ছোটপর্দার অভিনেতা সাইদুর রহমান পাভেলের একটি কথিত আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়াকে কেন্দ্র করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। প্রায় ৪৫ সেকেন্ডের ওই ভিডিওটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। তবে ভিডিওটির সত্যতা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। একই সঙ্গে এটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে তৈরি, সম্পাদিত কিংবা অন্য কোনো ভিডিও থেকে পরিবর্তন করে তৈরি করা হয়েছে কি না, সে বিষয়েও নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি নিয়ে বিভিন্ন ধরনের দাবি সামনে এসেছে। ভিডিওতে পাভেলের মতো দেখতে এক ব্যক্তিকে এক নারীর সঙ্গে ভিডিও কলে কথা বলতে এবং অশালীন অঙ্গভঙ্গি করতে দেখা যায় বলে দাবি করছেন অনেকে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই এর সত্যতা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়। কেউ কেউ ভিডিওটি আসল কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। আবার অনেকে ভিডিওটির ভিত্তিতে অভিনেতাকে নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্যও করছেন।
তবে শুধু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কোনো ভিডিও বা পোস্টের ওপর ভিত্তি করে এর সত্যতা নিশ্চিত করা যায় না। বিশেষ করে বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও বিভিন্ন ধরনের ভিডিও সম্পাদনা প্রযুক্তির সহজলভ্যতার কারণে কোনো ব্যক্তির মুখমণ্ডল বা কণ্ঠ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর ভিডিও তৈরি করার সুযোগ রয়েছে। ফলে ভিডিওটির উৎস, সম্পাদনার ইতিহাস এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য যাচাই না করে সেটিকে সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
এ বিষয়ে অভিনেতা সাইদুর রহমান পাভেলের কোনো বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তিনি ভিডিওটির বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেছেন কি না কিংবা ভিডিওটি তার কি না—এ বিষয়ে নির্ভরযোগ্য কোনো তথ্যও সামনে আসেনি। ফলে ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য এবং প্রযুক্তিগত যাচাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো ব্যক্তির কথিত ব্যক্তিগত বা আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে তা নিয়ে দ্রুত আলোচনা তৈরি হওয়া নতুন নয়। তবে কোনো ভিডিও সত্যতা যাচাই ছাড়াই শেয়ার করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে ভিডিওটি ভুয়া বা সম্পাদিত হলে সেটি আরও বড় ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করতে পারে।
সাইদুর রহমান পাভেল বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে পরিচিত মুখ। ভারতের জনপ্রিয় কমেডি রিয়েলিটি শো ‘মীরাক্কেল আক্কেল চ্যালেঞ্জার সিজন ৯’-এ অংশ নিয়ে রানারআপ হওয়ার পর তিনি দেশে ফিরে স্টেজ শো এবং অভিনয়ের মাধ্যমে দর্শকদের কাছে পরিচিত হয়ে ওঠেন। পরবর্তী সময়ে ছোট পর্দার বিভিন্ন নাটক ও ওয়েব কনটেন্টে অভিনয় করে নিজের অবস্থান তৈরি করেন তিনি।
তপু খান পরিচালিত ‘কট বিহাইন্ড’ নাটকের মাধ্যমে অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন পাভেল। এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন নাটক ও বিনোদনমূলক কনটেন্টে কাজ করতে থাকেন। তবে কাজল আরেফিন অমি পরিচালিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর ‘বজরা বাজারের জাকির’ চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে ব্যাপক পরিচিতি পান তিনি। চরিত্রটির মাধ্যমে দর্শকদের মধ্যে তার আলাদা গ্রহণযোগ্যতা তৈরি হয়।
‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর পাশাপাশি কাজল আরেফিন অমির পরিচালনায় ‘ফিমেল ১’, ‘ফিমেল ২’, ‘স্ট্যাটাস’, ‘হোটেল রিল্যাক্স’ ও ‘হাউ সুইট’-সহ বিভিন্ন নাটক ও ওয়েব কনটেন্টে অভিনয় করেছেন পাভেল। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে তিনি নাট্যাঙ্গনে নিজের কাজের পরিধি বাড়িয়েছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কথিত ভিডিওটি নিয়ে আলোচনা অব্যাহত থাকলেও এর সত্যতা সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ভিডিওটির কোনো মূল উৎস, পূর্ণাঙ্গ সংস্করণ বা নির্ভরযোগ্য যাচাই প্রতিবেদনও প্রকাশ্যে আসেনি। ফলে ভিডিওতে দেখা ব্যক্তিটি সত্যিই পাভেল কি না, কিংবা ভিডিওটি কোনোভাবে সম্পাদিত বা এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি কি না—এ মুহূর্তে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়।
এ ধরনের ঘটনায় যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো ভিডিও, ছবি বা তথ্য ছড়িয়ে না দেওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ও সংবেদনশীল বিষয় সংশ্লিষ্ট কনটেন্টের ক্ষেত্রে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের দায়িত্বশীল আচরণ করা প্রয়োজন। ভিডিওটির সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার আগে এটিকে বাস্তব ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করাও বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
অভিনেতা সাইদুর রহমান পাভেল এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য দিলে ভিডিওটির সত্যতা নিয়ে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যেতে পারে। ততক্ষণ পর্যন্ত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির দাবিকে অনিশ্চিত হিসেবেই বিবেচনা করা হচ্ছে।
পড়ুন:টিসিবি থেকে ৫৯ লাখ অযোগ্য সুবিধাভোগীকে বাদ দেয়া হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
ইমি/


