নিয়োগপত্রের দাবিতে রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেছেন চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত কিন্তু নিয়োগবঞ্চিত প্রাথমিকের সহকারী শিক্ষক প্রার্থীরা।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার পর মিছিল নিয়ে শাহবাগ থানার সামনের সড়কে অবস্থান নেন তারা।
চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্তদের সংগঠন ‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’-এর দাবি, প্রায় আড়াই হাজার প্রার্থী এখনো নিয়োগপত্র পাননি। তবে এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো চূড়ান্ত সংখ্যা জানানো হয়নি। অন্য একটি হিসাবে নিয়োগবঞ্চিতের সংখ্যা দুই হাজার ২০০-এর বেশি।
সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে নেতিবাচক তথ্য, ডোপ টেস্টে সমস্যা, স্বাস্থ্য সনদের ঘাটতি এবং শিক্ষা সনদে অসংগতির কারণে অনেক প্রার্থীর নিয়োগ আটকে গেছে। এর মধ্যে পুলিশ বা গোয়েন্দা সংস্থার যাচাই প্রতিবেদনের কারণেই সবচেয়ে বেশি প্রার্থী বাদ পড়েছেন বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা এ বিষয়ে প্রকাশ্যে মন্তব্য না করলেও শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, নিয়োগপত্র নিয়ে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
তার ভাষ্য, ১ অক্টোবর পর্যন্ত কেউ নিয়োগপত্র না পেলে প্রয়োজনীয় যাচাই শেষে পর্যায়ক্রমে দ্রুততম সময়ে তাদের নিয়োগপত্র দেওয়া হবে। এর আগে নিয়োগসংক্রান্ত জটিলতা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠকও করেন তিনি।
এদিকে ‘কেন্দ্রীয় প্যানেল প্রাইমারি ২০২৫’ পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে বাদ পড়া প্রত্যেক প্রার্থীর নথি নিরপেক্ষভাবে পুনঃযাচাই, তথ্যগত ভুলের ক্ষেত্রে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ও প্রশাসনিক আপিলের ব্যবস্থা, প্রশাসনিক ত্রুটিতে কেউ বাদ পড়ে থাকলে তা সংশোধন করে নিয়োগ নিশ্চিত করা এবং পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা জনসমক্ষে প্রকাশ।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সহকারী শিক্ষক নিয়োগ-২০২৫-এর লিখিত পরীক্ষা গত ৯ জানুয়ারি ৬১ জেলায় অনুষ্ঠিত হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নেন। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত চূড়ান্ত ফলে ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে নিয়োগের জন্য সুপারিশ করা হয়।
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নির্বাচিতদের ১ অক্টোবরের মধ্যে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে যোগদান এবং ৪ অক্টোবর পদায়নের আদেশ দেওয়ার কথা রয়েছে।
তবে নিয়োগপত্র না পাওয়া প্রার্থীদের প্রশ্ন, চূড়ান্ত সুপারিশের পরও কেন তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে এবং ভেরিফিকেশনে কী তথ্য পাওয়া গেছে—এসব বিষয়ে এখনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা মেলেনি।
পড়ুন : সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনের নির্দেশ
সা/


