বিজ্ঞাপন

তারেক রহমানের সঙ্গে এরদোয়ানের বৈঠক, সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা

বিজ্ঞাপন

তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে অবস্থিত তুর্কি হাউসে এ বৈঠক হয়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ (PMO Bangladesh – প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়) থেকে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, বৈঠকে বাংলাদেশ ও তুরস্কের ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও জোরদার ও বহুমাত্রিক করার লক্ষ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই নেতা মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়।

আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় এবং পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে দুই দেশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা ও সমন্বয় অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।

এ ছাড়া বাংলাদেশ ও তুরস্কের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করে পারস্পরিক স্বার্থ ও অভিন্ন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন দুই নেতা।

এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার সন্ধ্যায় ঢাকা থেকে নিউইয়র্কে পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে তার।

প্রধানমন্ত্রী ২৫ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্ক সময় রাত ১১টায় এমিরেটস এয়ারলাইনসের ফ্লাইটে জেএফকে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের জন্য জাতিসংঘের সর্বোচ্চ বৈশ্বিক মঞ্চে এটিই প্রথম অংশগ্রহণ।

এদিকে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বর্তমান ক্ষমতার কাঠামো পরিবর্তন করে আরও অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ন্যায়সংগত বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান। একই সঙ্গে যেসব দেশ এখনো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের নিজেদের অবস্থান পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে এরদোয়ান বলেন, বিশ্বে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ তার প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারছে না। ৮১ বছর আগে যে লক্ষ্য ও আদর্শকে সামনে রেখে সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, বর্তমান কাঠামো সেই উদ্দেশ্য পূরণে যথেষ্ট নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ১৯০টিরও বেশি দেশের সম্মিলিত মতামত মাত্র পাঁচটি দেশের সিদ্ধান্ত ও স্বার্থের ওপর নির্ভরশীল থাকতে পারে না। এ কারণে নিরাপত্তা পরিষদে জরুরি ও মৌলিক সংস্কার এনে সেটিকে আরও বিস্তৃত, প্রতিনিধিত্বশীল ও সমতাভিত্তিক করার আহ্বান জানান তিনি।

ভাষণে গাজার মানবিক পরিস্থিতিও গুরুত্ব পায়। সেখানে চলমান সংকটের প্রতি উদাসীন থাকাকে মানবিক বিবেকের পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেন এরদোয়ান। একই সঙ্গে গাজায় দ্রুত পুনর্গঠন কার্যক্রম শুরু এবং ইসরায়েলের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।

ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের জাতিসংঘের অধিবেশনে সরাসরি উপস্থিত হতে না পারার বিষয়টিও ভাষণে তুলে ধরেন এরদোয়ান। যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা না পাওয়ায় টানা দ্বিতীয়বারের মতো আব্বাস নিউইয়র্কে সশরীরে অধিবেশনে অংশ নিতে পারেননি। এরদোয়ানের ভাষায়, এই পরিস্থিতি ফিলিস্তিনিদের প্রতি অবিচারের প্রতিফলন এবং এটি আন্তর্জাতিক বিবেককে নাড়া দেওয়ার মতো ঘটনা।

তিনি বলেন, আব্বাস উপস্থিত থাকতে না পারলেও তুরস্ক স্বাধীন ও সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে তার অবস্থান অব্যাহত রাখবে। একই সঙ্গে যেসব দেশ এখনো ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি, তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানান তিনি।

১৯৬৭ সালের সীমান্তের ভিত্তিতে পূর্ব জেরুজালেমকে রাজধানী করে একটি স্বাধীন, সার্বভৌম ও ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে তুরস্কের অবস্থানও পুনর্ব্যক্ত করেন এরদোয়ান।

গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান নিয়ে তুরস্ক দীর্ঘদিন ধরে সমালোচনা করে আসছে। আঙ্কারা এসব কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে অভিহিত করে আন্তর্জাতিক পদক্ষেপের দাবি জানালেও ইসরায়েল এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।

পড়ুন : জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে যোগ দিলেন প্রধানমন্ত্রী

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন