ভুয়া ফেসবুক আইডি ও ভুয়া মামলায় হয়রানির অভিযোগ

নিজেকে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত নন দাবি করে ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করা এবং ভুয়া রাজনৈতিক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ করেছেন দিনাজপুরের রামনগরের বাসিন্দা মোঃ আসাদুজ্জামান মুন্না (৪৯)।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) দিনাজপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।

লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, তিনি গ্রামীণ ফোন কোম্পানীর সাবেক কর্মকর্তা। চাকরিকালীন অবস্থায় স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংক থেকে বেতনের বিপরীতে একটি ঋণ গ্রহণ করেন। গ্রামীণ ফোন থেকে চাকরি চলে যাওয়ার পর আর্থিক সংকটের কারণে সেই ঋণ সময়মতো পরিশোধ করতে পারেননি। এ নিয়ে ব্যাংক ২০২০ সালে তার বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করে। ওই মামলায় তিনি বর্তমানে হাইকোর্ট থেকে জামিনে রয়েছেন।

তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে দিনাজপুর-৩ (সদর) আসনে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ইকবালুর রহিমের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশ্বজিৎ ঘোষ কাঞ্চনের ট্রাক মার্কার পক্ষে একটি নির্বাচনী মিছিলে তিনি অংশগ্রহণ করেন। তার দাবি, এই কারণে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কিছু নেতাকর্মী তার ছবি সংগ্রহ করে রাখে। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের ৫ই আগস্টের পর সেই নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে তার নামে ভুয়া আইডি খুলে সেই ছবিগুলো শেয়ার করে। তার নিজের কোনো ফেসবুক আইডিও নেই বলে তিনি দাবি করেন।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাকে আওয়ামী লীগের কর্মী হিসেবে জাহির করে সামাজিকভাবে হয়রানি করছে। এ বিষয়ে তিনি ২০২৫ সালের ১৮ মার্চ কোতয়ালী থানায় একটি জিডি করেন (জিডি নং ১২০৯/২৫)। পরবর্তীতে একই বছরের ২৫ নভেম্বর তার নামে খোলা ভুয়া ফেসবুক আইডির বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ করেন।

তিনি আরও জানান, তার নামে ব্যাংক ঋণের মামলায় তিনি ২০২৫ সালের ১৩ জুলাই গ্রেফতার হন। এসময় আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ট্রাক মার্কার প্রচারণার ছবি দেখিয়ে দিনাজপুর কোতয়ালী থানা ও বিরল থানায় পৃথক ২টি ভুয়া রাজনৈতিক মামলা দেয়। মামলা নং-২৬/২০২৫ (সদর) ও ১৪২/২০২৫ (বিরল)। বর্তমানে তিনি রাজনৈতিক ২টি মামলা ও ব্যাংক ঋণের ১টি মামলাসহ মোট ৩টি মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিনে আছেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি সম্প্রতি কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের দিনাজপুর পৌর শাখার কমিটি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন। কমিটিতে সভাপতি ইরফান খান পাপ্পু ওরফে কালা পাপ্পুকে করা হয়েছে বলে তিনি জানান। তার অভিযোগ, ব্যাংকের ঋণের মামলায় যখন তিনি কারাগারে ছিলেন, তখন পাপ্পু তার জাতীয় পরিচয় পত্র ব্যবহার করে তার জামিন করানোর কারণ দেখিয়ে টেলিগ্রাম গ্রুপে তাদের বিভিন্ন নেতার কাছ থেকে বিকাশে টাকা গ্রহণ করে। বিষয়টি জানার পর তিনি প্রতিবাদ করেন।

এরপর থেকে সে তারিন চৌধুরী নামে একটি ফেসবুক আইডি দিয়ে তার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এমনকি সে তার উপরে আক্রোশান্বিত হয়ে বঙ্গবন্ধু স্মার্ট বাংলাদেশ নামে একটি সংগঠনের সদস্য হিসেবে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করেছে। এ ব্যাপারে তিনি কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন।

তার অভিযোগ, তার অজ্ঞাতে পাপ্পু তাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য এমন কাজ করেছে। তিনি অতীতে ও বর্তমানে কোনো রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত না বলেও দাবি করেন। পাপ্পু তাকে সামাজিকভাবে হয়রানি করার জন্য প্রশাসনের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগ দিচ্ছে বলেও তিনি জানান।

তিনি বলেন, “আমি আজ চরম অসহায় হয়ে পড়েছি। ৩টি মামলার কারণে আমি আজ নিঃস্ব হয়ে যাচ্ছি। কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত না হয়েও ২টি ভুয়া রাজনৈতিক মামলায় আমাকে ফাঁসানো হয়েছে। আমাকে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা হয়রানি করছে। আমি আপনাদের মাধ্যমে সমাজের কাছে প্রকাশ করতে চাই আমি কোন কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক সংগঠনের সাথে জড়িত নাই।

পড়ুন : টঙ্গীতে ঔষধ কারখানায় ভয়াবহ আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ১৯ ইউনিট

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন