প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরে কেমন আছেন সাজেদা, দেখতে গেলেন ডিসি

বন্যা কেড়ে নিয়েছিল স্বাভাবিক জীবন। মাথা গোঁজার নিরাপদ আশ্রয় নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা। সেই দুর্দিনে নতুন ঘর পেয়েছিলেন স্বামীহারা সাজেদা বেগম। এখন সেই ঘরেই সন্তানদের নিয়ে নতুন করে জীবন গুছিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরে সাজেদা ও তাঁর সন্তানরা কেমন আছেন, তা দেখতে শুক্রবার (২ অক্টোবর) চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে তাঁর বাড়িতে যান জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা।

বাড়িতে ঢুকে ঘরদোর ঘুরে দেখেন জেলা প্রশাসক। কথা বলেন সাজেদা ও তাঁর সন্তানদের সঙ্গে। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি ঘর দেখে সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। জানতে চান পরিবারের বর্তমান অবস্থা এবং সন্তানদের পড়াশোনার খবর।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘গত ৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীতে এসে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত সাজেদা বেগমের হাতে এই ঘরের চাবি তুলে দিয়েছিলেন। তাঁর পাশাপাশি আরও ১০০টি পরিবারকে ঘর দেওয়া হয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘরে সাজেদা বেগম সন্তানদের নিয়ে কেমন আছেন, সেটিই আমরা দেখতে এসেছি।’

সাজেদার ঘর দেখে ভালো লেগেছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘ঘরটি তাঁরা খুব সুন্দর ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে রেখেছেন। আমরা তাঁদের জন্য কিছু খাদ্যসামগ্রীও নিয়ে এসেছি, যাতে পরিবারটির কিছুটা সহায়তা হয়।’

এ সময় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পরিবারটির হাতে দুটি ত্রাণের প্যাকেট তুলে দেওয়া হয়। প্রতিটি প্যাকেটে ছিল ১০ কেজি চাল, ডাল, চিড়া, মুড়ি, সয়াবিন তেল, খাবার স্যালাইন ও বিশুদ্ধ পানি।

সাজেদার পরিবারের জন্য বিশুদ্ধ পানির স্থায়ী ব্যবস্থাও করা হয়েছে। জেলা প্রশাসকের পূর্বনির্দেশনায় জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর বাড়িতে একটি গভীর নলকূপ ও একটি পানির ট্যাংক স্থাপন করেছে। পরিদর্শনের সময় এসব ব্যবস্থাও ঘুরে দেখেন জেলা প্রশাসক।

কথার একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন, সাজেদা বেগমের এক মেয়ে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছে। মেয়েটিকে অভিনন্দন জানিয়ে তিনি জানতে চান, কোথায় ভর্তি হওয়ার পরিকল্পনা করছে। পরিবারের অন্য সন্তানদের লেখাপড়ারও খোঁজ নেন।

সাজেদা বেগমকে জেলা প্রশাসক বলেন, ‘ছেলেমেয়েদের মানুষ করতে হবে, পড়ালেখা করাতে হবে।’ সন্তানদের শিক্ষা অব্যাহত রাখতে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার বিষয়েও পরিবারটিকে আশ্বস্ত করেন তিনি।

বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর সাজেদা বেগমের পরিবারকে পুনর্বাসনের অংশ হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর দেওয়া হয়েছিল। শুক্রবারের পরিদর্শনে শুধু ঘরের অবস্থা নয়, পরিবারটির খাদ্য, নিরাপদ পানি এবং সন্তানদের শিক্ষার বিষয়েও খোঁজ নেন জেলা প্রশাসক।

পরিদর্শনকালে বাঁশখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রুহুল আমিনসহ স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

পড়ুন : বাংলাদেশকে বিনিয়োগের শক্তিশালী কেন্দ্রে পরিণত করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন