ময়মনসিংহের ত্রিশালে ইউনাইটেড পরিবহনের বাসের ধাক্কায় মাহিন্দ্রা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার কাজিরশিমলা এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দুর্ঘটনাটি ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহত ও আহতদের পরিচয় জানা যায়নি।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশে ছেড়ে আসা ইউনাইটেড পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মহাসড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মাহিন্দ্রা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশাকে পেছন থেকে ধাক্কা দেয়। এতে দুই গাড়ির দুই যাত্রী ঘটনাস্থলেই নিহত হন। পরে বাসটি মহাসড়কের পাশে থাকা প্যাসিফিক আইডিয়াল হাইস্কুলের সীমানাপ্রাচীরে ধাক্কা দিয়ে উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান। আহত সবাই মাহিন্দ্রা ও সিএনজির যাত্রী বলে জানা গেছে।
ত্রিশাল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আহমেদ বলেন, ইউনাইটেড পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় মাহিন্দ্রা ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ছাড়াও এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ছয়জন। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বাংলাদেশের সড়কে বেপরোয়া বাস
বাংলাদেশের যাত্রী আকর্ষণে বিপজ্জনকভাবে বেপরোয়া গতিতে বাস চালানোর প্রবণতার উদ্বেগজনক পরিস্থিতি নিয়ে সংবাদ করেছে ফ্রান্সের গণমাধ্যম।
ফ্রান্স টুয়েন্টি ফোর-এর সংবাদে এসেছে, বাংলাদেশের অনেক বাসচালক উচ্চগতিতে গাড়ি চালিয়ে যাত্রী টানার প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হচ্ছেন। দ্রুতগতিতে যানবাহনকে ওভারটেক করা, এদিক-ওদিক জিগজ্যাগ চালানো এমনকি রাস্তার পাশে দিয়েও এগিয়ে যাওয়ার মতো ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ নিয়মিত দেখা যাচ্ছে।
সংবাদটিতে এসেছে, দেশের বাস অন্যতম জনপ্রিয় পরিবহন হলেও কোম্পানিগুলোর মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা রয়েছে। যাত্রী আকর্ষণে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হচ্ছে, যা চালকদের ঝুঁকিপূর্ণ ড্রাইভিংয়ে উৎসাহিত করছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ ধরনের বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের হাজারো ভিডিও ভাইরাল হচ্ছে, যা অনেক ক্ষেত্রে বিনোদনের উৎসে পরিণত হয়েছে।
একজন কনটেন্ট নির্মাতা জানান, যাত্রীরা অনেক সময় চালকদের দ্রুত চালাতে উৎসাহ দেন, যাতে যাত্রা আরো রোমাঞ্চকর হয়।
তবে এই ঝুঁকিপূর্ণ প্রবণতা প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার কারণ হয়ে উঠছে। দেশে অনেক পুরোনো ও ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন চলাচল করায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বাড়ছে, যার ফলে অনেক বাস খাদে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে মোট সড়ক দুর্ঘটনার প্রায় ১২ শতাংশেই বাস জড়িত।
বেপরোয়া বাস চালনার মূল কারণসমূহ
অস্বাস্থ্যকর প্রতিযোগিতা: বেশি যাত্রী তোলার লোভে চালকদের মধ্যে আগে যাওয়ার অসুস্থ প্রতিযোগিতা।
আইনের দুর্বল প্রয়োগ: সड़क পরিবহন আইনের কঠোর ও কার্যকর প্রয়োগের অভাব।
অদক্ষতা ও ক্লান্তি: অপর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্রামহীনভাবে গাড়ি চালানো।
ফিটনেসবিহীন গাড়ি: ত্রুটিপূর্ণ ও লক্কড়ঝক্কড় যান্ত্রিক যানবাহনের অবাধে চলাচল।
সুরক্ষার উপায় ও করণীয়
নির্দিষ্ট গতিসীমা মেনে চলা এবং ওভারটেকিংয়ের প্রবণতা কমানো।
ট্রাফিক আইনের কঠোর প্রয়োগ ও নিয়মিত মনিটরিং নিশ্চিত করা।
চালকদের লাইসেন্স ও গাড়ির ফিটনেস নিয়মিত যাচাই করা।
যাত্রীদের সচেতন হওয়া এবং বেপরোয়া ড্রাইভিং দেখলে তাৎক্ষণিক ট্রাফিক পুলিশকে জানানো।
পড়ুন : একযোগে ৯৯ জন বিচারককে বদলি
সা/


