বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

২৩ বছর পর ইরাক ছাড়ছে মার্কিন বাহিনী

দীর্ঘ ২৩ বছর পর ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার শুরু হচ্ছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দেশটির বিভিন্ন মার্কিন সামরিক ঘাঁটি থেকে সেনাদের প্রত্যাহার শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মার্কিন সেনাদের বিদায়কে ইরানে ও দেশটির মিত্ররা ‘বিজয়’ হিসেবে দেখলেও ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তটি ২০২৪ সালেই চূড়ান্ত হয়েছিল। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের নেওয়া সেই সিদ্ধান্তই এখন বাস্তবায়ন করছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

গত ১২ আগস্ট ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল, ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে ইরাক থেকে মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে। সেই সময়সীমা অনুযায়ী বুধবার থেকে প্রত্যাহার প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ইরাকে ইসলামিক স্টেট (আইএস)বিরোধী আন্তর্জাতিক জোটের সামরিক অভিযানের পর্ব শেষ হতে চলেছে। ৩০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে বিদেশি সেনাদের প্রত্যাহার সম্পন্ন হবে এবং ১ অক্টোবর থেকে ইরাকে আর কোনো বিদেশি সেনা উপস্থিত থাকবে না।

ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল জাইদি ও মার্কিন সামরিক বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম)-এর কমান্ডার জেনারেল ব্র্যাড কুপারের বৈঠকের পর সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

গত জুলাইয়ের মাঝামাঝি ওয়াশিংটন সফরের সময় জেনারেল কুপারের সঙ্গে বৈঠক করেন ইরাকি প্রধানমন্ত্রী। এরপর দুই দেশ নিজেদের সার্বভৌমত্ব ও পারস্পরিক স্বার্থের প্রতি সম্মান রেখে অর্থনীতি ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে গুরুত্ব দেয়।

ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির শুরু ২০০৩ সালে। ওই বছরের ১৯ মার্চ তৎকালীন প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনের সরকার উৎখাতের লক্ষ্যে ইরাকে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী।

অভিযান শুরুর প্রায় নয় মাস পর সাদ্দাম হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া শেষে ২০০৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।

এরপর ইরাক থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়টি সামনে এলেও দেশটিতে নতুন করে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠী ইসলামিক স্টেট বা আইএসের উত্থানের পর তাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান চালাতে ইরাকে মার্কিন সেনাদের উপস্থিতি অব্যাহত থাকে।

২০২০ সালের পর থেকে ইরাকে মার্কিন সেনাদের সংখ্যা ধীরে ধীরে কমানো হচ্ছিল। সর্বশেষ বিভিন্ন মার্কিন ঘাঁটিতে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ সেনা অবস্থান করছিলেন। তাদের মধ্য থেকে শেষ দলটি বুধবার ইরাক ছাড়ছে বলে জানানো হয়েছে।

ইরাকে দীর্ঘ সময় অবস্থানকালে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীকে প্রশিক্ষণ ও সামরিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। নিরাপত্তা বাহিনীকে সক্ষম করে তুলতে অর্থ সহায়তার পাশাপাশি নিয়মিত প্রশিক্ষণও দিয়েছে মার্কিন সেনারা।

মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারে ইরাকের অনেক মানুষ সন্তুষ্ট হলেও দেশটির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগও রয়েছে। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, মার্কিন বাহিনী চলে গেলে সৃষ্ট নিরাপত্তা শূন্যতার সুযোগ নিয়ে সশস্ত্র ও জঙ্গিগোষ্ঠীগুলো আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।

ইরাকি নিরাপত্তা বাহিনীর উপদেষ্টা ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক জাসিম আল-বাহাদলি রয়টার্সকে বলেন, নিরাপত্তাক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের শূন্যতা বিপজ্জনক হতে পারে। গত দুই দশকের অভিজ্ঞতা থেকেই এ বিষয়ে সতর্ক থাকার প্রয়োজন রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

মার্কিন সেনাদের প্রত্যাহারের মধ্য দিয়ে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের ২৩ বছরের সামরিক উপস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। তবে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার বিষয়ে জোর দেওয়া হয়েছে।

পড়ুন : ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আটক ৪ শতাধিক

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন