বিজ্ঞাপন

স্ত্রীর প্রশংসা করার বিশেষ দিন আজ

বিজ্ঞাপন

একটি সংসার শুধু চার দেয়ালের ঘর নয়। সেখানে জড়িয়ে থাকে ভালোবাসা, অভিমান, দায়িত্ব, ত্যাগ আর অসংখ্য না-বলা গল্প। পরিবারের সুখ-দুঃখের সঙ্গে মিশে থাকে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক, সন্তানদের ভবিষ্যৎ এবং প্রতিদিনের ছোট ছোট নানা আয়োজন। এসব গল্পের নেপথ্যে অনেক সময় নীরব ভূমিকা পালন করেন একজন স্ত্রী। নিজের ক্লান্তি আড়াল করে পরিবারের সবার মুখে হাসি ফোটানো, স্বামীর দুঃসময়ে পাশে থাকা কিংবা সন্তানদের নিয়ে সারাদিন ছুটে চলার মতো কাজগুলো সবসময় আলাদা করে প্রশংসা পায় না।

তবে সেই নীরব অবদান ও ভালোবাসার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের জন্য বছরে একটি দিন বিশেষভাবে পালন করা হয়। আজ রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) পালিত হচ্ছে স্ত্রীর প্রশংসা দিবস বা ‘Wife Appreciation Day’। প্রতি বছর সেপ্টেম্বরের তৃতীয় রোববার বিভিন্ন দেশে দিবসটি পালন করা হয়। ২০০৬ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে দিবসটি পালনের তথ্য পাওয়া যায়। মূলত দাম্পত্য জীবনে স্ত্রীর অবদান, ভালোবাসা, যত্ন ও ত্যাগের প্রতি সম্মান জানানোই এ দিবস পালনের অন্যতম উদ্দেশ্য।

আধুনিক জীবনে কর্মব্যস্ততা ক্রমেই বাড়ছে। অফিস, ব্যবসা, সংসার, সন্তান, সামাজিক দায়িত্ব—সবকিছু সামলাতে গিয়ে স্বামী-স্ত্রীর একান্ত সময় অনেক ক্ষেত্রেই কমে যায়। দিনের পর দিন পাশাপাশি থেকেও প্রিয় মানুষটির সঙ্গে মন খুলে কথা বলার সুযোগ হয়ে ওঠে না।

সংসারের দৈনন্দিন কাজের মধ্যে অনেক সময় স্ত্রীর অবদানও স্বাভাবিক ও নিয়মিত বিষয় হিসেবে দেখা হয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে পরিবারের খাবার, সন্তানদের দেখাশোনা, ঘরের নানা কাজ কিংবা স্বামীর প্রয়োজনের দিকে খেয়াল রাখা—এসবের অনেক কিছুই যেন অদৃশ্য দায়িত্ব হয়ে যায়। ফলে কাজগুলোর জন্য আলাদা করে ধন্যবাদ বা প্রশংসা জানানোর সুযোগ কমে আসে।

অথচ কাছের মানুষের কাছ থেকে পাওয়া সামান্য প্রশংসাও সম্পর্কের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একটি আন্তরিক ‘ধন্যবাদ’, ‘তোমাকে পাশে পেয়ে আমি ভাগ্যবান’ কিংবা ‘তুমি আমাদের জন্য অনেক কিছু করো’—এমন কয়েকটি বাক্যও প্রিয় মানুষের মনে আনন্দ তৈরি করতে পারে।

স্ত্রীর প্রশংসা দিবস মানেই দামি উপহার কিনতে হবে—এমন কোনো কথা নেই। বরং প্রিয় মানুষটির প্রতি আন্তরিকতা প্রকাশ করাই হতে পারে এ দিনের মূল আয়োজন।

অফিস থেকে ফেরার পথে একগুচ্ছ ফুল নিয়ে যাওয়া, হঠাৎ করে স্ত্রীর পছন্দের খাবার নিয়ে বাড়ি ফেরা কিংবা দিনের শেষে দুজন মিলে কিছুটা সময় কাটানো হতে পারে বিশেষ উপহার। দীর্ঘদিন পর একসঙ্গে চা খাওয়া, পুরোনো কোনো স্মৃতি নিয়ে গল্প করা কিংবা শুধু পাশে বসে কিছুক্ষণ কথা বলাও সম্পর্ককে নতুন করে উষ্ণতা দিতে পারে।

অনেক সময় ভালোবাসার প্রকাশ খুব ছোট কোনো কাজের মধ্যেই লুকিয়ে থাকে। স্ত্রী সারাদিন সংসারের কাজ করলে সেই কাজে সহযোগিতা করা, সন্তানদের কিছু দায়িত্ব নিজের কাঁধে নেওয়া কিংবা তাকে নিজের জন্য কিছুটা সময় দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়াও হতে পারে ভালোবাসা প্রকাশের একটি উপায়।

প্রিয়তমাকে বিশেষ অনুভব করানোর আরেকটি সুন্দর উপায় হতে পারে একটি ছোট চিঠি লেখা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুতগতির সময়ে হাতে লেখা একটি চিঠি কিংবা নিজের ভাষায় লেখা কয়েকটি আন্তরিক বাক্যও আলাদা অনুভূতি তৈরি করতে পারে।

চিঠিতে বলা যেতে পারে, সংসারের আড়ালে তার করা ছোট ছোট কাজগুলো চোখ এড়িয়ে যায়নি। পরিবারের জন্য তার ত্যাগ ও পরিশ্রম যে মূল্যবান, সেটিও জানানো যেতে পারে। জীবনের কঠিন সময়ে পাশে থাকার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা যেতে পারে।

অনেক সম্পর্কেই ভালোবাসা থাকে, কিন্তু সেই ভালোবাসা প্রকাশের অভ্যাস থাকে না। ফলে একজন মানুষ হয়তো মনে মনে অনেক কিছু অনুভব করেন, কিন্তু মুখে তা বলা হয়ে ওঠে না। স্ত্রী প্রশংসা দিবস সেই না-বলা কথাগুলো বলার একটি উপলক্ষ হতে পারে।

দাম্পত্য সম্পর্কের ধরন একেক দম্পতির ক্ষেত্রে একেক রকম। কারও কাছে স্ত্রী প্রেমের মানুষ, কারও কাছে সবচেয়ে কাছের বন্ধু। আবার কারও কাছে জীবনের কঠিন সময়ে সবচেয়ে বড় নির্ভরতার জায়গা। সন্তান জন্মের পর অনেক নারী সংসার ও সন্তানের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে নিজের ব্যক্তিগত সময় ও পছন্দের অনেক কিছুই বিসর্জন দেন।

তাই জীবনসঙ্গীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের সুযোগকে ছোট করে দেখার কারণ নেই। একটি সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী করার জন্য শুধু বড় আয়োজন নয়, প্রতিদিনের ছোট ছোট যত্ন, সম্মান, পারস্পরিক সহযোগিতা ও কৃতজ্ঞতাও গুরুত্বপূর্ণ।

আজকের দিনটি তাই ব্যস্ততার ভিড়ে প্রিয়তমার পাশে কিছুটা সময় বসার সুযোগ করে দিতে পারে। তাকে বলা যেতে পারে—জীবনে তার মতো একজন মানুষ থাকা কতটা বড় পাওয়া। তার উপস্থিতি, ভালোবাসা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতার কথাও জানানো যেতে পারে।

ভালোবাসার জন্য অবশ্য কোনো বিশেষ দিনের প্রয়োজন নেই। স্ত্রীকে সম্মান করা, তার কথা শোনা, তার পরিশ্রমের মূল্য দেওয়া এবং প্রয়োজনের সময়ে পাশে দাঁড়ানো—এসব প্রতিদিনের বিষয়। তবু বিশেষ কোনো দিবস মানুষকে তার প্রিয় মানুষটির কথা নতুন করে মনে করিয়ে দিতে পারে।

স্ত্রীর প্রশংসা দিবসের মূল বার্তাও হতে পারে সেটিই—সংসারের নেপথ্যে থাকা মানুষটির অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া। যেসব কাজ প্রতিদিনের জীবনে স্বাভাবিক বলে মনে হয়, সেগুলোর পেছনেও থাকে সময়, শ্রম, ভালোবাসা ও ত্যাগ।

তাই আজকের দিনে দামি উপহার নয়, বরং কয়েকটি আন্তরিক কথা বলা যেতে পারে। বলা যেতে পারে, ‘তুমি আমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ।’ বলা যেতে পারে, ‘তোমাকে পাশে পেয়ে আমি কৃতজ্ঞ।’ আর সবচেয়ে বড় কথা, শুধু আজ নয়—বছরের প্রতিটি দিনই যেন জীবনসঙ্গীর প্রতি সম্মান, যত্ন ও ভালোবাসা প্রকাশের সুযোগ হয়ে ওঠে।

পড়ুন:খিলক্ষেতে ১২ বছরের শিশু নিখোঁজ, অজ্ঞাত নম্বর থেকে পরিবারের কাছে ফোন

ইমি/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন