রূপগঞ্জ ও দাউদপুরে আগাম নির্বাচনী আমেজ! উঁকি দিচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা

আগামী ১২ নভেম্বর থেকে স্থানীয় সরকারের ইউনিয়ন ও পৌরসভা বিষয়ে ৬৩ জেলার ৮০ টি ইউনিয়ন, পৌরসভায় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার ঘোষণার কিছুদিন পর স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানালেন এ বছর তথা ২০২৬ সালে কোন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে না। কিন্তু আগাম প্রচারণা চালাচ্ছেন রূপগঞ্জ ও দাউদপুর ইউনিয়নের সম্ভাব্য প্রার্থীরা৷ তবে দলীয় প্রতীক ও সমর্থন বাদ দিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আওয়ামীলীগের পদধারী কিংবা সমর্থক প্রার্থীরাও নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন নির্ভরযোগ্য সূত্র।

বিজ্ঞাপন

সূত্রমতে, গত ৩ বছর ধরেই মেয়াদ পূর্ণ হয়ে হয়েছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়ন ও দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদের৷ এছাড়াও কাঞ্চন পৌরসভা, তারাবো পৌরসভা, গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন, ভুলতা, মুড়াপাড়া, কায়েতপাড়া, ভোলাবোতে গুঞ্জন রয়েছে এ দুটো ইউনিয়নের পরে যে কোন ধাপে হবে নির্বাচন। তাই সেখানকার সম্ভ্যাব্য প্রার্থীরাও প্রস্তুতি নিচ্ছেন নানাভাবে। এদিকে ভুলতা ও গোলাকান্দাইল ইউনিয়ন ভেঙে দিয়ে একটি পৌরসভায় রূপান্তর প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সেখানে পূর্ব থেকেই মেয়র নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকেই।

এদিকে রূপগঞ্জ ও দাউদপুর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে সরব রয়েছেন বেশ কয়েকজন সম্ভ্যাব্য প্রার্থী। এদের মাঝে রূপগঞ্জ ইউনিয়নে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির সদস্য ও উপজেলা বিএনপির সহ সহসভাপতি নূরনবী ভুঁইয়া। তিনিও পরবর্তী নির্বাচন হলে প্রার্থী হবেন বলে জানিয়েছেন। তার দাবী, ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক থাকাকালীন কিংবা পরে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হলে সরকারী বরাদ্দ বা কাজ থেকে এক পয়সাও কমিশন নেবেন না। সবটা জনগণের মাঝে দিবেন। যদিও ইউনিয়ন পরিষদের বরাদ্দের প্রায় অর্ধেকই একটি পক্ষ কমিশন নামে আত্মসাৎ করে বলে রয়েছে অভিযোগ।

নির্বাচনের সম্ভ্যাব্য তারিখ কাছাকাছি চলে আসায় এই ইউনিয়নে বেশ কয়েকজন হেভিওয়েট প্রার্থী চষে বেড়াচ্ছেন ভোটের মাঠে৷ তাদের মাঝে অন্যতম নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি আবু মোহাম্মদ মাসুম। বিগত আওয়ামীলীগ সরকারের আঘাতে বিএনপির রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে ৪১ টি সাজানো মামলার আসামী হওয়া, জেল জুলুমে,বাড়ি ঘরে হামলার শিকার হয়েও বিএনপির সাথে থাকায় দলীয় সমর্থন ও এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু’র সমর্থন আদায়ে কাজ করছেন৷ পাশাপাশি ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছেন দোয়া ও সমর্থন চেষ্টায়। সামাজিক ও মানবিক কাজে যুক্ত থেকে রূপগঞ্জ ইউনিয়নবাসির পাশে দাড়ানোর প্রচেষ্টা রয়েছে বেশ। আবু মোহাম্মদ মাসুম দাবী করেন, রূপগঞ্জ ইউনিয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়ন। এখানে ভূমিদস্যুতা বেশি। মাদক, সন্ত্রাসী বেশি। আর জলাবদ্ধতা, জননিরাপত্তা বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ। এসব সমস্যা দূর ও নারায়ণগঞ্জ ১ আসনের এমপি মুস্তাফিজুর রহমান ভুঁইয়া দিপু’র স্বপ্নের রূপগঞ্জ বাস্তবায়নের অংশিদার হিসেবে রূপগঞ্জ ইউনিয়নকে আধুনিক ও মডেল হিসেবে গড়ে তুলবো।

এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের প্রার্থীরাও গোঁপনে গোছাচ্ছেন নির্বাচনী মাঠ। তাদের মাঝে অন্যতম নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য আনছর আলী ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন ভুঁইয়া। তাদের পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আগামী নির্বাচনে গনতান্ত্রিক অধিকার থেকে তারা নির্বাচন করবেন, প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে বিজয়ী হওয়ারও আশা করছেন। সূত্রমতে, আনছর আলী গোঁপনে ইউনিয়নের এতিমখানা,মাদরাসা,মসজিদ, আওয়ামী নেতাকর্মীদের পরিবারকে সহায়তা, নিন্ম আয়ের লোকজনদের নানাভাবে দান অনুদান অব্যাহত রেখেছেন বলে দাবী করেন একটি সূত্র। সূত্রটি জানায়,আনছর আলীর গোঁপন সমর্থক রয়েছে। যারা তথা ভোটাররা সময়মতো তাকেই ভোট দিবেন।

একইভাবে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন ভুঁইয়া ও তার পরিবারের লোকজন ইউনিয়নের আনাচে কানাচে থাকা তাদের ভাষ্যমতে ভোট ব্যাংক ধরে রাখতে গোঁপনে যোগাযোগ রেখে চলেছেন।

এছাড়াও দাউদপুর ইউনিয়নে সাবেক নারায়ণগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সহ সভাপতি সুলতান মাহমুদ, ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এ্যাডভোকেট হেলাল উদ্দিন সরকার, সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া, উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি বেলায়েত হোসেন আকন্দ ভোটের মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন৷ এদের মধ্যে সুলতান মাহমুদ ৭৭ মামলায় জর্জরিত নির্যাতিত নেতা হিসেবে বিএনপির ঘরোনার ভোটারদের মাঝে গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছেন। পাশাপাশি ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম ভুঁইয়া বিগত বিএনপির সাথে রাজনৈতিক অবদান ও জনগণের মাঝে থাকার রেকর্ড রয়েছে। তাই তারা পৃথকভাবে নির্বাচনী এলাকায় উঠান বৈঠক, গণসংযোগের মাধ্যমে ভোটারদের মন জয় করতে কাজ করছেন। উভয়ই চেষ্টা করছেন এমপির মদদপুষ্টতা ও আস্থা অর্জনের। এছাড়াও এ ইউনিয়নে আওয়ামীলীগের হয়ে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যুবলীগ নেতা আজিজুল মালুম নিজেকে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়ে গোঁপনে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেয়ার গুঞ্জন শুনা যাচ্ছে।

দুটো ইউনিয়নের আনাচে কানাচে এখন নির্বাচনী গুঞ্জন। সরকার দলীয় প্রার্থীরা উঠান বৈঠক, গণসংযোগে ব্যস্ত সময় পার করছেন তারা৷ দুটো ইউনিয়নে এখন পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ কিংবা জাতীয় নাগরিক পার্টি ( এনসিপি) সমর্থিত প্রার্থীদের কোন প্রচারণায় পাওয়া যায় নি। যদিও রূপগঞ্জ ইউনিয়ন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমির আবু বকর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থীতার কথা প্রকাশ করেছেন। পাশাপাশি দাউদপুর ইউনিয়নে এনসিপির উপজেলা সদস্য সচীব সাখাওয়াত হোসেন তারেকের চেয়ারম্যান প্রার্থীতায় যোগ দেয়ার কথা শুনা যাচ্ছে।

সচেতন ভোটারদের দাবী, এ দুটো ইউনিয়নে নির্বাচন কবে হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। একটি পক্ষ প্রশাসক ও বিনা নির্বাচনে ইউপি সদস্য হতে নানাভাবে তদবির করে আসছে। অন্য পক্ষে গণতন্ত্র রক্ষায় নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে জনপ্রতিনিধি হিসেবে দেখতে চান।

পড়ুন : আবরার হত্যার ৭ বছর: খুনিদের ফাঁসির রায় কার্যকর হবে কবে?

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন