বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

রাহুলের শুরু করা ‘সহজ পাঠ’ নিয়ে যা বললেন প্রিয়াঙ্কা

রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়ের আকস্মিক মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে এসেছে টালিউডে। অভিনয়ের পাশাপাশি লেখালেখি, ইতিহাস, সাহিত্যসহ নানা বিষয়ে তার গভীর জ্ঞান ও সাবলীল উপস্থাপনা দর্শকদের আলাদা করে আকৃষ্ট করেছিল। তাই অভিনেতার মৃত্যুর পর শুধু তার অভিনীত কাজ নয়, তিনি শুরু করা বিভিন্ন উদ্যোগের ভবিষ্যৎ নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে অন্যতম রাহুলের জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘সহজ পাঠ’। নিজের ছেলে সহজের নাম থেকেই অনুষ্ঠানের নামকরণ করেছিলেন তিনি। এই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্ষেত্রের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের অতিথি হিসেবে নিয়ে নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা করতেন রাহুল। তার বিস্তৃত জ্ঞান, অসাধারণ স্মৃতিশক্তি এবং নিজস্ব উপস্থাপনার ধরন অনুষ্ঠানটিকে দর্শকের কাছে আলাদা গ্রহণযোগ্যতা এনে দিয়েছিল।

রাহুলের মৃত্যুর পর স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছিল, তার অবর্তমানে ‘সহজ পাঠ’-এর দায়িত্ব কি নেবেন স্ত্রী ও অভিনেত্রী প্রিয়াঙ্কা সরকার? অনেকের ধারণা ছিল, প্রয়াত স্বামীর শুরু করা এই উদ্যোগ হয়তো প্রিয়াঙ্কা এগিয়ে নিয়ে যাবেন। তবে সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় সেই সম্ভাবনার বিষয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন অভিনেত্রী।

উপালি মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কথোপকথনে প্রিয়াঙ্কা জানিয়েছেন, তার পক্ষে ‘সহজ পাঠ’ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। এর কারণ হিসেবে নিজের সীমাবদ্ধতার কথা তুলে ধরেছেন তিনি। একই সঙ্গে রাহুলের জ্ঞান, পড়াশোনা এবং কাজের প্রতি তার নিবেদনের কথাও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেছেন প্রিয়াঙ্কা।

প্রিয়াঙ্কার বক্তব্য অনুযায়ী, ‘সহজ পাঠ’ পরিচালনার জন্য রাহুলের যে পরিমাণ জ্ঞান ও প্রস্তুতি ছিল, তা তার নিজের নেই। শুধু নিজের ক্ষেত্রেই নয়, রাহুলের মতো ব্যাপক জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা তার পরিবার বা আশপাশের অন্য কারও মধ্যেও নেই বলে মনে করেন তিনি।

রাহুলের স্মৃতিশক্তির কথাও বিশেষভাবে উল্লেখ করেছেন প্রিয়াঙ্কা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো গল্প, বই বা বিষয় একবার দেখলেই তা দীর্ঘদিন মনে রাখতে পারতেন রাহুল। কোনো বিষয় সম্পর্কে পড়াশোনা করার পর সেটি সহজে ভুলে যেতেন না তিনি। এই দক্ষতাকে রাহুলের অন্যতম বিশেষ গুণ হিসেবে দেখেন প্রিয়াঙ্কা।

নিজের সঙ্গে তুলনা করে তিনি জানিয়েছেন, এই জায়গায় তিনি সম্পূর্ণ আলাদা। রাহুলের মতো কোনো বিষয় একবার দেখেই মনে রাখার ক্ষমতা তার নেই। ফলে স্বামীর তৈরি অনুষ্ঠানের উপস্থাপনা বা বিষয়ভিত্তিক আলোচনাকে একইভাবে এগিয়ে নেওয়া তার পক্ষে সম্ভব হবে না বলেই মনে করেন তিনি।

প্রিয়াঙ্কার বক্তব্যে রাহুলের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার পাশাপাশি তার ব্যক্তিত্বের একটি দিকও উঠে এসেছে। অভিনয়শিল্পী হিসেবে পরিচিত হলেও রাহুলের আগ্রহ ছিল নানা বিষয়ে। পড়াশোনা ও জ্ঞানচর্চার প্রতি তার নিবেদনই ‘সহজ পাঠ’-এর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হয়ে উঠেছিল। অতিথিদের সঙ্গে আলোচনার সময় বিভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তথ্য ও ইতিহাসের উল্লেখ করার দক্ষতা দর্শকদের কাছে তাকে আলাদা করে তুলেছিল।

রাহুলের মৃত্যুর পর তার শুরু করা এই অনুষ্ঠান নিয়ে দর্শকদের মধ্যেও আগ্রহ তৈরি হয়। কেউ কেউ মনে করেছিলেন, প্রিয়াঙ্কা হয়তো স্বামীর স্মৃতিকে ধরে রাখতে অনুষ্ঠানটির দায়িত্ব নেবেন। কিন্তু প্রিয়াঙ্কার সাম্প্রতিক বক্তব্যে সেই সম্ভাবনা আপাতত নেই বলেই ইঙ্গিত মিলেছে।

তবে ‘সহজ পাঠ’ আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে কি না, সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ঘোষণা সামনে আসেনি। অনুষ্ঠানটির ভবিষ্যৎ নিয়ে তাই অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। রাহুলের অনুপস্থিতিতে একই কাঠামো ও উপস্থাপনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি চালিয়ে যাওয়া হবে কি না, কিংবা অন্য কোনোভাবে এর যাত্রা অব্যাহত থাকবে কি না—তা এখনো পরিষ্কার নয়।

প্রিয়াঙ্কার বক্তব্যের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, স্বামীর শুরু করা কাজ এগিয়ে নেওয়ার সামাজিক বা দর্শকপ্রত্যাশার চেয়ে নিজের বাস্তব সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি। রাহুলের জায়গা অন্য কেউ সহজে পূরণ করতে পারবেন না—তার কথায় সেই উপলব্ধিই স্পষ্ট হয়েছে।

একজন জীবনসঙ্গী হিসেবে রাহুলকে কাছ থেকে দেখেছেন প্রিয়াঙ্কা। তাই তার জ্ঞান, স্মৃতিশক্তি ও কাজের প্রতি নিষ্ঠার যে বর্ণনা তিনি দিয়েছেন, তাতে প্রয়াত অভিনেতার বহুমুখী প্রতিভারই প্রতিফলন ঘটেছে। ‘সহজ পাঠ’ তাই শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়, রাহুলের জ্ঞানচর্চা ও চিন্তার জগতেরও একটি পরিচয় হয়ে উঠেছিল।

এখন রাহুল নেই, কিন্তু তার কাজ ও স্মৃতি রয়ে গেছে। ‘সহজ পাঠ’-এর ভবিষ্যৎ শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা সময়ই বলবে। তবে প্রিয়াঙ্কার বক্তব্যে আপাতত স্পষ্ট—স্বামীর জায়গায় দাঁড়িয়ে তার তৈরি অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করার সিদ্ধান্ত তিনি নিচ্ছেন না।

পড়ুন:ভিএমএএসে নতুন ইতিহাস, সর্বোচ্চ পুরস্কারজয়ী টেইলর সুইফট

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন