মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশ শিকারের অভিযোগে ২১ জেলেকে আটক করেছে নৌপুলিশ। এ সময় তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ১০ মণ ইলিশ ও ১২ হাজার মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে পদ্মা-মেঘনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের আটক করা হয়। পরে আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অন্যদের বিরুদ্ধে ছয়টি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।
নৌপুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান সফল করতে গত ৮ অক্টোবর থেকে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে নদীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালানো হয়। এ সময় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইলিশ শিকারে জড়িত থাকার অভিযোগে ২১ জেলেকে আটক করা হয়। অভিযানে বিপুল পরিমাণ ইলিশ ও কারেন্ট জাল উদ্ধার করা হয়।
সদর নৌ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আজমগীর হোসাইন জানান, মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান বাস্তবায়নে নৌপুলিশ নিয়মিতভাবে নদীতে অভিযান পরিচালনা করছে। এর অংশ হিসেবে বুধবার রাতে পদ্মা-মেঘনার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২১ জেলেকে আটক করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে প্রায় ১০ মণ ইলিশ ও ১২ হাজার মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে পাঁচজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় মুচলেকা নিয়ে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ছয়টি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।
বাংলাদেশের মৎস্যসম্পদ ও নদীকেন্দ্রিক অর্থনীতিতে ইলিশের গুরুত্ব অপরিসীম। ইলিশের উৎপাদন ও প্রজনন নিশ্চিত করতে মা ইলিশ সংরক্ষণের নির্ধারিত সময়ে মাছ ধরা বন্ধ রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় প্রজননক্ষম ইলিশ নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলে ভবিষ্যতে ইলিশের বংশবিস্তার ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইলিশ আহরণক্ষেত্র। এ অঞ্চলের বিপুলসংখ্যক জেলে পরিবারের জীবিকা ইলিশ আহরণের ওপর নির্ভরশীল। ফলে প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা করা শুধু মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণের বিষয় নয়, বরং দীর্ঘ মেয়াদে জেলেদের জীবিকা ও জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থেও গুরুত্বপূর্ণ।
নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার ফলে প্রজননক্ষম ইলিশের বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। একই সঙ্গে নদীতে নিষিদ্ধ কারেন্ট জালের ব্যবহার মাছের পোনা ও অন্যান্য জলজ প্রাণীর জন্যও ক্ষতিকর হতে পারে। তাই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখতে নিয়মিত নজরদারি, আইন প্রয়োগ এবং জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।
জেলেদের সচেতনতা ও বিকল্প সহায়তা জরুরি…
নদীতে অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি জেলেদের সরকারি নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কে সচেতন করা এবং নিষিদ্ধ সময়ে তাঁদের জন্য বিকল্প জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। অনেক জেলে দৈনিক মাছ আহরণের আয়ের ওপর নির্ভর করে পরিবার চালান। নিষেধাজ্ঞার সময় তাঁদের জন্য সরকারি সহায়তা যথাযথভাবে পৌঁছে দেওয়া গেলে আইন অমান্য করে নদীতে নামার প্রবণতা কমাতে সহায়ক হতে পারে।
একই সঙ্গে নিষিদ্ধ সময়ে নদীতে মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাজারে নজরদারি জোরদার করা প্রয়োজন। এতে মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ইলিশের উৎপাদন ধরে রাখা সম্ভব হবে।
চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনায় নৌপুলিশের এ অভিযান মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমে আইন প্রয়োগের ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ। সংশ্লিষ্টদের মতে, সরকারি নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, জেলে সম্প্রদায় ও স্থানীয় জনগণের সম্মিলিত সহযোগিতা নিশ্চিত করা গেলে ইলিশের প্রজনন ও উৎপাদন সুরক্ষায় আরও কার্যকর ফল পাওয়া সম্ভব।
পড়ুন:দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের নিরাপদ জীবন নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব: ডিসি ফরিদা
ইমি/


