শরীয়তপুরের ডামুড্যায় খেলতে গিয়ে নিখোঁজের প্রায় ছয় ঘণ্টা পর সোয়াইফ হোসেন (৪) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ শনিবার দুপুর ১টার দিকে ডামুড্যা উপজেলার পশ্চিম আদাশন এলাকার একটি ডোবা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে রাসেল শিকদার (২২) এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ।
নিহত সোয়াইফ হোসেন পশ্চিম আদাশন গ্রামের সেলিম সরদার ও শিমুলি দম্পতির সন্তান।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল ৭টার দিকে বাড়ি থেকে খেলতে বের হয় সোয়াইফ। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও সে বাড়িতে ফিরছিল না। পরে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। কোথাও সন্ধান না পেয়ে বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা শিশুটির সন্ধানে তল্লাশি চালান। একপর্যায়ে একই এলাকার আবু আলম শিকদারের বসতঘরের পেছনের ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় সোয়াইফের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ডামুড্যা থানা পুলিশ জানায়, শিশুটির গলা কাটা ছিল।
নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, প্রতিবেশী আবু আলম শিকদারের সঙ্গে সেলিম সরদারের পরিবারের তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুক্রবার সন্ধ্যায় ঝগড়া হয়। ওই ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে শিশুটিকে হত্যা করে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পরিবারের।
শিশুটির বাবা সেলিম সরদার কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, ‘গতকাল সন্ধ্যায় আমার মায়ের সঙ্গে আলী আকবরের ঝগড়া হয়। আমার মা রাতে আমাকে বিষয়টি জানায়। শনিবার সকালে আমি বাজার থেকে এসে দেখি আমার সন্তান নেই। আমি থানায় গিয়ে জিডি করলে, পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের লোকজন অনেক খোঁজাখুঁজি করে আলী আকবরের বাড়ির পেছনের ডোবা থেকে আমার ছেলের বস্তাবন্দি গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করে। আমার ছেলেকে ওরা হত্যা করেছে। আমি এই ঘটনার বিচার চাই।’
মরদেহ উদ্ধারের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে বিক্ষুব্ধ জনতা অভিযুক্ত আলী আকবর শিকদারের বাড়িতে অগ্নিসংযোগ করে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এ ঘটনায় আবু আলম শিকদারের ছেলে রাসেল শিকদারকে আটক করেছে পুলিশ।
তবে অভিযোগের বিষয়ে আবু আলম শিকদারের পরিবারের কোনো সদস্যের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার পর তারা বাড়িতে না থাকায় তাদের বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, শিধলকুড়া ইউনিয়নের আদাশন গ্রাম থেকে এক শিশুর বস্তাবন্দি গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে একজনকে আটক করা হয়েছে। এ ব্যাপারে তদন্ত চলছে। যারা এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
পড়ুন : বজ্রপাত নিরোধনে জয়পুরহাটে ২শ তালের চারা রোপন


