মেসিকে বিদায়ের আগে বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোল দিল আর্জেন্টিনা

লিওনেল মেসির জাতীয় দলের জার্সিতে শেষ ম্যাচের আগে দুর্দান্ত জয় তুলে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। মেসিকে ছাড়াই আন্তর্জাতিক উইন্ডোর দ্বিতীয় ম্যাচে বুরকিনা ফাসোকে ৭-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে তিনবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ম্যাচের প্রথমার্ধেই পাঁচ গোল করে প্রতিপক্ষকে কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে দেয় আলবিসেলেস্তেরা। দ্বিতীয়ার্ধে আরও দুই গোল করে বড় জয় নিশ্চিত করে তারা।

বিজ্ঞাপন

মেসি না থাকলেও আর্জেন্টিনার আক্রমণভাগে ছিল তীব্রতা। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ৬২তম অবস্থানে থাকা বুরকিনা ফাসো ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনার আক্রমণের সামনে চাপে পড়ে যায়। বলিভিয়ার বিপক্ষে চার গোলের জয় দিয়ে আন্তর্জাতিক উইন্ডো শুরু করার পর দ্বিতীয় ম্যাচেও বড় ব্যবধানে জয় পেল আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে গোল করে আর্জেন্টিনাকে এগিয়ে দেন লাউতারো মার্তিনেজ। পেনাল্টি বক্সের ভেতরে মুমুনি দিয়ালোর ফাউলের শিকার হন অগাস্টিন জিয়ায়। রেফারি সঙ্গে সঙ্গে পেনাল্টির নির্দেশ দেন। স্পট কিক নিতে এগিয়ে আসেন লাউতারো।

বুরকিনা ফাসোর গোলরক্ষক রাজাক গুইরা প্রথম প্রচেষ্টায় লাউতারোর শট ঠেকিয়ে দিলেও বল পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেননি। ফিরতি বলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। জাতীয় দলের হয়ে টানা দ্বিতীয় ম্যাচে গোল করলেন লাউতারো। এর আগে বলিভিয়ার বিপক্ষেও দলের প্রথম গোলটি করেছিলেন তিনি।

এই গোলের মাধ্যমে জাতীয় দলের জার্সিতে লাউতারোর গোলসংখ্যা দাঁড়ায় ৪২-এ। ফলে আর্জেন্টিনার সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় সার্জিও আগুয়েরোর সঙ্গে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছেন তিনি। তার সামনে এখন গ্যাব্রিয়েল বাতিস্তুতার ৫৪ গোল। তালিকার শীর্ষে রয়েছেন লিওনেল মেসি, যার গোলসংখ্যা ১২৫।

লাউতারোর গোলের পরপরই আত্মঘাতী গোলে ব্যবধান দ্বিগুণ করে আর্জেন্টিনা। বল ক্লিয়ার করতে গিয়ে ভুল করে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন মুমুনি দিয়ালো। ম্যাচের প্রথম আট মিনিটই তাই বুরকিনা ফাসোর এই ২২ বছর বয়সী ডিফেন্ডারের জন্য হয়ে ওঠে দুঃস্বপ্নের মতো।

এরপর আর্জেন্টিনার আক্রমণের গতি আরও বাড়ে। ম্যাচের ১২ মিনিট পূর্ণ হওয়ার আগেই জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম গোলের দেখা পান জিয়ানলুকা প্রেস্তিয়ানি। ডি-বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের রক্ষণকে কোনো সুযোগ না দিয়ে জোরালো শটে বল জালে পাঠান তিনি। বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে এই গোলের মাধ্যমে আর্জেন্টিনার হয়ে গোলের খাতা খুললেন তরুণ এই ফুটবলার।

প্রথমার্ধে আরও দুইবার বুরকিনা ফাসোর জালে বল পাঠায় আর্জেন্টিনা। কয়েক দিন আগে বলিভিয়ার বিপক্ষেও ফাঁকা জায়গা খুঁজে নিয়ে গোল করা নিকো পাস এবারও একই কৌশলে গোল করেন। তার গোলে আর্জেন্টিনার লিড আরও বাড়ে।

এরপর দলের পঞ্চম গোলটি করেন জুলিয়ান আলভারেজ। জাতীয় দলের হয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আবারও গোলের দেখা পান তিনি। ২০২৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে তার করা দুর্দান্ত গোলের পর এটিও জাতীয় দলের জার্সিতে উল্লেখযোগ্য আরেকটি গোল হয়ে থাকল।

প্রথমার্ধেই ৫-০ গোলে এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা। বিরতির পরও আক্রমণাত্মক ফুটবল চালিয়ে যায় তারা। দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে মাঠে নামা ফ্রাঙ্কো মাস্তানতুওনো নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দেন। ওয়ান-অন-ওয়ান পরিস্থিতিতে ঠান্ডা মাথায় সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাতীয় দলের হয়ে নিজের প্রথম গোল করেন তিনি।

ম্যাচের শেষদিকে আরও একবার বুরকিনা ফাসোর রক্ষণভাগে আঘাত হানে আর্জেন্টিনা। ইনজুরি টাইমের তৃতীয় মিনিটে জিউলিয়ানো সিমিওনে দলের সপ্তম গোলটি করেন। তার গোলেই ৭-০ ব্যবধানের বড় জয় নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার।

এই জয়ের ফলে মেসিকে ছাড়াই আন্তর্জাতিক উইন্ডোতে দারুণ ছন্দ ধরে রাখল আর্জেন্টিনা। দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নিয়ে দলটি দেখিয়ে দিয়েছে, অধিনায়ক ও সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা মেসি না থাকলেও তাদের স্কোয়াডে প্রতিভার ঘাটতি নেই।

তবে আর্জেন্টিনার সমর্থকদের মূল অপেক্ষা এখন ৬ অক্টোবরের জন্য। সেদিন মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। ওই ম্যাচেই শেষবারের মতো জাতীয় দলের জার্সি পরার কথা লিওনেল মেসির। প্রিয় তারকার বিদায়ী ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখতে ইতোমধ্যে প্রস্তুতি নিচ্ছেন আর্জেন্টিনার লাখো সমর্থক।

মেসিকে বিদায় জানানোর আগে বুরকিনা ফাসোর বিপক্ষে ৭-০ গোলের এই জয় আর্জেন্টিনাকে যেমন আত্মবিশ্বাস দেবে, তেমনি শেষ ম্যাচের আবহও আরও আবেগঘন করে তুলবে। এখন সমর্থকদের অপেক্ষা শুধু সেই মহেন্দ্রক্ষণের—মনুমেন্টালে মেসির শেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ।

পড়ুন:ঐতিহাসিক ম্যাচে ভারতের জালে এক হালি ব্রাজিলের

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন