শতভাগ টিকাদান নিশ্চিতের তাগিদ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর; নিয়োগ পাচ্ছে ১ লাখ হেলথ কর্মী

দেশের গ্রাম ও শহর অঞ্চলের বৈষম্য দূর করে প্রতিটি শিশুকে টিকাদান কর্মসূচির আওতায় আনার তাগিদ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। কোনো শিশুই যেন টিকা থেকে বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যকর্মীদের শুধু কেন্দ্রে সীমাবদ্ধ না থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে টিকার উপযোগী শিশু চিহ্নিত করার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

বুধবার (১৪ অক্টোবর) ঢাকার প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে ‘বাংলাদেশে ইপিআই ও ভিপিডি সার্ভেইল্যান্সের যৌথ স্বাধীন পর্যালোচনা ২০২৬-এর ফলাফল অবহিতকরণ’ সংক্রান্ত কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় টিকার গুণগত মান ও ‘কোল্ড চেইন’ ব্যবস্থা যথাযথভাবে বজায় রাখার ওপর জোর দেন মন্ত্রী।

একই অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী ড. এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার জানান, প্রান্তিক ও শহরের প্রতিটি ওয়ার্ডে পৃথক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট গড়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও জানান, জনগণের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে নতুন করে ১ লাখ ‘কমিউনিটি হেলথ অ্যান্ড ওয়েলবিং কর্মী’ নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করেছে সরকার।

কৈশোরকালীন স্বাস্থ্য ও প্রজনন সুরক্ষায় আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে জাতীয় ক্যাম্পেইন

দেশের তরুণদের সুস্থ ও সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কৈশোরকালীন প্রজনন ও মানসিক স্বাস্থ্য, পুষ্টি এবং ডিজিটাল সুরক্ষায় সর্বোচ্চ নীতিগত অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়েছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। তিনি জানান, আগামী ১ ডিসেম্বর থেকে প্রজনন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা নিয়ে সারাদেশে একযোগে বড় পরিসরে জাতীয় ক্যাম্পেইন শুরু হতে যাচ্ছে।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর মিলনায়তনে ‘বাংলাদেশ ১১তম জাতীয় যুব সম্মেলন অন হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার’ অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই ঘোষণা দেন। সেরাক-বাংলাদেশ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে এই সম্মেলন আয়োজিত হয়।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সামাজিক লজ্জা ও ট্যাবুর কারণে কিশোর-কিশোরীরা সঠিক তথ্যের জন্য কোথায় যাবে তা বুঝতে পারে না। সমাজে সন্তানদের প্রশ্ন করতে বাধা দেওয়ার মানসিকতা থেকে পরিবারকে বেরিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। পাশাপাশি বাল্যবিয়ে ও পারিবারিক সহিংসতাপ্রবণ এলাকাগুলোকে ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করে লক্ষ্যভিত্তিক বিশেষ কর্মসূচি বাস্তবায়নের ওপর জোর দেন ড. মুহিত। তরুণরা তথ্যের জন্য এআই ব্যবহারের ক্ষেত্রে একাধিক উৎস থেকে তা যাচাই করার পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে মনোসামাজিক কাউন্সেলিং নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার আশ্বস্তও করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগের সচিব বেঞ্জামিন রিয়াজীসহ অন্যান্য প্রতিনিধি ও পাবলিক হেলথ বিশেষজ্ঞরা উপস্থিত ছিলেন।

পড়ুন : সব বিভাগে ডিজিটাল ফরেনসিক ল্যাব স্থাপনের ঘোষণা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

সা/

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন