সিরাজগঞ্জের কামারখন্দে নিয়মবহির্ভূতভাবে ইউরিয়া সার মজুতের ঘটনায় উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর-২ মো. মনিরুল ইসলামের রুকনিয়াত (পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ) বাতিল করেছে। এর ফলে তিনি আর উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি মো. শহীদুল ইসলাম এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, মনিরুল ইসলামের রুকনিয়াত বাতিল করা হয়েছে। রুকনিয়াত বাতিল হওয়ার ফলে তিনি উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর পদে দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
তবে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কামারখন্দ উপজেলার ভদ্রঘাট ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে মনিরুল ইসলামকে দলীয় প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছিল। সদস্যপদ বাতিলের পর তিনি প্রার্থী থাকবেন কি না এ বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা জামায়াতের ওই নেতা বলেন, রোববার সকালে এ বিষয়ে বৈঠক চলছে। জেলা আমির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন। সব বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর সাংগঠনিক কাঠামো অনুযায়ী, রুকন বা পূর্ণাঙ্গ সদস্যপদ সংগঠনের সর্বোচ্চ স্তরের সদস্যপদ। নির্ধারিত সাংগঠনিক ও নৈতিক শর্ত পূরণের পর একজন কর্মী এ সদস্যপদ লাভ করেন।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে ভদ্রঘাট ইউনিয়নের ছোট ধোপাকান্দি গ্রামে মনিরুল ইসলামের সার গুদামে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে অনুমোদনবিহীনভাবে সার মজুতের অভিযোগে তাকে ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই সঙ্গে গুদামে মজুত থাকা ১৮ বস্তা ইউরিয়া সার জব্দ করে সরকারের অনুকূলে নেওয়া হয়।
মনিরুল ইসলাম ছোট ধোপাকান্দি গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি কামারখন্দ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর-২ হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।
কামারখন্দ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আব্দুল্লা আল মামুনের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. ফরিদ হোসাইন, কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাশমত আলীসহ পুলিশের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
পড়ুন:শিশুর জন্য আনন্দময় হয়নি ‘আনন্দ স্কুল’, উঠে এসেছে আর্থিক অনিয়ম
ইমি/


