আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচ খেলতে নামার আগে আবেগঘন বার্তা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। জাতীয় দলের হয়ে শেষ অনুশীলন সেশন সম্পন্ন করার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকটি ছবি শেয়ার করেছেন বিশ্বকাপজয়ী এই তারকা। ছবির সঙ্গে দেওয়া বার্তায় মেসি লিখেছেন, ‘বিশেষ কিছু মুহূর্ত যা আমি জানি যে আমি মিস করব।’ তার এই বার্তায় ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে তৈরি হয়েছে গভীর আবেগ ও নস্টালজিয়া।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের সঙ্গে মেসির দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য যাত্রার শেষ অধ্যায় শুরু হতে যাচ্ছে। বুধবার মনুমেন্টাল স্টেডিয়ামে বেনিনের বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে মাঠে নামবে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় ভোর ৫টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটিকে ঘিরে এরই মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ। কারণ, এই ম্যাচের মধ্য দিয়েই আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচ হওয়ার কথা রয়েছে।
বিদায়ী ম্যাচের ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে আর্জেন্টিনার অনুশীলন সেশনের কিছু ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন মেসি। সেগুলোর বেশ কয়েকটিতে সতীর্থদের সঙ্গে হাসিমুখে দেখা যায় তাকে। দীর্ঘদিনের সতীর্থদের সঙ্গে অনুশীলনের স্বাভাবিক মুহূর্তগুলোও যেন বিদায়ের আবেগে অন্যরকম হয়ে উঠেছে।
তবে মেসির প্রকাশ করা ছবিগুলোর মধ্যে একটি ছবি বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। সেখানে আর্জেন্টিনা দলের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি কোচিং স্টাফ, মাঠের কর্মী, এএফএর কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সভাপতি ক্লাউদিও তাপিয়াকেও দেখা গেছে। জাতীয় দলের সঙ্গে মেসির দীর্ঘ পথচলায় যারা বিভিন্নভাবে পাশে ছিলেন, তাদের সবাইকে এক ফ্রেমে বন্দী করা এই ছবিটি যেন তার বিদায়ের মুহূর্তকে আরও আবেগঘন করে তুলেছে।
অনুশীলন শেষে নিজের নামে নামকরণ করা এজাইজা অনুশীলন কমপ্লেক্সেই রাতের খাবার সারেন মেসি ও তার সতীর্থরা। এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিগুলো প্রকাশ করেন তিনি। তার সংক্ষিপ্ত বার্তা থেকেই বোঝা যায়, জাতীয় দলের সঙ্গে কাটানো অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত কতটা গভীরভাবে মনে গেঁথে আছে আর্জেন্টাইন অধিনায়কের।
বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচটি শুধু মেসির জন্যই নয়, আর্জেন্টিনার আরও কয়েকজন অভিজ্ঞ খেলোয়াড়ের জন্যও বিশেষ। জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দেওয়া নিকোলাস ওতামেন্দি রয়েছেন দলে। পাশাপাশি রয়েছেন রদ্রিগো দে পল ও জিওভানি লো সেলসো। ফলে একসঙ্গে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়ের সম্ভাব্য বিদায় ম্যাচ হতে যাচ্ছে এটি।
মেসি, ওতামেন্দি, দে পল কিংবা লো সেলসো—এই তারকারা বেনিনের বিপক্ষে শুরুর একাদশে থাকবেন কি না, সেটি নিয়ে কৌতূহল রয়েছে সমর্থকদের মধ্যে। ম্যাচে তাদের কতক্ষণ খেলানো হবে, সেটিও থাকবে আলোচনায়। তবে কোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি না ঘটলে মেসি পুরো ৯০ মিনিট মাঠে থাকার সম্ভাবনাই বেশি বলে মনে করা হচ্ছে।
আর্জেন্টিনার হয়ে মেসির পথচলা শুধুই সাফল্যের গল্প নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দীর্ঘ অপেক্ষা, হতাশা, সমালোচনা এবং শেষ পর্যন্ত একের পর এক ঐতিহাসিক অর্জন। কোপা আমেরিকা ও বিশ্বকাপ জয়ের মাধ্যমে সেই অপেক্ষার অবসান ঘটিয়েছেন তিনি। জাতীয় দলের হয়ে তার পারফরম্যান্স ও নেতৃত্ব আর্জেন্টাইন ফুটবলের ইতিহাসে আলাদা জায়গা করে নিয়েছে।
এখন সেই অধ্যায়ের শেষ পাতায় দাঁড়িয়ে মেসি। মনুমেন্টালে বেনিনের বিপক্ষে ম্যাচে যখন তিনি শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সি পরে মাঠে নামবেন, তখন স্টেডিয়ামজুড়ে আবেগের ঢেউ ওঠার সম্ভাবনাই বেশি। তার প্রতিটি স্পর্শ, প্রতিটি দৌড় এবং প্রতিটি মুহূর্তই হয়তো দর্শকেরা স্মৃতিতে ধরে রাখতে চাইবেন।
মেসির নিজের কথাতেও সেই বিদায়ের অনুভূতি স্পষ্ট। ‘বিশেষ কিছু মুহূর্ত যা আমি জানি যে আমি মিস করব’—এই ছোট্ট বাক্যেই যেন লুকিয়ে আছে আর্জেন্টিনার জার্সিতে তার পুরো ক্যারিয়ারের আবেগ। বুধবারের ম্যাচ তাই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়; এটি হতে যাচ্ছে একটি যুগের আনুষ্ঠানিক বিদায়ের মঞ্চ।
পড়ুন:শেষবারের মতো জাতীয় দলের অনুশীলনে মেসি
ইমি/


