চাঁদপুরে জেলেদের জন্য সরকারি বরাদ্দের প্রায় ৫ টন চাল অন্য জেলায় নেওয়ার পথে চালভর্তি ট্রাক জব্দ করেছে প্রশাসন। রোববার (১১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ এলাকা থেকে ট্রাকটি জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠায় বিষয়টি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন।
জেলেদের জীবন-জীবিকা নির্বাহে সহায়তা এবং মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞার সময় তাঁদের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বিশেষ সহায়তা কর্মসূচির আওতায় চাল বরাদ্দ দিয়ে থাকে। এমন প্রেক্ষাপটে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল অন্য জেলায় নেওয়ার অভিযোগ সামনে আসায় ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে চাল পরিবহনের প্রকৃত উদ্দেশ্য, এর সঙ্গে কারা জড়িত এবং বরাদ্দের চাল কীভাবে অন্যত্র নেওয়া হচ্ছিল, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
সদর উপজেলা ভূমি কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট প্রত্যয় হাশেম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, চাল পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার বিকেল ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ এলাকা থেকে চালভর্তি ট্রাকটি জব্দ করা হয়।
লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের চাল নেওয়া হচ্ছিল লাকসামে
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, জব্দ করা চাল চাঁদপুর সদর উপজেলার ১০ নম্বর লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। চালগুলো লাকসামে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বলে প্রাথমিক তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কী কারণে চালগুলো নির্ধারিত গন্তব্যের বাইরে নেওয়া হচ্ছিল, পরিবহনের অনুমোদন ছিল কি না এবং চালের পরিমাণ ও বরাদ্দসংক্রান্ত নথিপত্রের মধ্যে কোনো অসংগতি রয়েছে কি না, তা এখনো বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।
সরকারি সহায়তার চাল প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। এ ধরনের বরাদ্দের চাল পরিবহন ও বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠলে তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রশাসনিক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ, তদন্ত কমিটি গঠন
এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের প্রশাসনিক কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ ওঠায় জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি অভিযোগের সত্যতা, চাল পরিবহনের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা খতিয়ে দেখবে বলে জানা গেছে।
তদন্তে চালের উৎস, বরাদ্দের কাগজপত্র, পরিবহনের অনুমোদন, ট্রাকটির গন্তব্য এবং চাল পরিবহনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ হবে। একই সঙ্গে জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা চাল নির্ধারিত উপকারভোগীদের কাছে পৌঁছানোর কথা ছিল কি না এবং বরাদ্দের চাল অন্যত্র নেওয়ার পেছনে কোনো অনিয়ম ছিল কি না, তাও তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হতে পারে।
তবে তদন্তের ফল প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করার সুযোগ নেই। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করতে হবে।
উপকারভোগীদের স্বার্থ রক্ষায় নজরদারির দাবি
জেলেদের জন্য বরাদ্দ করা সরকারি সহায়তা তাঁদের প্রাপ্য অধিকার। তাই বরাদ্দের চালের সুষ্ঠু বণ্টন, পরিবহনে স্বচ্ছতা এবং প্রকৃত উপকারভোগীদের কাছে সহায়তা পৌঁছানো নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সচেতন মহল। তাঁদের মতে, সরকারি সহায়তা কর্মসূচির প্রতিটি ধাপে জবাবদিহি ও যথাযথ নজরদারি থাকলে অনিয়মের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
চাঁদপুর শহরের বিপণীবাগ এলাকা থেকে প্রায় ৫ টন চালসহ ট্রাক জব্দের ঘটনাটি এখন তদন্তাধীন। জেলা প্রশাসনের গঠিত তিন সদস্যের কমিটির তদন্তে চাল পরিবহনের প্রকৃত ঘটনা, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা এবং কোনো অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে কি না, তা উঠে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন ও পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করছে এ ঘটনায় দায় নির্ধারণ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি।
পড়ুন : মঠবাড়িয়ায় ট্রলি ব্যাগে ৪ কেজি গাঁজা, গ্রেপ্তার ১


