হরিরামপুরে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদকের ওপর হামলার অভিযোগ

মানিকগঞ্জের হরিরামপুরে পুজা মণ্ডপে বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য জেনারেটরের ক্যাবল টানানোকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে কান্ঠাপাড়া বাজার সার্বজনীন দুর্গা মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ কুমার রায়ের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১৭ অক্টোবর) দুপুরের দিকে উপজেলার কান্ঠাপাড়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। হামলায় আহত কৃষ্ণকে উদ্ধার করে হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।

আহত কৃষ্ণ কুমার রায় বয়ড়া ইউনিয়নের আন্ধারমানিক গ্রামের বীরেন কুমারের ছেলে। কান্ঠাপাড়া বাজারে তাঁর একটি গ্রিল ওয়ার্কশপ রয়েছে।

স্থানীয় কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, বাজারের একটি কাঠের দোকানের সামনে থাকা কাঁঠালগাছে মণ্ডপের জেনারেটরের কভারযুক্ত বিদ্যুতের ক্যাবল পেঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। এ নিয়ে আপত্তি জানান কাঠের দোকানদার কবির। বিষয়টি নিয়ে মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক কৃষ্ণ কুমার রায়ের সঙ্গে তাঁর বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে কৃষ্ণ কবিরকে ঘুষি মারেন বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ জানিয়েছেন।

পরে বাজারের ব্যবসায়ীরা বসে বিকেলে সামাজিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানান। এরপর কৃষ্ণ নিজের গ্রিল ওয়ার্কশপে চলে যান। কিছুক্ষণ পর তাঁর দোকানে গিয়ে কয়েকজন হামলা চালান বলে অভিযোগ উঠেছে।

স্থানীয় গ্রিলের দোকানদার এলেম কাজী জানান, বলড়া ইউনিয়নের বহলাতলী এলাকার কয়েকজন লোহার রড ও কাঠ দিয়ে কৃষ্ণকে মারধর করেন। পরে তিনি স্থানীয় কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে আহত কৃষ্ণকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠান।

হরিরামপুর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী স্বপন কুমার রায় বলেন, ক্যাবল টানানো নিয়ে কৃষ্ণের সঙ্গে কবিরের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়েছিল বলে তিনি শুনেছেন। পরে কৃষ্ণকে তাঁর দোকানে গিয়ে মারধর করা হয়। তবে হামলায় কারা জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। আগের বিরোধের সঙ্গে হামলার যোগসূত্র থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি।

কান্ঠাপাড়া বাজার কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আলতাফ হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক মিরাজ মেম্বার জানান, বিষয়টি প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

হরিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অনিমেষ জানান, রক্তাক্ত অবস্থায় কৃষ্ণ নামের এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে আনা হলে তাঁর মাথায় কয়েকটি সেলাই দেওয়া হয়।

হরিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জেওএম তৌফিক আজম বলেন, খবর পাওয়ার পর এসআই জয়নাল আবেদিনসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এসআই জয়নাল আবেদিন জানান, তিনি ঘটনাস্থলে রয়েছেন এবং ঘটনার তদন্ত চলছে।

পড়ুন:পলাতক হাসিনা ডিসেম্বরে দেশে ফিরবেন এটা হাস্যকর কথা: বিমান মন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত

ইমি/ ‎

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

বিশেষ প্রতিবেদন