বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মা হওয়ার পর পরিণীতির নতুন উপলব্ধি

মাতৃত্বের নতুন অধ্যায় শুরু করার পর আবারও শুটিং সেটে ফিরেছেন বলিউড অভিনেত্রী পরিণীতি চোপড়া। অভিনয় জীবনে ফিরে এসে নতুন কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে নিজের জীবনের এক গভীর ও আবেগঘন উপলব্ধির কথা জানিয়েছেন তিনি। একটি ওটিটি সিরিজে অভিনয় করতে গিয়ে যে চরিত্রের তীব্র মানসিক যন্ত্রণা তাকে ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে, মাতৃত্বের পর সেই অনুভূতিকে তিনি আরও গভীরভাবে উপলব্ধি করছেন।

বিজ্ঞাপন

নতুন এই সিরিজে একজন অসহায় মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন পরিণীতি। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র এই মা সন্তান জন্ম দেওয়ার পরপরই এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হন। জন্মের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতাল থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যায় তার সদ্যোজাত কন্যা। এরপর সন্তানকে খুঁজে ফিরে পাওয়ার আশায় বছরের পর বছর লড়াই চালিয়ে যান ওই মা। সেই দীর্ঘ অপেক্ষা, অসহায়ত্ব, হতাশা এবং সন্তানকে ফিরে পাওয়ার আকুলতাই সিরিজটির গল্পে তুলে ধরা হয়েছে।

চরিত্রটির মানসিক অবস্থাকে পর্দায় বিশ্বাসযোগ্যভাবে তুলে ধরতে গিয়ে পরিণীতিকেও তীব্র আবেগের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে। তবে অভিনেত্রীর মতে, এই সিরিজের শুটিংয়ের সময় যদি তার নিজের সন্তান পৃথিবীতে চলে আসত, তাহলে এমন চরিত্রে অভিনয় করা তার জন্য অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়ত।

পরিণীতি জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে যখন তিনি নিজের অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার খবর জানতে পারেন, তখনও সিরিজটির শুটিং জোরকদমে চলছিল। সেই সময় তিনি নিজের চরিত্রের আবেগ ও পরিস্থিতি অনুযায়ী অভিনয় করে গেছেন। তবে সন্তানের জন্মের আগেই শুটিং শেষ হয়ে যাওয়াকে এখন এক ধরনের আশীর্বাদ হিসেবেই দেখছেন তিনি।

অভিনেত্রীর উপলব্ধি, মা হওয়ার অভিজ্ঞতা তার অনুভূতির জগতে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে। সন্তান জন্মের আগে একজন মায়ের সন্তান হারানোর যন্ত্রণা নিয়ে অভিনয় করা এবং নিজের সন্তানকে পৃথিবীতে আনার পর একই দৃশ্যের কথা ভাবা—দুটি অভিজ্ঞতার মধ্যে বড় পার্থক্য রয়েছে।

পরিণীতির ভাষ্য অনুযায়ী, নিজের সন্তানের মুখ দেখার পর এমন কোনো পরিস্থিতি কল্পনা করাও তার জন্য অত্যন্ত কষ্টকর। পর্দায় যে মায়ের সন্তান নিখোঁজ হয়ে যায়, তার মানসিক যন্ত্রণা এখন নিজের মাতৃত্বের অভিজ্ঞতার কারণে আরও গভীরভাবে অনুভব করতে পারেন তিনি।

এই চরিত্রে অভিনয়ের সময় তাকে একজন মায়ের অসহায়ত্ব, সন্তান হারানোর আতঙ্ক এবং দীর্ঘদিন ধরে তাকে ফিরে পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ফুটিয়ে তুলতে হয়েছে। চরিত্রটি নিছক অভিনয়ের অংশ হলেও এর আবেগ ছিল অত্যন্ত বাস্তব ও তীব্র। আর সেই কারণেই মাতৃত্বের পর ফিরে তাকালে চরিত্রটির কিছু দৃশ্য নিয়ে নতুন করে ভাবতে হচ্ছে অভিনেত্রীকে।

পরিণীতির কাছে এই অভিজ্ঞতা শুধু একটি অভিনয় প্রকল্পের অংশ হয়ে থাকেনি। বরং এটি তার ব্যক্তিগত জীবন ও পেশাগত জীবনের আবেগকে এক জায়গায় এনে দিয়েছে। আগে কোনো চরিত্রের অনুভূতি বুঝতে তাকে মূলত চিত্রনাট্য, পরিচালকের নির্দেশনা এবং নিজের কল্পনার ওপর নির্ভর করতে হতো। কিন্তু মা হওয়ার পর কিছু অনুভূতির সঙ্গে তার বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতাও যুক্ত হয়েছে।

অভিনেত্রীর মতে, মাতৃত্ব তার অভিনয়ের দৃষ্টিভঙ্গিকেও বদলে দিয়েছে। এখন কোনো মায়ের চরিত্রে অভিনয় করার সময় শুধু চরিত্রটির সংলাপ বা পরিস্থিতি নিয়ে ভাবলেই হয় না; বরং একজন মায়ের ভয়, ভালোবাসা, নিরাপত্তাহীনতা এবং সন্তানের প্রতি গভীর টানকে তিনি অন্যভাবে উপলব্ধি করতে পারেন।

নতুন সিরিজের গল্পেও একজন মায়ের সেই গভীর আবেগকে কেন্দ্র করে এগিয়েছে কাহিনি। সন্তান হারানোর পর একজন মা কীভাবে বছরের পর বছর অপেক্ষা করেন, কীভাবে প্রতিটি সম্ভাবনার পেছনে ছুটে বেড়ান এবং নিজের সন্তানের সন্ধান পাওয়ার আশায় লড়াই চালিয়ে যান—সেই মানসিক যাত্রাই এখানে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

পরিণীতির জন্য চরিত্রটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে তার নিজের জীবনে মাতৃত্বের আগমনের কারণে। সন্তান জন্মের আগে চরিত্রটির যন্ত্রণা অভিনয়ের মাধ্যমে প্রকাশ করলেও এখন তিনি বুঝতে পারছেন, বাস্তবে একজন মা সন্তান হারানোর পরিস্থিতির মুখোমুখি হলে সেই কষ্ট কতটা গভীর হতে পারে।

এই উপলব্ধি তার অভিনয়ের ক্ষেত্রেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন অভিনেত্রী। তার কাছে অভিনয় এখন শুধু একটি স্ক্রিপ্ট অনুসরণ করে ক্যামেরার সামনে পারফর্ম করার বিষয় নয়। ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা, আবেগ ও উপলব্ধিও এখন চরিত্র নির্মাণে প্রভাব ফেলছে।

পরিণীতির এই নতুন কাজ তাই শুধু আরেকটি ওটিটি সিরিজ নয়; বরং তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ এক সময়ের সঙ্গে যুক্ত একটি অভিনয় অভিজ্ঞতা। মাতৃত্বের আগে ধারণ করা দৃশ্যগুলো এখন মাতৃত্বের পর নতুন অর্থ বহন করছে তার কাছে।

সন্তান জন্মের পর শুটিং সেটে ফিরে পরিণীতি চোপড়া আবারও অভিনয়জগতে নিজের উপস্থিতি জানান দিচ্ছেন। তবে এবার তার অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে জীবনের নতুন এক বাস্তব অভিজ্ঞতা। একজন মায়ের আবেগকে পর্দায় তুলে ধরতে গিয়ে নিজের মাতৃত্বের অনুভূতির সঙ্গে চরিত্রটির যন্ত্রণা মিলিয়ে দেখছেন তিনি। আর এ কারণেই সন্তান হারানো এক মায়ের গল্পে অভিনয়ের অভিজ্ঞতা তার কাছে হয়ে উঠেছে আরও ব্যক্তিগত, আরও আবেগঘন।

পড়ুন:নেপালের লুম্বিনী আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে ‘পানকৌড়ি’

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন