ভারতের বিহারের হাজিপুরে গঙ্গানদীতে নৌকা উল্টে শিশুসহ অন্তত ১১ জনের করুণ মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাতে হাজিপুরের রাঘোপুর থানা এলাকার রামপুর শ্যামচন্দ গ্রামের কাছে এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করা হয়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পার্শ্ববর্তী একটি গ্রামের বাড়িতে আমন্ত্রণে যোগ দিতে প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন যাত্রী নিয়ে নৌকাটি রওনা হয়েছিল। গঙ্গার বুক দিয়ে যাওয়ার সময় আচমকাই সেটি উল্টে যায়। দুর্ঘটনাটি নজরে আসতেই স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধারকাজে নামেন। খবর পেয়ে রাঘোপুর থানার পুলিশ এবং পরবর্তীতে উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে গঙ্গায় ডুবুরি নামিয়ে তল্লাশি শুরু করে। উদ্ধার তৎপরতার এক পর্যায়ে নদী থেকে একের পর এক মৃতদেহ উদ্ধার করা হতে থাকে, যা প্রাথমিকভাবে ৮ জন বলা হলেও পরে মৃতের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
ঘটনার হালনাগাদ পরিস্থিতি জানিয়ে বৈশালীর জেলাশাসক বর্ষা সিং বলেন, “নৌকাডুবিতে এখন পর্যন্ত শিশুসহ ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে। জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে ৫ জনকে। বাকিদের খোঁজে তল্লাশি চলছে। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। তাদের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য এখনো সামনে আসেনি। নৌকাটিতে ঠিক কত জন যাত্রী ছিলেন, তাদের মধ্যে কত জনকে নিরাপদে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে এবং এখনো কতজন নিখোঁজ তা-ও স্পষ্ট নয়।”
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে পুলিশ জানায়, আমন্ত্রণে যাওয়ার পথেই মাঝগঙ্গায় দুর্ঘটনাবশত নৌকাটি ডুবে যায়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৫ জনকে জীবন্ত উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়েছে এবং বাকি নিখোঁজদের উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ইতোমধ্যে ঘটনার বিস্তারিত তদন্তে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ। ঠিক কীভাবে বা কী কারণে মাঝনদীতে নৌকাটি উল্টে গেল—তা উদঘাটনে প্রত্যক্ষদর্শীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিহত ও আহতদের পরিচয় শনাক্তকরণের চেষ্টা চলছে। পূর্ণাঙ্গ তদন্ত শেষ হলেই দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ।
পড়ুন : সৌদিতে হুতিদের পাল্টা ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: আরামকোর ভবনে আগুন, রিয়াদে আহত ৪
সা/


