একসময় ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন ঝিনাইদহ সদর উপজেলার চাপড়ী গ্রামের দেলোয়ার মন্ডলের ছেলে অপু মন্ডল । বাবা চালাতেন প্যাডেল চালিত ভ্যান। সংসার চালাতে হিমশিম খেতেন। সীমিত আয়ের সেই অপু মন্ডল এখন কোটি কোটি টাকার সম্পদের মালিক বনে গেছেন। সম্প্রতি ঝিনাইদহ শহরতলীর মধুপুর চৌরাস্তা এলাকায় অর্ধকোটি টাকা মূল্যের একটি জমি ক্রয় করলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
অভিযোগ রয়েছে, ইজিবাইক চালানোর আড়ালেই মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন অপু মণ্ডল। পরে ইয়াবার কারবার বিস্তৃত করে অল্প সময়ের মধ্যেই গড়ে তোলেন বিপুল অর্থ-সম্পদের পাহাড়।
স্থানীয়দের দাবি, শুরুতে ছোট পরিসরে ইয়াবা সরবরাহ করলেও ধীরে ধীরে একটি শক্তিশালী নেটওয়ার্ক গড়ে তোলেন ওই অপু। ঝিনাইদহ সদর, শৈলকুপা, কালীগঞ্জসহ বেশকিছু এলাকার খুচরা বিক্রেতা ও মাদকসেবীদের সঙ্গে যোগাযোগ তৈরি করে চালানো হয় কারবার। মোবাইল ফোন ও বিভিন্ন ব্যক্তির মাধ্যমে ইয়াবা সরবরাহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদক কারবার থেকে অর্জিত অর্থ দিয়ে একের পর এক জমি, বাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগ করেছেন তিনি। নিজের নামে ও পরিবারের সদস্য, ঘনিষ্ঠজন আত্মীয়স্বজনদের নামে সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ফলে অল্প সময়ে তার আর্থিক অবস্থার ব্যাপক পরিবর্তন স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছর আগেও তার জীবনযাত্রা ছিল খুবই সাধারণ। ইজিবাইক চালিয়ে সংসার চালাতেন। তবে পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করেই তার জীবনযাত্রায় আসে বড় ধরনের পরিবর্তন। দামি মোটরসাইকেল, বিলাসবহুল বাড়ি, জমি কেনা এবং বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগের কারণে বিষয়টি স্থানীয়দের নজরে আসে।
অভিযোগ রয়েছে, মাদক ব্যবসার টাকা বৈধ করার জন্য বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করা হয়েছে। কোথাও জমি কেনা, কোথাও বাড়ি নির্মাণ আবার কোথাও ব্যবসায় অংশীদার হওয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ ব্যয়ের তথ্য স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে। তবে এসব সম্পদের প্রকৃত উৎস এবং মালিকানা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অনুসন্ধানে জানা যায়, মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়াতে ওই ব্যক্তি সরাসরি ইয়াবা বহন না করে বিভিন্ন সহযোগীকে ব্যবহার করেন। স্থান পরিবর্তন, মোবাইল নম্বর পরিবর্তন এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের মাধ্যমে লেনদেন করার কৌশলও ব্যবহার করা হয়। এমনকি পুলিশ প্রশাসনের কতিপয় বিপথগামী সদস্যদের মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে তাদের ম্যানেজ করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে।
জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ড. আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, একজন স্বল্প আয়ের ইজিবাইক চালক কীভাবে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদের মালিক হলেন-এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে শুধু মাদক ব্যবসার অভিযোগ নয়, তার সম্পদের উৎসও খতিয়ে দেখা দরকার। একই সঙ্গে কথিত মাদক নেটওয়ার্কের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা প্রয়োজন।
ইয়াবার মতো ভয়াবহ মাদকের বিস্তার শুধু তরুণ প্রজন্মকেই বিপথগামী করছে না, এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে অর্থপাচার, সন্ত্রাস ও অপরাধের নানা শাখা। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত চিত্র বের আনতে হবে প্রশাসনকে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে অপু মন্ডল বলেন, মাঝে অল্পকিছু মাদক ব্যবসা করতাম তবে আমি এখন ভালো হয়ে গেছি।
জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক শেখ হাশেম আলী বলেন , ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মাদক ব্যবসার অভিযোগ পাওয়া গেলে তা তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও আমাদের টিম তার বিষয়ে খতিয়ে দেখছে।
পড়ুন : দিনাজপুরে জেলা ভেটেরিনারী হাসপাতালের উদ্যোগে বিশ্ব জলাতঙ্ক দিবস পালিত


