও শুক্রকে শনাক্ত করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

অন্যদিকে বৃহস্পতি মূলত গভীর রাত ও ভোরের আকাশে দৃশ্যমান হবে। রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ব আকাশে বৃহস্পতিকে খুঁজে পাওয়া যাবে। আকাশ পরিষ্কার থাকলে এটি একটি উজ্জ্বল আলোকবিন্দুর মতো চোখে পড়বে।

শুক্র ও বৃহস্পতির দৃশ্যমানতার সময় এক নয়। তাই যারা দুই গ্রহই পর্যবেক্ষণ করতে চান, তাদের সন্ধ্যার পর পশ্চিম আকাশে শুক্র এবং গভীর রাতে পূর্ব আকাশে বৃহস্পতির দিকে নজর রাখতে হবে।

শরৎকালীন নক্ষত্রমণ্ডল ও অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি

সেপ্টেম্বরের দ্বিতীয়ার্ধে রাতের আকাশে শরৎকালীন বিভিন্ন নক্ষত্রমণ্ডলও স্পষ্টভাবে দেখা যেতে শুরু করবে। সন্ধ্যার পর পূর্ব আকাশে পেগাসাসসহ বেশ কয়েকটি নক্ষত্রমণ্ডল পর্যবেক্ষণের সুযোগ থাকবে। ডানাওয়ালা ঘোড়ার আকৃতির পেগাসাস এ সময়ের আকাশের অন্যতম পরিচিত নক্ষত্রমণ্ডল।

পেগাসাসের কাছাকাছি অবস্থান করছে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি। এটি পৃথিবী থেকে বিপুল দূরত্বে অবস্থিত একটি গ্যালাক্সি এবং পরিষ্কার, অন্ধকার আকাশে উপযুক্ত পরিস্থিতিতে খালি চোখেও এর আবছা উপস্থিতি বোঝা সম্ভব। তবে বাইনোকুলার বা টেলিস্কোপ ব্যবহার করলে অ্যান্ড্রোমিডাকে শনাক্ত করা অনেক সহজ হয়।

সেপ্টেম্বর অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি পর্যবেক্ষণের জন্যও ভালো সময়। রাত যত গভীর হবে, উত্তর-পূর্ব ও পূর্ব আকাশে শরৎকালীন নক্ষত্রমণ্ডলগুলো তত উঁচুতে উঠবে। ফলে পর্যবেক্ষকদের জন্য গ্যালাক্সিটি খুঁজে বের করা তুলনামূলক সহজ হতে পারে।

কোথা থেকে দেখা যাবে এসব দৃশ্য

রাতের আকাশের এসব মহাজাগতিক দৃশ্য পর্যবেক্ষণের ক্ষেত্রে স্থান নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। শহরের অতিরিক্ত কৃত্রিম আলো আকাশের ক্ষীণ নক্ষত্র ও গভীর-আকাশের বস্তু দেখার ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি করে। তাই সম্ভব হলে শহরের আলো থেকে দূরে, খোলা জায়গা এবং পরিষ্কার দিগন্ত রয়েছে এমন স্থান বেছে নেওয়া ভালো।

বিশেষ করে অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সির মতো তুলনামূলক ক্ষীণ মহাজাগতিক বস্তু দেখতে আলোকদূষণ কম এমন স্থান সবচেয়ে উপযোগী। অন্যদিকে শুক্র, বৃহস্পতি ও শনি তুলনামূলক উজ্জ্বল হওয়ায় শহর থেকেও এগুলো শনাক্ত করার সুযোগ রয়েছে।

তবে আবহাওয়া ও আকাশের স্বচ্ছতার ওপর পর্যবেক্ষণের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করবে। মেঘলা আকাশ কিংবা অতিরিক্ত কুয়াশা থাকলে এসব দৃশ্য দেখা কঠিন হতে পারে।

সব মিলিয়ে সেপ্টেম্বরের শেষ দুই সপ্তাহ বাংলাদেশের আকাশ পর্যবেক্ষকদের জন্য বেশ বৈচিত্র্যময় সময়। শনি, শুক্র ও বৃহস্পতির মতো উজ্জ্বল গ্রহ থেকে শুরু করে পেগাসাস ও অ্যান্ড্রোমিডা গ্যালাক্সি এবং মাসের শেষের হারভেস্ট মুন—সব মিলিয়ে রাতের আকাশে মহাকাশপ্রেমীদের জন্য থাকছে একাধিক আকর্ষণীয় দৃশ্য।

পড়ুন:৫ হাজার তরুণ উদ্যোক্তা খুঁজবে বাংলাদেশ ব্যাংক, সর্বোচ্চ ২০ লাখ ঋণ সহায়তা

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন