মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার দত্তপাড়া ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী কাওসার মাহমুদ ওলি মিয়ার নির্মাণাধীন বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটেছে। বাড়িটি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকা মূল্যের বৈদ্যুতিক তার ও কয়েক বালতি রং চুরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সন্ধ্যায় বিষয়টি নিশ্চিত করেন পরিবারের সদস্য হারুন সরদার। তিনি জানান, সোমবার রাতে উপজেলার চরবাচামারা তালুকদারকান্দি এলাকায় কাওসার মাহমুদ ওলির নির্মাণাধীন বাড়িতে চুরির ঘটনা ঘটে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বাড়িটির নির্মাণকাজ ও বৈদ্যুতিক কাজ বন্ধ রয়েছে। এই সুযোগে চোরেরা ভবনের বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা বৈদ্যুতিক তার ধীরে ধীরে খুলে নিয়ে গেছে বলে ধারণা পরিবারের। পরে বিভিন্ন স্থানে তার না থাকায় বিষয়টি তাদের নজরে আসে।চুরি যাওয়া বৈদ্যুতিক তারের কিছু অংশ ভবনের দেয়ালের ভেতরে এবং বিভিন্ন স্থানে স্থাপন করা ছিল। ফলে নতুন করে বিদ্যুৎ সংযোগ দিতে গেলে কোথাও কোথাও দেয়ালের প্লাস্টার ভেঙে কাজ করতে হতে পারে। এতে চুরি যাওয়া তারের মূল্যের পাশাপাশি পুনরায় সংযোগ ও মেরামতের জন্য অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে।বৈদ্যুতিক তারের পাশাপাশি নির্মাণকাজে ব্যবহারের জন্য বাড়িতে রাখা কয়েক বালতি রংও চুরি হয়েছে বলে জানিয়েছে পরিবার। এতে নির্মাণাধীন বাড়িটির নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন তারা।
কাওসার মাহমুদ ওলি বর্তমানে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন। তার অবর্তমানে বাড়িটি দেখাশোনা করেন হারুন সরদার।
পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান প্রার্থীকে রাজনৈতিকভাবে চাপে রাখা বা নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে দূরে সরিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে এ ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি পরিবার।
পরিবারের সদস্য সাইদুর রহমান বলেন, “নির্মাণাধীন বাড়ি থেকে প্রায় দুই লাখ টাকার বৈদ্যুতিক তার ও কয়েক বালতি রং চুরি হয়েছে। দীর্ঘদিন কাজ বন্ধ থাকার সুযোগে ধীরে ধীরে তারগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। আমরা মনে করি, চেয়ারম্যান প্রার্থী কাওসার মাহমুদ ওলিকে থামানোর উদ্দেশ্যেই এ ঘটনা ঘটানো হয়েছে।”
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা সৃষ্টি হয়। নির্মাণাধীন বাড়িটির নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পরিবার।
এ বিষয়ে শিবচর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, “চুরির ঘটনাটি আমরা শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এখনো পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ দেওয়া হয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পড়ুন : টাঙ্গাইলে বৃদ্ধাকে হত্যার দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড


