বলিউড অভিনেতা নানা পাটেকারের মৃত্যু ঘিরে রহস্যের দাবি তুলেছেন অভিনেত্রী তনুশ্রী দত্ত। বর্ষীয়ান এই অভিনেতার শেষকৃত্য দ্রুত সম্পন্ন করা, মরদেহের ছবি বা ভিডিও প্রকাশ না পাওয়া এবং পরিবারের সদস্যরা তাঁকে শেষবারের মতো দেখতে পেরেছিলেন কি না—এসব প্রশ্ন তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন তিনি। এমনকি নানা পাটেকার আদৌ মারা গেছেন কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তনুশ্রী।
গত সোমবার রাতে ইনস্টাগ্রাম লাইভে এসে এসব প্রশ্ন তোলেন অভিনেত্রী। তবে তাঁর বক্তব্যের সমর্থনে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে নানা পাটেকারের মৃত্যু নিয়ে তনুশ্রীর দাবিগুলোকে অযাচাইকৃত বক্তব্য হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
তনুশ্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, বলিউডের একজন বর্ষীয়ান ও পরিচিত অভিনেতার শেষকৃত্য এত দ্রুত এবং মধ্যরাতে সম্পন্ন করা হলো কেন, তা তাঁর কাছে স্পষ্ট নয়। মরদেহটি সত্যিই নানা পাটেকারের ছিল কি না, সে বিষয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। পাশাপাশি শেষকৃত্যের আগে মরদেহ দেখার সুযোগ এবং এ-সংক্রান্ত ছবি বা ভিডিও প্রকাশ না হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন অভিনেত্রী।
তনুশ্রী দাবি করেন, নানা পাটেকারের মতো একজন কিংবদন্তি অভিনেতার প্রয়াণের পর বলিউডের সহকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কোনো স্মরণসভার আয়োজন করা হয়নি। তাঁর মতে, এমন একজন পরিচিত ব্যক্তিত্বের শেষ বিদায়ে আরও স্বচ্ছতা থাকা প্রয়োজন ছিল।
ইনস্টাগ্রাম লাইভে তিনি শেষকৃত্যের সময় নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে সাধারণত দিনের আলোয় শেষকৃত্য সম্পন্ন করার প্রচলনের কথা উল্লেখ করে রাতের বেলায় তড়িঘড়ি করে দাহকার্য সম্পন্ন করার বিষয়টি নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।
এ ছাড়া মরদেহের মুখ ঢাকা থাকার বিষয়টি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তনুশ্রী। তবে শেষকৃত্য আয়োজনের পরিস্থিতি, পরিবারের সিদ্ধান্ত কিংবা মরদেহ শনাক্তকরণ সম্পর্কে তাঁর উত্থাপিত সন্দেহের পক্ষে কোনো স্বাধীন প্রমাণ সামনে আসেনি।
তনুশ্রীর বক্তব্যের সবচেয়ে আলোচিত অংশ হলো নানা পাটেকার আদৌ মারা গেছেন কি না, সেই প্রশ্ন। অভিনেত্রী আশঙ্কা প্রকাশ করেন, নানা পাটেকার হয়তো জীবিত আছেন এবং আইনি জটিলতা এড়াতে ভুয়া মৃত্যুসনদ তৈরি করে সিঙ্গাপুর বা মালয়েশিয়ায় আত্মগোপন করে থাকতে পারেন।
এমনকি অভিনেতা নিজের চেহারা পরিবর্তন করে থাকলে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করতে ডিএনএ পরীক্ষা করানোর কথাও বলেন তনুশ্রী। তবে এসব বক্তব্যের পক্ষে কোনো যাচাইযোগ্য তথ্য বা প্রমাণ তিনি প্রকাশ্যে উপস্থাপন করেছেন বলে জানা যায়নি।
ফলে অভিনেত্রীর এই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা তৈরি হলেও নানা পাটেকারের মৃত্যু সম্পর্কে নতুন কোনো প্রমাণ প্রতিষ্ঠিত হয়নি। মৃত্যুসংক্রান্ত তথ্য যাচাইয়ের ক্ষেত্রে চিকিৎসা ও সরকারি নথি, পরিবারের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনই গুরুত্বপূর্ণ।
নানা পাটেকার ও তনুশ্রী দত্তের বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। ২০০৮ সালে ‘হর্ন ওকে প্লিজ’ সিনেমার একটি গানের শুটিং চলাকালে নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছিলেন তনুশ্রী। এক দশক পর, ২০১৮ সালে বিষয়টি নতুন করে সামনে এলে ভারতে #মিটু আন্দোলনেও তা গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয় হয়ে ওঠে।
পরবর্তী সময়ে তনুশ্রী নানা পাটেকার, কোরিওগ্রাফার গণেশ আচার্য, প্রযোজক সামি সিদ্দিকী ও পরিচালক রাকেশ সারঙ্গের নারকো অ্যানালিসিস এবং লাই-ডিটেক্টর পরীক্ষা করার আবেদন জানিয়েছিলেন।
তবে ২০১৯ সালের জুনে মুম্বাই পুলিশ নানা পাটেকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তদন্ত শেষে তাঁকে অব্যাহতি দেয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নানা পাটেকারের মৃত্যু নিয়ে তনুশ্রীর মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৌতূহল তৈরি করলেও তাঁর বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করা জরুরি। শেষকৃত্যের সময় বা ছবি প্রকাশ না পাওয়ার মতো বিষয় একা কোনো মৃত্যুর ঘটনা নিয়ে ষড়যন্ত্রের প্রমাণ হতে পারে না।
এ বিষয়ে নানা পাটেকারের পরিবার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এবং নির্ভরযোগ্য নথি সামনে না আসা পর্যন্ত তনুশ্রীর দাবিগুলোকে নিশ্চিত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। তাঁর মন্তব্য ঘিরে বিতর্ক তৈরি হলেও নানা পাটেকারের মৃত্যু নিয়ে সন্দেহের পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।
পড়ুন:সৌদিতে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল কোম্পানিতে হুতিদের হামলা
ইমি/


