বারহাট্টায় সড়ক দখলমুক্ত করতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান

রাস্তাঘাট মানুষের নিরাপদ চলাচলের জন্য, কোনোভাবেই তা ব্যক্তিগত মালামাল বা নির্মাণসামগ্রী রাখার জায়গা নয়- এমনই স্পষ্ট বার্তা দিতে নেত্রকোনার বারহাট্টায় মাঠে নেমেছে উপজেলা প্রশাসন। সড়কের ওপর ইট, বালু ও সুরকি রেখে জনসাধারণের চলাচলে বিঘ্ন ঘটানোর দায়ে গোবিন্দপুর বাজারে অভিযান চালিয়ে পাঁচজনকে জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার (৪ অক্টোবর) পরিচালিত এই উদ্যোগে স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে।

দীর্ঘদিন ধরেই উপজেলার গোবিন্দপুর বাজারের বিভিন্ন রাস্তায় যত্রতত্র নির্মাণসামগ্রী ফেলে রাখার কারণে যান চলাচলে যেমন বিঘ্ন ঘটছিল, তেমনি পথচারীদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির অবসানে রবিবার আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করেন বারহাট্টা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাজেদুল ইসলাম।

অভিযানকালে রাস্তার ওপর ইট-সুরকি ফেলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টির সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়ায় ‘মহাসড়ক আইন, ২০২১’-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় পাঁচ ব্যক্তিকে পাঁচটি মামলায় সাত হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।

শুধু জরিমানা আদায় নয়, বাজার এলাকার সার্বিক শৃঙ্খলা ফেরাতে এদিন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও ইতিবাচক নির্দেশনাও দেয় প্রশাসন। পথচারীদের হাঁটার পথ নির্বিঘ্ন করতে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা বিভিন্ন অবৈধ দোকানপাট দ্রুত সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। এর পাশাপাশি বাজারের নিত্যদিনের যানজট নিরসনে চাল ও ধানের গুদাম মালিকদের জন্য বেঁধে দেওয়া হয় মালামাল ওঠানো-নামানোর (লোড-আনলোড) নির্দিষ্ট সময়সীমা। ব্যবসায়ীদের কঠোরভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এখন থেকে ব্যস্ত দিনে নয়, বরং রাত ৮টা থেকে পরদিন সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ের মধ্যেই কেবল গুদামের মালামাল লোড-আনলোড করা যাবে।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতেও এদিন নজরদারি চালানো হয়। এর অংশ হিসেবে গোবিন্দপুর বাজারের এলপিজি ডিস্ট্রিবিউটর ‘মেসার্স বিশাল এন্টারপ্রাইজ’-এর গোডাউনে তদারকি করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। তবে সে সময় নতুন কোনো চালান বা মজুত না থাকায় গোডাউনে কেবল খালি গ্যাস সিলিন্ডার পাওয়া যায়।

জনস্বার্থে পরিচালিত অভিযান প্রসঙ্গে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজেদুল ইসলাম বলেন, “সড়কের ওপর ইট, বালু, পাথরসহ বিভিন্ন মালামাল ফেলে রাখার কারণে প্রতিনিয়তই যানবাহন ও পথচারীদের চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে যায়। আমরা চাই মানুষ যেন রাস্তায় নিরাপদে চলাচল করতে পারে।”

জনসাধারণের নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতে প্রশাসনের এ ধরনের জনকল্যাণমূলক অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।

বিজ্ঞাপন

পড়ুন : সিরাজগঞ্জে নিখোঁজের দুইদিন পর অটোরিকশা চালকের মরদেহ উদ্ধার

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

00:03:46
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন