রাজধানীর উত্তরার ৭ নম্বর সেক্টরের বিএনএস সেন্টারে একাধিক অফিস কক্ষের তালা ভেঙে নগদ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা, ল্যাপটপ ও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র চুরির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ৬ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে আসামি করে উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটিতে মোট ৪৩ লাখ ২০ হাজার টাকার সম্পদ চুরির অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত ১২ সেপ্টেম্বর উত্তরা পশ্চিম থানায় দণ্ডবিধির ৩৮০ ও ৪১১ ধারায় মামলাটি (মামলা নং- ১৯) রুজু করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. জুনায়েদ হোসেন।
মামলা ও এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বিএনএস সেন্টারের ১১ তলায় (লিফট-১০) ৩৩টি কক্ষ ২০৩০ সাল পর্যন্ত চুক্তিতে ভাড়া নিয়ে অন্যান্য ব্যবসায়ীদের নিয়ে কার্যালয় পরিচালনা করে আসছিলেন জুনায়েদ হোসেন। গত বছরের ১৬ মে সেন্টারের ম্যানেজার আহাম্মদ উল্লাহ মূল ভাড়াটিয়া আবু রায়হানের কাছে বকেয়া ভাড়ার কথা বলে ১১ তলার মেইন গেটে তালা ঝুলিয়ে দেন। পরবর্তীতে চলতি বছরের ৩ আগস্ট সকালে কক্ষের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যবসায়ীরা দেখতে পান সব কক্ষের তালা ভাঙা এবং ভেতরে থাকা মালপত্র লুট হয়ে গেছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, দুর্বৃত্তরা ২৬ লাখ ৩০ হাজার নগদ টাকা, ১৩ হাজার সৌদি রিয়াল (যার আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ টাকা) এবং ৬টি ল্যাপটপ, ৪টি ডেস্কটপ কম্পিউটার, ৪৪টি পাসপোর্ট, ২টি প্রিন্টার, ১৫০টি টোনার, ৪টি এসি, আসবাবপত্র ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ মোট ৪৩ লাখ ২০ হাজার টাকার মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন— বিএনএস সেন্টারের ম্যানেজার আহাম্মদ উল্লাহ, ইউআইসি ল্যাঙ্গুয়েজ ইনস্টিটিউট ও উত্তরা ইন্টারন্যাশনাল ক্যারিয়ার কাউন্সিলের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মো. আতিকুল হক, চেয়ারম্যান লাকী আক্তার, মো. কুতুব উদ্দিন, মো. শফিকুল ইসলাম এনাম এবং আমেনা খাতুন। এছাড়া মামলায় আরও ৩০ থেকে ৩৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে।
উত্তরা পশ্চিম থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ খালিদ মুনসুর মামলাটি রেকর্ড করেন এবং সাব-ইন্সপেক্টর ফরিদউজ্জামানকে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত করা হয়েছে। পুলিশ জানায়, চুরির বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া মালামাল ও অর্থ উদ্ধারে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পড়ুন : নতুন পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি, যেভাবে বাস্তবায়ন হবে


