ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগে থিম্পু যাওয়ার পথে শুক্রবার দুপুরে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেছেন। তাঁকে বহনকারী ড্রুক এয়ারের একটি ফ্লাইট শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, বিমানবন্দরে ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং টোবগেকে স্বাগত জানান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী আব্দুল মঈন খান। এ সময় সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির।
প্রায় দুই মাসের মধ্যে ভুটানের শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে এটি ঢাকায় দ্বিতীয় যাত্রাবিরতি। এর আগে গত ২৬ আগস্ট ভোরে ঢাকায় যাত্রাবিরতি করেছিলেন ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক। ওইদিন হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
ভুটানের রাজাকে বহনকারী একটি বিশেষ উড়োজাহাজ সিঙ্গাপুর থেকে ভুটান যাওয়ার পথে ওইদিন ভোরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করে। বিমানবন্দরে অবস্থানকালে ভিভিআইপি লাউঞ্জে ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল। এ সময় তাঁরা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন।
এর আগে, ভুটানের রাজাকে বহনকারী একটি বিশেষ বিমান শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি করে। বিমানবন্দরে অবস্থানকালে ভিভিআইপি লাউঞ্জে রাষ্ট্রপতি ভুটানের রাজার সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তারা পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়ে সৌহার্দ্যপূর্ণ আলোচনা করেন।
ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগে ওয়াংচুক রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের জন্য মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক অভিনন্দন ও শুভকামনা জানান। রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের জনগণ ও সরকারের পক্ষ থেকে ভুটানের রাজা ও রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি উষ্ণ শুভেচ্ছা জানান।
আলাপকালে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে গভীর ও ঐতিহাসিক সম্পর্ক বিদ্যমান। তিনি বলেন, ‘ভুটান সবসময় আমাদের হৃদয়ে বিশেষ স্থান করে আছে। কারণ, ১৯৭১ সালের ৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া বিশ্বের প্রথম দেশ ভুটান।’ এ সময় রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের প্রতি ভুটানের বর্তমান রাজার পিতা রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুকের বিশেষ মমত্ববোধ ও গভীর শ্রদ্ধাবোধের বিষয়গুলো তুলে ধরেন।
দুই দেশের অভিন্ন উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে ভুটানের রাজা শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন। এ সময় ভুটানের রাজা তাঁর ‘গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি’ প্রকল্প সম্পর্কে রাষ্ট্রপতিকে অবহিত করেন এবং এতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি প্রকল্পটির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করে বলেন, পারস্পরিক কল্যাণ, সমৃদ্ধি ও টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যে এ অঞ্চলের রূপান্তরমূলক উদ্যোগগুলো এগিয়ে নিতে বাংলাদেশ ভুটানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে প্রস্তুত।
পড়ুন: ট্রেনে নারী কোচ: খসড়া আইনে স্থান-সংখ্যা অস্পষ্ট, বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়
আর/


