জীবনে নানা ধরনের বিপদ, দুশ্চিন্তা ও কঠিন পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হয়। এমন সময়ে হতাশ না হয়ে আল্লাহর ওপর ভরসা করা এবং তাঁর কাছেই সাহায্য চাওয়ার শিক্ষা দিয়েছে ইসলাম। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে সংকটের মুহূর্তে নামাজ, ধৈর্য, দোয়া, তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার কথা বলা হয়েছে।
আল্লাহর সাহায্য ছাড়া কোনো কাজে প্রকৃত সফলতা অর্জন সম্ভব নয়। তাই জীবনের কঠিন সময়ে কিছু গুরুত্বপূর্ণ আমল নিয়মিত করার মাধ্যমে আল্লাহর নৈকট্য লাভের চেষ্টা করা যেতে পারে।
১. দোয়া ইউনুস পড়ুন
বিপদ ও সংকটের সময়ে পড়ার জন্য বহুল পরিচিত একটি দোয়া হলো দোয়া ইউনুস। হজরত ইউনুস (আ.) মাছের পেটে থাকা অবস্থায় আল্লাহর কাছে এই দোয়া করেছিলেন।
لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ سُبْحَانَكَ إِنِّي كُنْتُ مِنَ الظَّالِمِينَ
অর্থ: ‘আপনি ছাড়া কোনো উপাস্য নেই। আপনি পবিত্র। নিশ্চয়ই আমি জালিমদের অন্তর্ভুক্ত।’
এই দোয়ায় আল্লাহর একত্বের স্বীকৃতি, তাঁর পবিত্রতার ঘোষণা এবং নিজের ভুল স্বীকারের বিষয় রয়েছে। তাই বিপদের সময়ে আন্তরিকতার সঙ্গে এই দোয়া পড়া যায়।
২. নামাজ ও ধৈর্য ধারণ করুন
কঠিন পরিস্থিতিতে মুমিনের জন্য নামাজ ও ধৈর্য গুরুত্বপূর্ণ আমল। আল্লাহ তায়ালা বলেন,
وَاسْتَعِينُوا بِالصَّبْرِ وَالصَّلَاةِ ۚ وَإِنَّهَا لَكَبِيرَةٌ إِلَّا عَلَى الْخَاشِعِينَ
অর্থ: ‘আর তোমরা ধৈর্য ও সালাতের মাধ্যমে সাহায্য চাও। নিশ্চয় তা বিনয়ী লোক ছাড়া অন্যদের ওপর কঠিন।’
—সূরা আল-বাকারা, আয়াত ৪৫
তাই বিপদ কিংবা দুশ্চিন্তার সময়ে নামাজ ছেড়ে না দিয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়া উচিত।
৩. একনিষ্ঠভাবে আল্লাহর কাছে দোয়া করুন
সাহায্যের জন্য একমাত্র আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করার শিক্ষা দিয়েছে ইসলাম। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেন,
إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ
অর্থ: ‘আমরা একমাত্র আপনারই ইবাদত করি এবং একমাত্র আপনারই কাছে সাহায্য চাই।’
—সূরা আল-ফাতিহা, আয়াত ৫
জীবনের কঠিন সময়ে অহংকার ও অতিরিক্ত আত্মনির্ভরতা থেকে দূরে থেকে বিনয়ের সঙ্গে আল্লাহর কাছে দোয়া করা উচিত। নিজের প্রয়োজন ও সমস্যাগুলো তাঁর কাছে তুলে ধরে সাহায্য চাওয়া মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল।
৪. বেশি বেশি তওবা ও ইস্তিগফার করুন
তওবা ও ইস্তিগফার মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ আমল। নিজের ভুল ও গুনাহের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত ইস্তিগফার করা উচিত।
হজরত নুহ (আ.) তাঁর সম্প্রদায়কে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে বলেছিলেন। কোরআনে এসেছে,
فَقُلْتُ اسْتَغْفِرُوا رَبَّكُمْ إِنَّهُ كَانَ غَفَّارًا يُرْسِلِ السَّمَاءَ عَلَيْكُمْ مِدْرَارًا
অর্থ: ‘অতঃপর আমি বলেছি, তোমরা তোমাদের রবের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই তিনি পরম ক্ষমাশীল। তিনি তোমাদের ওপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করবেন।’
—সূরা নুহ, আয়াত ১০-১১
তাই বিপদের সময়ে হতাশ না হয়ে নিজের ভুলের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাওয়া এবং বেশি বেশি ইস্তিগফার করা উচিত।
৫. আল্লাহর দ্বীনের পথে সৎকাজে এগিয়ে আসুন
কঠিন সময়ে আল্লাহর সাহায্য পাওয়ার আশায় শুধু দোয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে সৎকাজ ও নেক আমলের প্রতিও মনোযোগী হওয়া উচিত। মুমিনের দায়িত্ব হলো সৎকাজে উৎসাহ দেওয়া এবং অন্যায় থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করা।
আল্লাহ তায়ালা বলেন,
يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا إِنْ تَنْصُرُوا اللَّهَ يَنْصُرْكُمْ وَيُثَبِّتْ أَقْدَامَ
অর্থ: ‘হে মুমিনগণ! যদি তোমরা আল্লাহকে সাহায্য করো, তবে তিনি তোমাদের সাহায্য করবেন এবং তোমাদের পা দৃঢ় রাখবেন।’
—সূরা মুহাম্মাদ, আয়াত ৭
জীবনের কঠিন সময়ে তাই হতাশ না হয়ে নামাজ, দোয়া, তওবা, ইস্তিগফার ও সৎকাজের মাধ্যমে আল্লাহর দিকে ফিরে আসা উচিত। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ধৈর্য ধারণ করা এবং তাঁর কাছে সাহায্য চাওয়াই মুমিনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পথ।
পড়ুন : সুদিন ও দুর্দিনে আল্লাহর ওপর ভরসা রাখতে হবে
সা/


