উয়েফা নেশন্স লিগে জয় দিয়ে অভিযান শুরু করেছে নরওয়ে। আর্লিং হালান্ডের জোড়া গোলের সুবাদে ডেনমার্ককে ৩-২ গোলে হারিয়েছে তারা। ২৮ বছর পর ডেনমার্কের বিপক্ষে জয়ের দেখা পেল নরওয়ে।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে নরওয়ে। তবে প্রথম সুযোগ তৈরি করে ডেনমার্ক। প্যাট্রিক ডরগু ভেতরে ঢুকে শট নিলে তা ঠেকিয়ে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক ওরিয়েন নিয়ালান্ড।
১৪ মিনিটে এগিয়ে যায় নরওয়ে। মার্টিন ওডেগার্ডের পাসের অপেক্ষায় থেকে অফসাইড এড়িয়ে বল পান অস্কার বব। এরপর বাঁকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি।
এর চার মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করেন হালান্ড। নিয়ালান্ডের লম্বা পাস নিয়ন্ত্রণ করে বক্সে ঢুকে পড়েন তিনি। পরে আন্তোনিও নুসার বাড়ানো থ্রু বল পেয়ে ডেনমার্কের গোলরক্ষক ফিলিপ ইয়র্গেনসেনের দুই পায়ের ফাঁক দিয়ে বল জালে পাঠান ম্যানচেস্টার সিটির এই তারকা।
তবে বেশিক্ষণ পিছিয়ে থাকেনি ডেনমার্ক। ৩৪ মিনিটে দুর্দান্ত এক ফ্রি-কিকে নরওয়ের গোলরক্ষককে কোনো সুযোগ না দিয়ে ব্যবধান কমান মিকেল ডামসগার্ড।
বিরতির পর সমতায় ফেরার জন্য আক্রমণের গতি বাড়ায় ডেনমার্ক। একের পর এক আক্রমণে নরওয়ের রক্ষণে চাপ তৈরি করে তারা। রাশমুস হজলান্ডের একটি শট ব্লক হয়। পরে রাশমুস ক্রিস্টেনসেনও সুযোগ পেলেও তার শট ছিল দুর্বল।
৬০ মিনিটে কাঙ্ক্ষিত সমতাসূচক গোল পায় ডেনমার্ক। ডরগুর কর্নার থেকে মর্টেন হিউলমান্ডের হেড ঠেকিয়ে দেন নিয়ালান্ড। তবে ফিরতি বলে গোল করে ম্যাচে সমতা ফেরান হজলান্ড।
এরপরও আক্রমণ অব্যাহত রাখে ডেনমার্ক। হজলান্ডের জোরালো আরেকটি শট নরওয়ের পোস্টে লেগে ফিরে আসে।
তবে ৭৪ মিনিটে আবারও নরওয়েকে এগিয়ে দেন হালান্ড। স্বল্প দূরত্বের কর্নার থেকে ওডেগার্ডের পাস পেয়ে নিখুঁত ফিনিশিংয়ে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন তিনি।
যোগ করা সময়েও ম্যাচে নাটকীয়তা দেখা যায়। প্যাট্রিক ডরগুকে ফাউল করে প্রথম হলুদ কার্ড পাওয়া ডেভিড উলফ ৯৪ মিনিটে গুস্তাভ ইসাকসেনকে ফেলে দিয়ে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখেন। ফলে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।
শেষ পর্যন্ত আর কোনো গোল না হওয়ায় ৩-২ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে নরওয়ে। এই জয়ে ঘরের মাঠে তাদের অপরাজিত থাকার ধারাবাহিকতা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪ ম্যাচে। ২০২৪ সালের মার্চের পর থেকে ওসলোতে কোনো ম্যাচে হারেনি নরওয়ে।
অন্যদিকে, নেশন্স লিগে বিদেশের মাঠে টানা ছয় ম্যাচ ধরে জয়হীন ডেনমার্ক।
পড়ুন : অবসর ভাবনা থেকে সরে এলেন রোনালদো, লক্ষ্য ১ হাজার গোল
সা/


