শ্রীপুরে তালাবদ্ধ টিনের ঘরে আগুন, কলেজছাত্রের রহস্যজনক মৃত্যু

গাজীপুরের শ্রীপুরে বিরোধপূর্ণ জমিতে থাকা একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে আগুন লেগে দেলোয়ার হোসেন (১৮) নামে এক কলেজছাত্রের রহস্য জনক মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ী ইউনিয়নের সাটিয়াবাড়ী এলাকায় রাজেন্দ্রপুর-কাপাসিয়া আঞ্চলিক সড়কের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত দেলোয়ার হোসেন জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার কামালপুর গ্রামের বুধু মিয়ার ছেলে।সাটিয়াবাড়ি খাসপাড়া এলাকায় ভাড়া থেকে তাঁর বাবা অটোরিকশাচালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন এবং মা একটি পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাটিয়াবাড়ী এলাকায় বিরোধপূর্ণ একটি জমিতে দীর্ঘদিন ধরে একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে হুরমত আলী নামে এক লোক বসবাস করতেন। হুরমত আলী শনিবার বিকেলে ঘরে তালা দিয়ে বাজারে গিয়েছিলেন। সন্ধ্যার পর দেলোয়ার বাড়ি থেকে বের হন। এর আগে তিনি একটি সাইকেল কোম্পানিতে চাকরির জন্য সাক্ষাৎকার দিয়ে এসেছিলেন। রাতে স্থানীয়রা ওই ঘরের ভেতর আগুনের ফুলকি দেখতে পান। পরে ঘরের তালা ভেঙে দেলোয়ারকে অগ্নিদগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।

খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজনের পাশাপাশি শ্রীপুর ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

গুরুতর দগ্ধ দেলোয়ারকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে রোববার দুপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

নিহতের বাবা বুধু মিয়া জানান, দেলোয়ার সাটিয়াবাড়ী নূর মডেল স্কুল থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন। চাকরির আশায় সম্প্রতি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করছিলেন তিনি। আমার ছেলে ও-ই ঘরে কেন গিয়েছিল এটা আমি জানি না।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম বলেন, নিহতের মরদেহের ময়নাতদন্তের প্রক্রিয়া চলছে। কীভাবে ওই ঘরে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে এবং দেলোয়ারের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকৃত ঘটনা জানতে পুলিশ তথ্য সংগ্রহ করছে।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : ফটিকছড়ির মাইজভাণ্ডার দরবার শরীফে প্রশাসনিক সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন