ক্রীড়াসামগ্রী প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যাডিডাসের ‘মেসি +১০’ প্রচারণার তৃতীয় মৌসুমে জায়গা পেয়েছেন বিভিন্ন দেশের উদীয়মান ফুটবলাররা। তালিকায় পুরুষ ফুটবলারদের পাশাপাশি রয়েছেন নারী ফুটবলের তিন সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়ও। তরুণদের প্রতিভা, সৃজনশীলতা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
ফুটবলবিষয়ক সংবাদমাধ্যম গোল ডটকমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, মেক্সিকো, ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও ব্রাজিলের তরুণ ফুটবলাররা মেসির নির্বাচিত এই তালিকায় জায়গা পেয়েছেন। বিভিন্ন দেশের ক্লাবে খেলা এসব প্রতিভাকে ঘিরে ইতিমধ্যে ফুটবলপ্রেমীদের আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে ইউরোপের ক্লাব ফুটবলে নিজেদের সামর্থ্যের প্রমাণ দেওয়া কয়েকজন তরুণ ভবিষ্যতে বড় তারকা হয়ে ওঠার সম্ভাবনা দেখাচ্ছেন।
মেসির নির্বাচিত ১০ ফুটবলারের মধ্যে রয়েছেন আর্জেন্টিনার ক্লাব বোকা জুনিয়র্সের তরুণ প্লেমেকার তোমাস আরান্দা। কারিগরি দক্ষতা, বল নিয়ন্ত্রণ এবং সৃজনশীল খেলার জন্য আলোচনায় থাকা এই ফুটবলারের প্রতিভা নজর কেড়েছে আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের কোচ লিওনেল স্কালোনিরও। বিশ্বকাপের আগে প্রীতি ম্যাচের সফরের দলেও তাঁকে রেখেছিলেন আর্জেন্টাইন কোচ।
তবে বর্তমানে চোটের কারণে মাঠের বাইরে রয়েছেন আরান্দা। ডান পায়ের ফিবুলার হাড় ভেঙে যাওয়ায় তাঁকে পুনর্বাসন প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হচ্ছে। এমন সময়ে মেসির নির্বাচিত তালিকায় জায়গা পাওয়া তাঁর জন্য বিশেষ স্বীকৃতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরে নিজের সামর্থ্য আরও ভালোভাবে প্রমাণ করাই এখন তাঁর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।
তালিকায় জায়গা পেয়েছেন জার্মান ক্লাব আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্টের তুর্কি ফুটবলার জান উজুন। তরুণ এই খেলোয়াড়ের পাশাপাশি রয়েছেন মেক্সিকোর ক্লাব তিহুয়ানার গিলবার্তো মোরা এবং ইংলিশ ক্লাব আর্সেনালের ম্যাক্স ডাউম্যান।
গিলবার্তো মোরাকে ঘিরে ইউরোপের বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহের খবরও বিভিন্ন প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার নামও আলোচনায় এসেছে। অন্যদিকে আর্সেনালের তরুণ প্রতিভা ম্যাক্স ডাউম্যানও নিজের সম্ভাবনার কারণে নজর কেড়েছেন। মেসির এই তালিকায় তাঁদের অন্তর্ভুক্তি ভবিষ্যৎ ফুটবলে তরুণদের গুরুত্বকে আরও সামনে নিয়ে এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জেভিয়ার গোজো, স্পেনের হেসুস রদ্রিগেজ এবং নেদারল্যান্ডসের কেস স্মিটও রয়েছেন এই তালিকায়। গোজো খেলছেন ক্রিস্টাল প্যালেসে, রদ্রিগেজের ক্লাব ইতালির কোমো ১৯০৭ এবং স্মিট খেলছেন নেদারল্যান্ডসের এজেড আলকমারে। ভিন্ন ভিন্ন ফুটবল সংস্কৃতি ও প্রতিযোগিতায় বেড়ে ওঠা এই খেলোয়াড়দের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাও প্রচারণাটির অন্যতম আকর্ষণ।
‘মেসি +১০’ প্রচারণার উল্লেখযোগ্য দিক হলো নারী ফুটবলের উদীয়মান খেলোয়াড়দের অন্তর্ভুক্তি। তালিকায় রয়েছেন ইংল্যান্ডের চেলসির ক্লোয়ি সারউই, ব্রাজিলের ওএল লিওঁর জিওভান্না ওয়াকসম্যান এবং জার্মানির হামবুর্গার এসভির লোটা ভ্রেডে।
পুরুষদের পাশাপাশি নারী ফুটবলারদেরও সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়ার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের প্রতিভা তুলে ধরার চেষ্টা করেছে এই উদ্যোগ। বিশ্বজুড়ে নারী ফুটবলের জনপ্রিয়তা ও প্রতিযোগিতামূলক মান বাড়ার সময়ে এমন স্বীকৃতি তরুণ খেলোয়াড়দের সামনে এগিয়ে যাওয়ার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে।
মেসির নির্বাচিত ১০ তরুণ ফুটবলার
১. তোমাস আরান্দা — আর্জেন্টিনা, বোকা জুনিয়র্স
২. জান উজুন — তুরস্ক, আইনট্রাখট ফ্রাঙ্কফুর্ট
৩. গিলবার্তো মোরা — মেক্সিকো, তিহুয়ানা
৪. ম্যাক্স ডাউম্যান — ইংল্যান্ড, আর্সেনাল
৫. জেভিয়ার গোজো — যুক্তরাষ্ট্র, ক্রিস্টাল প্যালেস
৬. হেসুস রদ্রিগেজ — স্পেন, কোমো ১৯০৭
৭. কেস স্মিট — নেদারল্যান্ডস, এজেড আলকমার
৮. ক্লোয়ি সারউই — ইংল্যান্ড, চেলসি
৯. জিওভান্না ওয়াকসম্যান — ব্রাজিল, ওএল লিওঁ
১০. লোটা ভ্রেডে — জার্মানি, হামবুর্গার এসভি
বিশ্ব ফুটবলে দীর্ঘদিন ধরে নিজের অসাধারণ দক্ষতা ও সাফল্যের ছাপ রেখেছেন মেসি। তাঁর নাম যুক্ত থাকা এই প্রচারণায় জায়গা পাওয়া তরুণদের জন্য তাই বিশেষ অনুপ্রেরণার বিষয়। তবে তালিকায় অন্তর্ভুক্তিই ভবিষ্যৎ সাফল্যের নিশ্চয়তা নয়; নিজেদের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স, পরিশ্রম ও উন্নতির মাধ্যমেই তাঁদের সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে হবে। আগামী দিনে এই ১০ তরুণ ফুটবলার বিশ্ব ফুটবলে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
পড়ুন:ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের সময়সূচি জানা যাবে আজ
ইমি/


