২০২৬-২৭ মৌসুমের খেলা মাঠে গড়ানোর পর ইতোমধ্যেই কেটে গেছে এক মাস। ইউরোপের শীর্ষ লিগগুলোর কোনোটিতে সাতটি, আবার কোনোটিতে চারটি করে রাউন্ডের খেলা শেষ হয়েছে। মৌসুমের একেবারে শুরুর এই সময়েই লিগ শিরোপার চূড়ান্ত সমীকরণ মেলানো কঠিন হলেও দলগুলোর শক্তি আর ফর্মের স্পষ্ট আভাস পাওয়া যাচ্ছে। দীর্ঘ ১৬ দিনের আন্তর্জাতিক বিরতি কাটিয়ে অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে ফের শুরু হবে ক্লাব ফুটবলের ময়দানি লড়াই। তবে তার আগে বিরতির মুখে দাঁড়িয়ে ইউরোপের ‘টপ ফাইভ’ লিগের বড় দলগুলোর অবস্থান এবং গতবারের চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল, বার্সেলোনা, বায়ার্ন মিউনিখ, ইন্টার মিলান ও পিএসজির নতুন মৌসুমের শুরুর চিত্রনাট্য দেখে নেওয়া যাক।
স্প্যানিশ লা লিগায় যেন রূপকথার মতো শুরু করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বার্সেলোনা। হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা প্রথম সাত ম্যাচের সাতটিতেই পূর্ণ পয়েন্ট তুলে ২১ পয়েন্ট নিয়ে একক আধিপত্য বজায় রেখে টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। শুধু শতভাগ জয়ই নয়, তাদের অবিশ্বাস্য +২৪ গোল ব্যবধানই প্রমাণ করে বার্সার আক্রমণভাগ কতটা বিধ্বংসী রূপে রয়েছে। বিপরীতে এক যুগ পর জোসে মরিনিওকে ডাগআউটে ফিরিয়ে এনেও স্বস্তিতে নেই রিয়াল মাদ্রিদ; নগর প্রতিদ্বন্দ্বী আতলেতিকোর কাছে হোঁচটসহ সাত ম্যাচের দুটিতে হেরে তারা অবস্থান করছে চার নম্বরে। বার্সার চেয়ে পাঁচ পয়েন্টে পিছিয়ে থেকে ডিয়েগো সিমিওনের দল আতলেতিকো মাদ্রিদ রয়েছে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল প্রথম চার ম্যাচে উড়ন্ত জয় পেলেও পঞ্চম ম্যাচেই ধাক্কা খেয়েছে। মিকেল আর্তেতার দল পাঁচ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট তুললেও সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে শীর্ষস্থান ছিনিয়ে নিয়েছে ম্যানচেস্টার সিটি। পেপ গার্দিওলার প্রস্থানের পর সিটি কেমন করবে—এমন জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে নতুন কোচ এনজো মারেসকার দল টানা পাঁচ জয়ে পূর্ণ ১৫ পয়েন্ট ও +৮ গোল ব্যবধান নিয়ে শীর্ষে বসেছে। আর্সেনালের পরেই চমক দেখাচ্ছে ব্রাইটন; ১০ পয়েন্ট এবং নজরকাড়া +১১ গোল ব্যবধান নিয়ে তারা রয়েছে তিনে। অন্য পরাশক্তিদের মধ্যে পাঁচ ম্যাচে তিন পরাজয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে লিভারপুল ছয়ে, চেলসি দশে এবং মাত্র একটি জয় ও দুই ড্রয়ে ৫ পয়েন্ট পাওয়া ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ধুঁকছে ১২ নম্বরে।
জার্মান বুন্দেসলিগায় গত মৌসুমের বিশাল ব্যবধানে জেতা রাজত্ব ধরে রাখার শুরুতেই বায়ার্ন মিউনিখকে কড়া চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হয়েছে। প্রথম চার ম্যাচের চারটিতেই জিতে ১২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চূড়ায় বসেছে বরুসিয়া ডর্টমুন্ড। শালকের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করায় ১০ পয়েন্ট নিয়ে দুই নম্বরে রয়েছে বায়ার্ন। সমান ১০ পয়েন্ট নিয়েও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থেকে ফ্রাইবুর্গ তিনে অবস্থান করছে, যদিও চার ম্যাচে +১২ গোল ব্যবধান নিয়ে শীর্ষ পাঁচের ভেতর এখনো সবচেয়ে বড় আক্রমণাত্মক দাপট দেখাচ্ছে বাভারিয়ানরাই।
ইতালিয়ান সিরি আ-তে প্রথম মাসেই চরম শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই জমে উঠেছে। টেবিলের প্রথম তিনটি দলই পাঁচ ম্যাচ খেলে ৪ জয় ও ১ ড্রয়ে সমান ১৩ পয়েন্ট অর্জন করেছে। গোল ব্যবধানের সামান্য পার্থক্যে এএস রোমা শীর্ষে, ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ইন্টার মিলান দ্বিতীয় ও লাৎসিও তৃতীয় স্থানে রয়েছে। এমনকি ১২ পয়েন্ট নিয়ে চতুর্থ স্থানে থাকা ক্যালিয়ারিও খুব একটা পিছিয়ে নেই। তবে গতবারের রানার্সআপ নাপোলির শুরুটা হয়েছে হতাশার; পাঁচ ম্যাচে মাত্র ৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা অবস্থান করছে ৯ নম্বরে।
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের চ্যাম্পিয়নদের মধ্যে সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত ও বাজে সূচনা হয়েছে ফ্রান্সের লিগ ওয়ানে পিএসজির। প্রথম দুই ম্যাচে ড্র এবং তৃতীয় ম্যাচে হারের ধাক্কা সামলে লুইস এনরিকের দল শেষ দুটি ম্যাচে ঘুরে দাঁড়ালেও পাঁচ ম্যাচে ৮ পয়েন্ট নিয়ে তাদের অবস্থান এখন ছয় নম্বরে। লিগ টেবিলের চূড়ায় ১৩ পয়েন্ট নিয়ে একক আধিপত্য গড়েছে মোনাকো, আর সমান ১১ পয়েন্ট নিয়ে তাদের পেছনেই ছুটছে লিঁও এবং প্যারিস এফসি। আন্তর্জাতিক বিরতির পর বড় ক্লাবগুলো তাদের এই ভুলত্রুটি শুধরে শীর্ষস্থান পুনরুদ্ধারে কতটা মরিয়া হয়ে ওঠে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
পড়ুন : ফ্রি কিকে গোল মেসির, এমএলএসে নতুন ইতিহাস


